এক ফোনেই ঘরের চৌকাঠে হাজির শালবীথির প্রমীলারা https://ift.tt/33ABX1R - MAS News bengali

এক ফোনেই ঘরের চৌকাঠে হাজির শালবীথির প্রমীলারা https://ift.tt/33ABX1R

এই সময়: এই কঠিন পরিস্থিতিতে মেদিনীপুরে অসময়ের বন্ধু হয়ে উঠেছে রীতা, কৃষ্ণা, দীপান্বিতা, ঝুমঝুমি, মৃদুলাদের প্রমীলা বাহিনী। জীবন বাজি রেখে করোনায় আক্রান্তদের পরিবার ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের নম্বর দিয়ে দিয়েছেন। সেখানে ফোন করলেই মিলছে পরিষেবা। কারও বাড়িতে খাবার পৌঁছে যাচ্ছে, তো কারও অনুরোধে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ওষুধ। কেউ আক্রান্ত হলে ভর্তি করাতেও হাসপাতালে ছুটছেন রীতারা। জেলার অনেকেই প্রমীলা বাহিনীর এই কাজকে কুর্ণিশ করছেন। ভুক্তভোগী করোনা সংক্রামিত পরিবারের এক সদস্যা, খড়্গপুরের বাসিন্দা দেবলীনা নিয়োগী বলেন, 'কয়েকদিন আগে আমার বাবা হওয়ার পর বন্ধুরা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। এদিকে বাড়িতে মাও ভীষণ অসুস্থ। তাঁকে ছেড়ে আমি বাবার কাছেও যেতে পারছি না। এমন সময় হাসপাতাল থেকে বাবা কিছু জিনিসপত্র চেয়ে পাঠালে আমি নিরুপায় হয়ে পড়ি। বন্ধুদের মাধ্যমে রীতা আন্টিদের নম্বর পেয়ে যোগাযোগ করার পর ওইদিন প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে গিয়ে আমার বাবার প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিয়ে আসেন। এই করোনা পরিস্থিতিতে এটা আমার কাছে অনেক বড় উপকার।' গতবছর লকডাউনের পর থেকেই এরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মানুষের সেবায়। প্রত্যেকেই গৃহবধূ। বয়স ৪৫ থেকে ৫৫'র মধ্যে। সংসার সামলে এই কঠিন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সঙ্কল্প করেছেন তাঁরা। গতবছর লকাডাউনের সময় দুঃস্থ মানুষদের কাছে চাল, ডাল, আলু, মুড়ির মতো খাদ্যসামগ্রী সাধ্যমতো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এছাড়াও সারাবছর মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে প্রশংসা অর্জনের পর এই প্রমীলা বাহিনী 'শালবীথি' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও তৈরি করে ফেলেছেন গত জুন মাসে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ তখনও সাহসের সঙ্গে মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে রোজ সকাল থেকে নেমে পড়ছেন কৃষ্ণা, দীপান্বিতা, ঝুমঝুমিরা। করোনা পরিস্থিতিতে যখন অধিকাংশের মধ্যেই সংক্রামিত হওয়ার ভয় তখন জীবন বাজি রেখে এধরণের কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন কেমন করে? রীতা বেরা বলেন, 'বিবেকের তাড়নায়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকা প্রয়োজন বলেই আমরা একাজ করছি। সেজন্য নিজেদের যতটা সম্ভব সুস্থ রেখে করোনা সংক্রামিত বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দুয়ার পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।' শালবীথির সদস্যা কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়, দীপান্বিতা খান, মৃদুলা ভুঁইয়ারা বলেন, 'উপকার করার মানসিকতা হঠাৎ করে গড়ে উঠে না। ছোট থেকেই এধরণের কাজ করার ইচ্ছে ছিল। আমরাও কাউকে না কাউকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আবার আমাদের দেখে কেউ কেউ অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সবারই মানুষের পাশে না দাঁড়ানো উচিত।' মেদনীপুরের আরও খবরের জন্য। প্রতি মুহূর্তে খবরের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন ।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2RIz50c
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads