ষড়যন্ত্রের শিকার, দাবি 'মৃত' অমৃতাভর https://ift.tt/3xPEhzl - MAS News bengali

ষড়যন্ত্রের শিকার, দাবি 'মৃত' অমৃতাভর https://ift.tt/3xPEhzl

এই সময়, কলকাতা ও কালনা: বা নাশকতাকে ঘিরেই জ্ঞানেশ্বরী কেলেঙ্কারি। এক জীবিতকে ওই ঘটনায় মৃত হিসেবে দাবি করে সরকারি ক্ষতিপূরণ ও চাকরি পাওয়ার ওই কেলেঙ্কারির বিষয়টি শনিবার সামনে এসেছে। তবে সেই কেলেঙ্কারিতে যাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, সেই ব্যক্তিই রবিবার দাবি করলেন যে, তিনি নাকি ষড়যন্ত্রের শিকার! কলকাতার জোড়াবাগান এলাকার অমৃতাভ চৌধুরী ১১ বছর আগে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন বলে দাবি করেছিল তাঁর পরিবার। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪ লক্ষ টাকা ও 'কমপেনসেটারি গ্রাউন্ডে' অমৃতাভর বোনের চাকরিও মিলেছিল। কিন্তু অমৃতাভ যে জীবিত, সেই বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ জানতে পারার পর তাঁদের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। আর মূল অভিযুক্ত সেই অমৃতাভ চৌধুরী রবিবার সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার! শনিবারের পর এ দিনও অমৃতাভ ও তাঁর বাবা মিহির চৌধুরীকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তকারীরা। জোড়াবাগানের বাড়িতে তদন্তকারীদের একটি দল এ দিন দুপুরে অমৃতাভকে নিয়ে তল্লাশি চালায়। সেই সময়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে অমৃতাভ দাবি করেন, 'আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। কারা ষড়যন্ত্র করেছে, তা পরে বলব।' তবে ওই ঘটনায় রেলের কয়েক জন আধিকারিকের যোগ রয়েছে বলে এ দিন ইঙ্গিত দেন অমৃতাভ। 'কমপেনসেটারি গ্রাউন্ডে' তাঁর বোন রেলে যে চাকরি পেয়েছেন, সেটা ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪ লক্ষ টাকাও তিনি সুদ সমেত ফেরত দেবেন বলে ওই ব্যক্তি জানান। অমৃতাভ চৌধুরী এখন চল্লিশোর্ধ্ব। তাঁকে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেনি। এত বড় কেলেঙ্কারির বিষয়টি রেলের গোচরে সম্প্রতি এলেও জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় ওই 'মৃত' ব্যক্তি যে আসলে জীবিত, তা কয়েক বছর আগে জানতেন পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের বামুনপাড়ার বাসিন্দারা। এই মন্তেশ্বরেই অমৃতাভদের পৈতৃক বাড়ি। বামুনপাড়ায় তাঁদের পড়শিদের অনেকেই এখন বলছেন যে, তাঁরা জানতেন, অমৃতাভ বেঁচে আছেন। বছর তিনেক আগে গ্রামের বাড়িতে তাঁকে দেখে অবাক হয়ে যান বাসিন্দারা। এই নিয়ে গ্রামে গুঞ্জনও ছড়ায়। তবে অমৃতাভর পরিবার সেই সময়ে এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তেশ্বরে তাঁদের পড়শিদের একাংশের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, অমৃতাভর ডাক নাম সাহেব। তাঁর বাবা মিহির চৌধুরী কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকায় মা-বোন ও অমৃতাভ বেশির ভাগ সময় কলকাতাতেই কাটিয়েছেন। তবে ইদানীং অমৃতাভর যাতায়াত বেড়েছিল মন্তেশ্বরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, 'জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার পর আমরাও জেনেছিলাম যে, তাতে অমৃতাভর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু হঠাৎই বছর তিনেক আগে গ্রামে তাঁকে দেখে সবাই চমকে যাই।' অমৃতাভদের ওই প্রতিবেশীর কথায়, 'অমৃতাভর মা অর্চনা চৌধুরীর কাছে আমরা দু'-এক জন এই ব্যাপারে জানতে চাই। তখন তিনি বলেছিলেন, এই নিয়ে তাঁকে যেন কিছু জিজ্ঞেস না-করা হয়। ছেলেকেও এই নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতে নিষেধ করেন তিনি। তার পর গ্রামের লোকজন বিষয়টা নিয়ে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি।' তবে সেই সময়ে ওই প্রতিবেশীদের কেউ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার সংবাদমাধ্যমে সিবিআই-তদন্তের বিষয়টি সামনে আসার পর গ্রামে শোরগোল শুরু হয়। অমৃতাভর এক আত্মীয় রবিবার বলেন, 'বামুনপাড়ার পৈতৃক ভিটে সংস্কারের পর ওঁরা বছর দুয়েক আগে মন্তেশ্বরের কামারশাল মোড়ে একটি চারতলা বাড়ি তৈরি করেন। অমৃতাভর মায়ের নামে ওই ভবনের নাম রাখা হয় অর্চনা অ্যাপার্টমেন্ট। বছর খানেক আগে বাড়ির একতলার চারটে দোকানঘরও বিক্রি করা হয়।' সেখানে দোকানঘর নেওয়া লটারি-ব্যবসায়ী বাবুল ঘোষ বলেন, 'অমৃতাভর বাবা মিহির চৌধুরীর কাছ থেকে আমি দোকানঘরের স্বত্ব কিনেছি।' ওই চারতলা বাড়িতে টু-বিএইচকে ফ্ল্যাট বিক্রি হবে বলে সম্প্রতি বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রতিবেশীরা মনে করেন, রেলের এক শ্রেণির অফিসার জড়িত না-থাকলে জীবিত হয়েও মৃত হিসেবে সবার চোখে ধুলো দেওয়া সম্ভব নয়। অমৃতাভর পাশাপাশি এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত সকলেরই শাস্তি চান প্রতিবেশীরা। তবে ২০১০ সালের ২৮ মে, ঝাড়গ্রামের কাছে সরডিহা ও খেমাশুলি স্টেশনের মাঝখানে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস যখন লাইনচ্যুত করা হয়, সেই সময়ে অমৃতাভ কোথায় ছিলেন, কী করছিলেন, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। সিবিআইয়ের একটি সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার দিন সেই জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে সওয়ারি ছিলেন তিনিও। অমৃতাভ ওই ট্রেনে মুম্বই যাচ্ছিলেন। তার পর ঠিক কী কী হলো, কেন হল, কী ভাবে হল, সেই ঘটনা পরম্পরা সম্পর্কে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে চান। সিবিআই অফিসাররা এ দিন অমৃতাভদের জোড়াবাগানের বাড়ি থেকে প্রচুর কাগজপত্র, ছবি বাজেয়াপ্ত করেন। পাশাপাশি, সেখানে অমৃতাভদের কয়েক জন প্রতিবেশীর সঙ্গেও তদন্তকারীরা কথা বলতে চান। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করে অমৃতাভ মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে কাদের দিকে আঙুল তুলতে চাইছেন? জীবিতকে মৃত বলে জানিয়ে যে জালিয়াতি হয়েছে, তাতে তো অমৃতাভ ও তাঁর পরিবারই সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তা হলে কি তাঁদের জালিয়াতিতে সামিল হতে কেউ জোর করেছিল বা বলেছিল? সেই পরিকল্পনা মাফিক ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট বের করা ও ডিএনএ স্যাম্পল ম্যাচিংয়ে কারচুপিতে কি হাত ছিল অন্য কারও? ক্ষতিপূরণের টাকা বা বোনের চাকরির দৌলতে কি আরও কেউ লাভবান হয়েছে বা হচ্ছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা খোঁজার চেষ্টা করছেন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3vSVBC9
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads