পজিটিভিটি রেট দ্রুত কমেছে বঙ্গে https://ift.tt/3vXcBXL - MAS News bengali

পজিটিভিটি রেট দ্রুত কমেছে বঙ্গে https://ift.tt/3vXcBXL

এই সময়: প্রথম ঢেউয়ের ক্ষেত্রে দু'মাস। অতটাই সময় লেগেছিল বাংলায় করোনার কেস পজিটিভিটি রেট (সিপিআর) বা পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে পজিটিভ আসার শতকরা হার অর্ধেক হতে। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ যখন শিখরে, তখন সিপিআর ছিল ৩০ শতাংশ ছুঁই ছুঁই এবং সেটা মাত্র পাঁচ সপ্তাহে নেমে এসেছে ৪ শতাংশেরও নীচে। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির এই দ্রুত উন্নতির নেপথ্যে মূলত কড়া বিধিনিষেধের ভূমিকা রয়েছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সেই সূত্রেই চিকিৎসকদের একটা বড় অংশের আশঙ্কা, প্রশাসনের কড়া বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার (বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণে যা একদিন উঠবেই) পর যদি আমজনতার আত্মশাসনও শিকেয় ওঠে, তা হলে অবস্থার ফের অবনতি হতে কিন্তু বিশেষ সময় লাগবে না। বিধিনিষেধ উঠলে করোনা লেখচিত্র ফের ঊর্ধ্বগামী হতেই পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাঁরা আশ্বস্তও করছেন, মানুষ যদি কঠোর ভাবে করোনা বিধি মেনে চলে, তা হলে অবস্থার অবনতি ঠেকানো যাবে। রাজ্যে প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে কত দ্রুত কমেছে করোনার প্রকোপ? স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২২ অক্টোবর বাংলায় যখন করোনার প্রথম ঢেউ শিখর ছোঁয়, তখন সিপিআর ছিল ৯.৩ শতাংশ। ঠিক ৬১ দিনের মাথায় ২২ ডিসেম্বর দেখা যায়, পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে শতকরা ৪.১ শতাংশ মানুষের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসছে। গত ১৪ মে রাজ্য যখন দ্বিতীয় ঢেউয়ের শিখরে, তখন সিপিআর ছিল অনেক বেশি- ২৯.৮ শতাংশ। তার পর সংক্রমণের অধোগতি ছিল একেবারে ধারাবাহিক। শিখর ছোঁয়ার ৪০ দিনের মাথায় বুধবার দেখা যাচ্ছে, কেস পজিটিভিটি রেট এখন মাত্র ৩.৫ শতাংশ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দলুইয়ের ব্যাখ্যা, 'প্রথম ঢেউ যখন শিখর ছুঁয়েছিল, তার পর কিন্তু রাজ্যে তেমন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। উল্টে তখন ছিল পুজোর মরসুম। আর দ্বিতীয় ঢেউ শিখর ছোঁয়ার পর দিন থেকেই কড়া প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে বাংলায়। অনেকটা তার ফলেই অল্প সময়ে করোনার লেখচিত্রে আশাতীত উন্নতি দেখা গিয়েছে।' এবং সেই জন্যই তাঁর আশঙ্কা, এখন প্রশাসনিক বিধিনিষেধ উঠে গেলে কী হবে! অনির্বাণের কথায়, 'এখন যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, সেটা এক রকম পুরোটাই বিধিনিষেধের দান। আসল ছবিটা স্পষ্ট হবে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর। তখন যদি বঙ্গবাসী ব্যক্তিগত আত্মশাসন শিকেয় তুলে দেন, তা হলে অবশ্যম্ভাবী তৃতীয় ঢেউ তাড়াতাড়ি আসবে এবং তার বহর হবে আগের দু'টি ঢেউয়ের চেয়েও বড়।' একমত মাইক্রোবায়োলজি বিশেষজ্ঞ সৌগত ঘোষও। তিনি বলেন, 'বর্তমান সুরক্ষার বলয়টা অনেকটা প্রশাসনেরই তৈরি করে দেওয়া। কিন্তু এই বিধিনিষেধ একদিন উঠবে। তখন যদি লোকে মনে করে, আর করোনা বিধি মেনে চলার দরকার নেই, তা হলে ফের করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি অনিবার্য।' মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাসও মনে করেন, একদিকে টিকাকরণ আর অন্য দিকে কড়া বিধিনিষেধ, এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই দ্বিতীয় ঢেউ প্রশমিত হচ্ছে দ্রুত গতিতে। কিন্তু এর মধ্যে যদি একটি ব্যবস্থা না-থাকে, অর্থাৎ প্রশাসনিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষের দায়িত্ব আরও বেড়ে যাবে। তাঁর কথায়, 'মনে রাখতে হবে, করোনা প্রতিরোধের একমাত্র রাস্তা ব্যক্তিগত আত্মশাসনই। অন্যথায় ফের অবস্থার অবনতি হতে সময় লাগবে না।' সতর্ক করে তিনি জানাচ্ছেন, দু'মাস হোক বা চার মাস কিংবা ছ' মাস পর, অতিমারীর নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় ঢেউ আসবেই। কিন্তু সেই ঢেউয়ের উচ্চতা কতটা হবে, সেটা আমজনতার করোনা বিধি পালনের ধরনের উপর নির্ভর করছে বলে চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাসের অভিমত। চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার নাভিশ্বাস উঠতে চলেছিল বলেই রাজ্যবাসীর উপর সরকার এই কড়া প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ১৬ মে থেকে। এখন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ বলেই প্রশাসন কিছুটা নরম হয়েছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিলও করেছে। কিন্তু সংক্রমণটা এখনও যে যায়নি, সেটা মাথায় রাখা জরুরি। তাই, চিকিৎসকরা পইপই করে আবেদন করছেন, 'আগামী দিনে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ উঠে গেলেও সাধারণ মানুষ যেন নিজের আচরণে বেপরোয়া হয়ে না-ওঠেন। তা হলে আপাতত শুধরে যাওয়া করোনা-চিত্রের ফের বিগড়ে যেতে সময় লাগবে না।'


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3ji0mm5
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads