করোনা আক্রান্ত মায়ের শিশুকে স্তন্যদানের ডাক https://ift.tt/3fjDAb6 - MAS News bengali

করোনা আক্রান্ত মায়ের শিশুকে স্তন্যদানের ডাক https://ift.tt/3fjDAb6

দেবাশিস দাস আক্রান্ত মায়ের মাতৃদুগ্ধ থেকে শিশুর সংক্রমিত হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই ঠিকই। তবে মা যদি ঠিক মতো মাস্ক না-পরেন, হাত স্যানিটাইজ না-করেন, তা হলে একরত্তির সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অনেক মা আবার এতটাই অসুস্থ যে শিশুকে দুগ্ধদান করানোর অবস্থাতেই থাকেন না। তাঁদের সন্তানদের জন্য গড়ে সেখানে মায়েদের দুগ্ধদানের আহ্বান জানালেন দক্ষিণ কলকাতার এক তরুণী। 'প্রজেক্ট মমতা' নামে একই রকম আবেদনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢেউ তুলছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও। করোনাকালে অনেক দুগ্ধপোষ্য শিশুই মাকে কাছে পাচ্ছে না। ফলে অনিবার্য ভাবেই তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে কৌটোর দুধে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে একরত্তির পুষ্টি। তেমনটা যাতে না-হয়, তাই রক্তদানের মতোই মাদার-মিল্ক ব্যাঙ্কে মাতৃদুগ্ধ দান করার আর্তি জানাচ্ছেন ঢাকুরিয়ার বাসিন্দা বছর চব্বিশের তরুণী স্নেহা দাস। সম্প্রতি ফেসবুকে মাদার-মিল্ক ব্যাঙ্কের ফোননম্বর দিয়ে তিনি ডাক দিয়েছেন, যে সব মায়েদের দুগ্ধদান করার ক্ষমতা ও ইচ্ছা আছে, তাঁরা যেন করোনাকালে এই সঙ্কট মোকাবিলায় এগিয়ে আসেন। ফিঙ্গার ক্রসড ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা আবার বেশি চিন্তিত সেই সব দুধের শিশুকে নিয়ে, যারা মাকে হারিয়েছে করোনায়। মাতৃদুগ্ধ দাতাদের তাঁরা যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন মিল্ক ব্যাঙ্কের সঙ্গে। চিকিৎসকদের একটা বড় অংশই স্বাগত জানাচ্ছেন এই উদ্যোগকে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেন, 'মায়ের করোনা হলে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ দিতে অসুবিধে নেই। তবে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর সময় আক্রান্ত মাকে অবশ্যই ডাবল মাস্ক পরে, ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে বা স্যানিটাইজ করতে হবে। অনেক মা এবং তাঁর পরিজন ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে স্তন্যদান করেন না। এর ফল ভুগতে হয় শিশুকে।' এমআর বাঙুর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অমলকুমার সরকারও একমত। তিনি বলেন, 'মাতৃদুগ্ধ খেলে মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে করোনা ভাইরাস যায় না। কিন্তু মায়ের নাক-মুখ থেকে বেরোনো ড্রপলেট শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে। আবার অনেক মা সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলেন কোভিডের হামলায়। তাঁদের শিশুদের জন্য অন্য মায়ের দুগ্ধই সেরা উপায়। বাস্তবে তা না-মিললে, মিল্কব্যাঙ্কের বিকল্প নেই।' স্নেহা জানাচ্ছেন, সে জন্যই তাঁর এই প্রয়াস। তাঁর কথায় 'আমাদের দেশের মায়েরা এমন আর্জি জানাতে এখনও লজ্জা পান। আবার দাতারাও সম্ভ্রম ভেঙে প্রকাশ্যে এই কাজে সাড়া দিতে চান না। তাই এই অতিমারীর সময়ে অনেক দুধের শিশুই সঙ্কটে পড়ে যায়। তারা যাতে বঞ্চিত না হয়, তাই আমি এই আহ্বান জানিয়েছি।' বাংলায় মিল্কব্যাঙ্ক অবশ্য বিদেশ কিংবা দক্ষিণ ভারতের মতো বেশি নেই। আছে মাত্র দু'টি। সরকারি উদ্যোগে এসএসকেএমে এই উদ্যোগ প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিল বছর দশেক আগে। পরে শহরের একটি অভিজাত বেসরকারি হাসপাতালেও চালু হয় একই পরিষেবা। নিতান্তই যে সব শিশুদের মাতৃদুগ্ধ প্রয়োজন, অথচ পাচ্ছে না, তাদের জন্যই এই পরিষেবা। বাজারে মেলে সংরক্ষিত মায়ের দুধ 'ফর্মুলা মিল্ক'-ও। তবে সেটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দক্ষিণ দমদমের মাস চারেকের এক শিশুর মা করোনায় আক্রান্ত। পরিজনের কাছে পালিত হচ্ছে শিশুটি। ওই মায়ের কথায়, 'কাউকে পাচ্ছি না যে বাচ্চাটাকে একটু মাতৃদুগ্ধ দেবে।' লিলুয়ার এক মা তাঁর তিন মাসের সন্তানকে নিয়েও একই সমস্যায় পড়েছেন। তাঁর কথায়, 'কেউ যদি আমার মেয়েটাকে দু'বেলা একটু মাতৃদুগ্ধ খাইয়ে যেত, আমি তাকে পারিশ্রমিকও দিতে রাজি ছিলাম। কিন্তু পাচ্ছি কই!' এই সমস্যাই মেটাতে চাইছেন স্নেহারা।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3fI6DUC
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads