অতীত সম্পর্কের উষ্ণতায় জনপথে আজ মমতা-সনিয়া https://ift.tt/3y5sn4G - MAS News bengali

অতীত সম্পর্কের উষ্ণতায় জনপথে আজ মমতা-সনিয়া https://ift.tt/3y5sn4G

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি একজন মাত্র দুই দশকের একটি দলের সভানেত্রী, অন্যজন দেশের শতাব্দীপ্রাচীন ও সবচেয়ে বেশি সময় দিল্লির ক্ষমতায় থাকা দলটির শীর্ষে। প্রথমজন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রিত্বের গদিতে বসেছেন। অপর জনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ সামলে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে জনভিত্তি হারাতে বসা দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। কিন্তু ক্ষমতার দুই মেরুতে থাকা দুই নারীর সম্পর্ক উষ্ণতা হারায়নি কখনও। আজ, বুধবার দিল্লিতে ১০ জনপথে প্রায় দু'বছর পর প্রবেশ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খোদ সনিয়া গান্ধীর আমন্ত্রণে। নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহ জুটির ব্লিৎজক্রিগ রুখে দিয়ে ইতিমধ্যেই সারা দেশে মোদীবিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ হয়ে ওঠার পথে মমতা। তাঁর চলতি দিল্লি সফরে মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন কংগ্রেসের মধ্যে আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যাওয়া দুই শিবিরের দুই নেতা কমলনাথ ও আনন্দ শর্মা। আজ বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ নিজের বাড়িতে মমতাকে চায়ের নিমন্ত্রণে ডেকেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। একেবারে শেষ মুহূর্তে পূর্ব নির্ধারিত সূচিতে বড় রকমের কোনও পরিবর্তন না ঘটলে বুধবার যে তিনি 'সনিয়াজি'-র সঙ্গে 'চায়ে পে চর্চা' করবেন, তা জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী নিজেই৷ কংগ্রেস সূত্রের খবর, চায়ের আসরে থাকতে পারেন রাহুল গান্ধীও। গত সপ্তাহে ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মমতা আগামী লোকসভা নির্বাচনে পরিবর্তনের যে ডাক দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে সনিয়া-মমতার এই বৈঠকের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। মঙ্গলবার দুপুরেই দিল্লিতে দুই হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতা কমলনাথ ও আনন্দ শর্মা দেখা করেন মমতার সঙ্গে৷ দু'জনেই জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের দলনেত্রীর সঙ্গে মমতার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন৷ কমলনাথ সনিয়া ঘনিষ্ঠ হলেও, আনন্দ শর্মা দলের অন্দরে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেতা। দুই শিবিরের দুই নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্যে দিয়ে এ দিন মমতা ভারসাম্যের বার্তা দিয়েছেন বলেই তৃণমূল শিবিরের দাবি৷ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কমলনাথ, আনন্দ শর্মা ও অভিষেক মনু সিংভিকে সময় দিলেও, আরও বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতার সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তৃণমূলনেত্রী, এমনটাই দাবি তৃণমূল সূত্রে৷ বাস্তব বলছে, এই মুহূর্তে মমতার সখ্য ছাড়া কংগ্রেসের পক্ষে নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করা কঠিন। গোটা দেশে জনভিত্তি হারিয়ে ফেলা দলের নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব সামলে সাংগঠনিক ভাঙন ঠেকানোটাই সনিয়ার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ৷ এই পরিস্থিতিতে কিছুটা বাধ্য হয়েই মমতার প্রতি পুরোনো বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনিয়া। আনন্দ শর্মা, কপিল সিবাল, মণীশ তিওয়ারি, মুকুল ওয়াসনিক, পি চিদম্বরম, দিগ্বিজয় সিংয়ের মতো বিক্ষুব্ধ জি-২৩ গোষ্ঠীর কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মমতার পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং জাতীয় রাজনীতিতে মমতার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা- দুটোই কংগ্রেস সভানেত্রীকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে৷ তৃণমূল সূত্রের খবর, এই কারণেই সব 'বিতর্ক' মুছে দিল্লিতে পা রাখা মাত্র দফায় দফায় মেসেজ পাঠিয়ে মমতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন সনিয়া। রাজধানীর রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরিতে বড় ভূমিকা গ্রহণ করছেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর৷ দিন কয়েক আগে দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। সেখানেই তৃণমূল ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য গাঁটছড়ার সুফল ব্যাখ্যা করেন পিকে। জাতীয় স্তরে মমতার নেতৃত্বকে খোলা মনে মেনে নিতে রাহুল গান্ধীর কিছু সমস্যা থাকলেও, বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁর দ্বিতীয়বার ভাবা উচিত, পিকের এই যুক্তি ফেলতে পারেননি রাহুল, এমনই দাবি কংগ্রেস সূত্রের৷ এই প্রসঙ্গেই অনুমান করা হচ্ছে, আজ সনিয়ার সঙ্গে মমতার চায়ের আসরে উপস্থিত থাকতে পারেন রাহুল নিজেও৷ তবে মঙ্গলবার মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা দুই কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের ফারাকেই স্পষ্ট হয়েছে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। ২০০০ সালে কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তৃণমূলের জন্মের এক বছরের মধ্যে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও তৃণমূল জোটে সিলমোহর দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল সনিয়ার ঘনিষ্ঠ কমলনাথের। বর্তমানে আহমেদ প্যাটেলের অবর্তমানে তিনি ফের সেই সেতুবন্ধনের কাজটাই করতে চলেছেন বলে কংগ্রেস সূত্রের দাবি৷ এ দিন কমলনাথ বলেন, '২০২৪-র আগে জোট গড়া যাবে কি না, তা নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলব৷ দেখিয়ে দিয়েছেন, মানুষ পাশে থাকলে যে কোনও শক্তিকে রুখে দেওয়া সম্ভব৷' অন্যদিকে, আনন্দ শর্মা সাফ জানিয়ে দেন, 'পেগ্যাসাস ইস্যুতে আমরা তৃণমূলের আন্দোলনকে সমর্থন করছি এবং তৃণমূলের পাশেই থাকছি৷' সরকারি ভাবে দলের তরফে এর আগে এমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি৷ দলের অভ্যন্তরে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হলেও রাজ্যসভায় কংগ্রেসের উপনেতা আনন্দের এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে চাপে ফেলবে সনিয়া-রাহুলকে। এই পরিস্থিতিতে মমতার প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার সুবাদে এবং গান্ধী পরিবারের প্রতি বিশ্বাস হারানো কংগ্রেস নেতাদের একটা বড় অংশ যদি লোকসভা ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে শিবির পাল্টে ফেলেন, তা হলে শেষ পর্যন্ত অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে কংগ্রেসের। দুঃসময়ে সেটা বুঝতে পেরেই সম্ভবত মমতার প্রতি পুরোনো বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি সনিয়া৷


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3l4L8Bu
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads