Bangla News: বেঙ্গলি খবর
Breaking News In Bengali
Latest News in Bengali
সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3oMbubm
ঝড় সামলাতে নবান্ন তৈরি মাইক্রো-স্তরে https://ift.tt/3ukkoOm
এই সময়: গত বছরের আমফানের বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ইয়াসের (Cyclone ) মোকাবিলায় একেবারে মাইক্রো-স্তরে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে বারবার বৈঠক করছেন। ঝড়ের মোকাবিলায় প্রশাসনিক তদারকির জন্য তিনি নিজেই থাকবেন নবান্নের পাশে উপান্নের কন্ট্রোল রুমে। সম্ভাব্য যে সব জায়গায় ইয়াসের দাপট বেশি হতে পারে, দুই মেদিনীপুর এবং দুই ২৪ পরগনা-সহ সেই সব জেলাগুলিতে একেবারে ব্লকস্তরে সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য। গত কয়েক দিন ধরেই সেই প্রস্তুতি চলেছে, যাতে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা দ্রুত সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। মুখ্যমন্ত্রী সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের বলেন, '৭২ ঘণ্টা চলবে ঝড়। থামলেও তাণ্ডবের প্রকোপ থেকে যাবে। কেউ জেনেশুনে জীবনের ঝুঁকি নেবেন না। ঝড়ের মধ্যে বাইরে বেরোবেন না, গাড়ি চালাবেন না, ঝড় দেখতে জানলা-দরজাও খুলবেন না। উড়ে আসা টিনের টুকরোতে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।' সকলকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, 'সমুদ্রে যদি বিপ্লব হয়, নদী যদি বিদ্রোহ করে আর গাছপালায় তাণ্ডব বাধে, তা হলে উপরওয়ালাই জানেন।' মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসন অবশ্য সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় পুরোদস্তুর কাজ শুরু করে দিয়েছে একেবারে ব্লকস্তর থেকে। রুটিন-মাফিক ব্যবস্থার পাশাপাশি উম্পুন থেকে শিক্ষা নিয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য যে জেলাগুলোয় দাপট বেশি থাকতে পারে ইয়াসের, মাইক্রো-স্তরে তাদের প্রস্তুতির ছবিটা কেমন? সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র এদিন থেকেই থাকছেন দিঘার কন্ট্রোল রুমে। স্পিড বোট নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনীর তিনটি ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পাঁচটি দল। প্রয়োজনে বাঁধ মেরামতের জন্যে খুঁটি ও বালির বস্তাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ওডিশা লাগোয়া দাঁতন-১, দাঁতন-২, মোহনপুর, কেশিয়াড়ি, নারায়ণগড় ব্লক-সহ খড়্গপুর মহকুমা এলাকায় ফ্লাড সেন্টার, প্রতি ব্লকে পাকা স্কুলবাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয় শিবিরের জন্য। প্রতিটি ব্লকে অ্যাম্বুল্যান্স, জেসিবি মেশিন রাখা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম শহরে নামিয়ে ফেলা হয়েছে সব হোর্ডিং, কেটে ফেলা হয়েছে শুকনো ও মৃত সব গাছ। উত্তর ২৪ পরগনায় প্রতিটি পুরসভায় পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, বিদ্যুৎ, পূর্ত, দমকল, সেচ, স্বাস্থ্য,পানীয় জল সরবরাহ বা জাতীয় সড়ক বিভাগের আধিকারিকরা নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি বৈঠক করেন এদিন। জেলার প্রতিটি পুরসভা, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত, ব্লক-সহ জেলাশাসকের অফিসে ২৪ ঘন্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। গাছ কাটার করাত বা জমা জল দ্রুত বের করার জন্য পাম্প মজুত রাখা হয়েছে পুরসভাগুলিতে। জেনারেটরের মাধ্যমে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ভর্তি করার পরিকল্পনা নিয়েছে মধ্যমগ্রাম পুরসভা। বারাসত পুরসভায় প্রতি চার ওয়ার্ড পিছু একটি বিপর্যয় মোকাবিলা দল গড়া হয়েছে। উপড়ে যাওয়া গাছ কাটার জন্য ৯টি আধুনিক করাত রেডি রাখা আছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন কাউকেই কাঁচা বাড়িতে কিংবা ঝুপড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। প্রতিটি ব্লকের প্রসূতিদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে রাস্তা সাফাই, গাছ সরানোর জন্য পে-লোডার ভাড়া নিয়েছে প্রশাসন। গ্রামীণ হাওড়ায় রূপনারায়ণ এবং দামোদর নদীর পাড়ে শ্যামপুর এবং বাগনানের বহু মানুষকে সরিয়ে আনা হচ্ছে। একাধিক স্কুলভবনের সরকারি কর্তারা চাবি নিজেদের কাছেই রেখেছেন। গাদিয়াড়ায় বিপজ্জনক বাঁধের সংস্কার চলছে। গাছ পড়লে রাস্তা পরিষ্কারের জন্য জেসিবি মেশিন এনে রাখা হয়েছে। হুগলিতেও চার মহকুমা ও ১৮টি ব্লকে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। চুঁচুড়ায় আলাদা করে জেলা হেডকোয়ার্টার্স নাম দিয়ে বাড়তি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক স্কুলবাড়ি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেফ হোমে জেনারেটরের আগাম বন্দোবস্ত করা হয়েছে। করোনা হাসপাতালগুলিতে যদি বিদ্যুৎ সংযোগে বিঘ্ন ঘটে, সে ক্ষেত্রেও জেনারেটর দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় বিদ্যুতের তারে গাছের ডাল যাতে ভেঙে না-পড়ে, তাই ডাল ছাঁটা শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ বিঘ্নিত হলে করাত যদি কাজ না-করে, সে জন্য ডিজেল চালিত করাতেরও ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'নবান্নের পাশেই উপান্নে কন্ট্রোল রুম হয়েছে। আমি মঙ্গলবার থেকে ৪৮ ঘণ্টা সেখান থেকে পরিস্থিতি মনিটর করব।' উপান্নে দু'টি কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে। একটি কন্ট্রোল রুমে থাকবেন রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা।' দুর্যোগ যে গোটা রাজ্যেই প্রভাব ফেলতে চলছে, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, 'আমাদের কুড়িটা জেলাতেই ঝড়ের প্রভাব পড়তে চলেছে। এর মধ্যে ঝড়ের প্রকোপ অপেক্ষাকৃত বেশি অনুভূত হবে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায়। ঝড় পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম হয়ে মুর্শিদাবাদেও পৌঁছতে পারে। উত্তরবঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, কালিম্পেঙের মতো জেলাগুলিতে বেশি বৃষ্টি হতে পারে।' মুখ্যমন্ত্রী জানান, উম্পুনের সময় দশ লাখ মানুষকে মেদিনীপুর ও সুন্দরবনের মতো এলাকা থেকে সরানো হয়েছিল। এ বারও ঝড় থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সেই পথেই হাঁটছে রাজ্য সরকার। তৈরি রাখা হয়েছে চার হাজার ফ্লাড সেন্টার ও ৫১টি রেসকিউ টিমকে। ঝড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হলে মোকাবিলারও ব্যবস্থা থাকছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'লাইন খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গেই তো এঁদের পাঠানো যাবে না। কারণ, কাউকে তো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠাতে পারব না। ঝড়ের পর গাছ পড়ে, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ার বিপদও থাকে।' পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে যাঁরা ফ্লাড শেল্টার বা স্কুলগুলিতে সাময়িক ভাবে আশ্রয় নেবেন, করোনা-কালে তাঁদের মাস্ক পরার উপরও জোর দিয়েছেন মমতা। এদিন অমিত শাহের সঙ্গে রাজ্যগুলির বৈঠকে কোভিড হাসপাতাল সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা, ল্যাব ও ভ্যাকসিন কোল্ড চেনগুলিতে যাতে দুর্যোগের মধ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকে এবং প্রয়োজনে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়, সেই ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়।
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3oMbubm
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment