টিকাকরণে পিছিয়ে মহিলারা https://ift.tt/3yYJWUV - MAS News bengali

টিকাকরণে পিছিয়ে মহিলারা https://ift.tt/3yYJWUV

এই সময়: নিয়ে একদিকে কেন্দ্রের ঢক্কানিনাদ আর অন্য দিকে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েনের মধ্যেই বড়সড় দুশ্চিন্তার কারণ উঠে এল। ২ জুন পর্যন্ত পাওয়া হিসেবে দেখে যাচ্ছে, দেশে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা কম টিকা পেয়েছেন। যা দেখে চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, যে মহিলারা টিকা পাননি, তাঁরা কিন্তু সংক্রমণের এই সময়ে রীতিমতো ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে। এখনই এ বিষয়ে সতর্ক না-হলে সামগ্রিক ভাবে টিকাকরণের প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাতেও এই বৈষম্যের হার কিন্তু দুশ্চিন্তাজনকই। এ বছরের ১৬ জানুয়ারি দেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছিল। ২ জুন পর্যন্ত ২,২১,৮৫,৪৬,৬৬৭ ডোজ টিকা দেশে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ, সব হিসেবই ধরা রয়েছে। কিন্তু এই হিসেব কাটাছেঁড়া করলে দেখা যাচ্ছে অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন, এমন পুরুষের সংখ্যা মহিলাদের থেকে ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, দেশের মহিলাদের একটি ভালো অংশই এখনও টিকা পাননি। এই মুহূর্তে টিকাকরণে পুরুষ-নারীর গড় অনুপাত মোটামুটি ১০০০:৮৬৭। অর্থাৎ, প্রতি ১০০০ জন পুরুষে ৮৬৭ জন মহিলা টিকা পেয়েছেন। দেশের সার্বিক লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে এমনিতেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই অভিযোগ তোলেন, যে পুরুষ-নারী অনুপাত দেখানো হয়, তার থেকে দেশের লিঙ্গবৈষম্যের চিত্র আরও খারাপ। সেই সরকারি হিসেব অনুযায়ীই, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী দেশের পুরুষ-নারী অনুপাত হলো ১০০০:৯৪০। অর্থাৎ, টিকাকরণের ক্ষেত্রে বৈষম্যের খতিয়ান এই হারকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে। ২ জুনের হিসেব অনুযায়ী ৯,১৩,৮১,৭৪৯ জন পুরুষ এবং ৭,৯২,৩১,৮৭০ জন মহিলাকে অন্তত একটি ডোজ করে টিকা দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যের সম্ভাব্য কারণ কী? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দলুইয়ের বক্তব্য, যত দ্রুত সম্ভব টিকাকরণের আওতায় এই মহিলাদের আনতে হবে। সেটি করার জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত প্রচার চালাতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, 'অনেক গৃহবধূ কিন্তু বাড়ি থেকে বেরিয়ে এখনও টিকা নেননি। হয়তো তাঁদের কাছে টিকার গুরুত্বটাই এখনও তেমন ভাবে স্পষ্ট নয়। গ্রামের দিকে তো বটেই, শহরাঞ্চলেও এই সমস্যাটি রয়েছে। কোনও সেলিব্রিটিকে দিয়ে প্রচার করানোর মতো উপায় ভাবা যেতে পারে। পোলিয়োর ক্ষেত্রে অমিতাভ বচ্চনের বার্তা যেমন খুব ভালো কাজ করেছিল।' এই বৈষম্যের আরও একটি কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, 'অনেকগুলি ক্ষেত্রকে সরকারের তরফে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকাকরণ হয়েছে। কিন্তু দেখা যাবে, সে সব ক্ষেত্রেও মহিলাদের থেকে পুরুষের সংখ্যা বেশি। এ-ও একটা কারণ।' মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাসের যুক্তি, 'সামগ্রিক ভাবে দেশে একটি বৈষম্য দেখা গিয়েছে মানে, রাজ্যস্তরেও এই বৈষম্য রয়ে গিয়েছে। কোন কোন রাজ্যে এই বৈষম্য বেশি, সর্বাগ্রে তা খুঁজে বের করতে হবে। অনেক রাজ্যই রয়েছে, যেখানকার সমাজব্যবস্থায় মহিলাদের বাইরের দুনিয়ায় তথাকথিত এক্সপোজার অনেকটাই কম। সেখানে টিকাকরণের গুরুত্বের কথা পৌঁছে দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের মধ্যে কুণ্ঠাবোধও কাজ করে। সে সব বাধা কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব ভাঙতে হবে।' চিকিৎসকদের কথার সূত্র ধরে দেশের হিসেবের দিকে চোখ ফেললে দেখা যাচ্ছে, বাংলায় প্রতি হাজার পুরুষে ৭৮৭ জন মহিলা অন্তত এক ডোজ টিকা পেয়েছেন। যা এখনও জাতীয় হারের থেকে কম। যদিও টিকাকরণে বাংলার সরকারের উদ্যোগ এই ব্যবধান দ্রুত মুছে দেবে বলে আশাবাদী চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই নিরিখে সবথেকে ভালো অবস্থায় রয়েছে দেশের তিনটি রাজ্য- কেরালা, ছত্তিসগড় এবং হিমাচল প্রদেশ। কেরালায় প্রতি হাজার পুরুষে ১,১২৫, ছত্তিসগড়ে ১,০৪৫ এবং হিমাচলে ১,০০৩ জন মহিলা অন্তত এক ডোজ টিকা পেয়েছেন। এর ঠিক উল্টো মেরুতে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর, নাগাল্যান্ড এবং দিল্লি। প্রতি হাজার পুরুষে জম্মু-কাশ্মীরে ৭০৯, নাগাল্যান্ডে ৭১৪ এবং দিল্লিতে ৭২৫ জন মহিলা অন্তত এক ডোজ টিকা পেয়েছেন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3g28fbW
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads