Bangla News: বেঙ্গলি খবর
Breaking News In Bengali
Latest News in Bengali
সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3uCWX3i
আলাপনকে হঠাৎ দিল্লি তলবে ক্ষোভ নানা স্তরে https://ift.tt/3i8T57c
এই সময়: রাজ্যের আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিলম্বে 'ছেড়ে দেওয়ার' জন্য আবেদন জানিয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিল কেন্দ্র। শুক্রবার সন্ধেয় দিল্লিতে ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (DOPT) আন্ডার সেক্রেটারি অংশুমান মিশ্রের লেখা এই চিঠি নবান্নে পৌঁছতেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায় রাজ্য প্রশাসনে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৮৭ ব্যাচের IAS অফিসার আলাপনের জন্য ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটি প্লেসমেন্ট অনুমোদন করেছে। তাই অবিলম্বে ওই অফিসারকে রাজ্য থেকে 'ছেড়ে দেওয়া'র আবেদন করা হয়েছে। আগামী সোমবার, তাঁকে নয়াদিল্লির নর্থব্লকে ডিওপিটি বিভাগে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে এ-ও উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (ক্যাডার) রুলস, ১৯৫৪ অনুযায়ী এই নির্দেশিকা জারি করা হলো। কেন্দ্রের এমন 'একতরফা' নির্দেশে ক্ষুব্ধ নবান্নের কর্তারা। ৩১ মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবের পদ থেকে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা থাকলেও, কিছু দিন আগেই তাঁর মেয়াদ তিন মাসের জন্য বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই আবেদনের ভিত্তিতে অনুমোদনও দেয় কেন্দ্র। তা ছাড়া, রাজ্যের বর্তমান কোভিড পরিস্থিতি এবং ইয়াসের দুর্যোগ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্যসচিব হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন আলাপন। এই অবস্থায় হঠাৎ রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে পাঠানোর চিঠিতে 'রাজনীতি' দেখছেন রাজ্য প্রশাসনের অনেক শীর্ষকর্তাই। বাংলায় শীর্ষ প্রশাসনিক অফিসারকে এমন নির্দেশ পাঠানোর নজির প্রবীণ অফিসাররাও মনে করতে পারছেন না। রাজ্যের প্রশাসনিক মহলের একাংশের বক্তব্য, এর মধ্যে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ডিওপিটি দপ্তর রাজ্যের মুখ্যসচিবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে 'শাস্তি' দিতে চেয়েছেন। দিল্লি এ ভাবে কোনও ক্যাডারকে তুলে নিয়ে যেতে পারে না। রাজ্যের সবচেয়ে সিনিয়র আধিকারিককে অপমানিত করার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত এক কর্তা জানান, সার্ভিস (ক্যাডার) রুলসে পরবর্তী সময়ে যে সংশোধনী করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে কেন্দ্র কোনও অফিসারকে ডেকে নিতেই পারে। আলাপন এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইয়াস-কবলিত এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য দিঘায় রয়েছেন। তাই রাজ্য প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, এই চিঠির পিছনে এদিনের ঘটনা পরম্পরারও যোগ থাকতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইয়াস-কবলিত এলাকা সফর করছিলেন মুখ্যসচিব। আবার এদিন দুপুরে কলাইকুণ্ডায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। নবান্ন সূত্রের খবর, তার আগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক আধিকারিককে মুখ্যসচিব জানিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রীর দিঘায় যাওয়ার কথা রয়েছে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে থাকতে পারছেন না। কলাইকুণ্ডাতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যসচিব হিসেবে আলাপন উপস্থিত থাকলেও সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী তিনি প্রধানমন্ত্রীর পৌরোহিত্যে হওয়া ইয়াস-ক্ষতি সংক্রান্ত বৈঠকে হাজির থাকতে পারেননি। কারণ, রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে তাঁকে দিঘা চলে যেতে হয়েছিল। কেন্দ্রের এই নির্দেশের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল। রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেছেন, 'স্বাধীনতার পরে এমনটা কখনও হয়েছে? মোদী-শাহর বিজেপি আর কত নীচে নামবে? এ সবই করা হচ্ছে কারণ, বাংলার মানুষ ওই দু'জনকে না-বেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিপুল ভোটে জিতিয়ে এনেছেন।' অবসরপ্রাপ্ত IAS অফিসার এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিসচিব জহর সরকারও বলছেন, 'আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর এই নির্দেশ বেআইনি। কোনও ক্যাডার অফিসারকে ডেপুটেশনে নিতে হলে তাঁর ও রাজ্য সরকারের মতামত ও অন্যান্য ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। উনি একটি রাজ্যের মুখ্যসচিব। কোনও আইনি পথে না-হেঁটে স্রেফ গুন্ডাগিরি করছে কেন্দ্রীয় সরকার।' তাঁর যুক্তি, 'আসলে রাজ্যে ভোটে গোহারান হেরেছে বিজেপি। ওরা মনে করেছিল, ভোট কিনে নেবে। সফল হয়নি। তাই এই আক্রমণ। এটা ভারতের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। এখন প্রতিহিংসার বশে আক্রমণ করছে অফিসারদের।' বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু অবশ্য বলছেন, 'এটা রাজনীতির কোনও বিষয় নয়। এটা কেন্দ্র ও রাজ্য-- দুই সরকারের প্রশাসনিক বিষয়।' এর আগে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনার পর রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্রে 'অ্যাটাচ' করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্র। যদিও তাঁদের ছাড়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশ্য বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। আলাপনকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো নিয়ে রাজ্য সরকার আইনজ্ঞ ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে চাইছে। এদিনের চিঠিতে আলাপনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য 'অনুরোধ' জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারে কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নিচ্ছেন রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা।
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3uCWX3i
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment