কমিশনকে প্রচার বন্ধের ক্ষমতা দিল হাইকোর্ট https://ift.tt/3n6G4f4 - MAS News bengali

কমিশনকে প্রচার বন্ধের ক্ষমতা দিল হাইকোর্ট https://ift.tt/3n6G4f4

এই সময়: শুধু খাতায়-কলমে হুঁশিয়ারি দিলে হবে না, কাজ করে দেখাতে হবে। ভোট প্রচারে করোনাবিধি কার্যকর করার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট () কার্যত এই ভাবেই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশনকে ()। নির্বাচনী প্রচারে () করোনাবিধি না-মানা হলে আর শুধু হুঁশিয়ারি নয়, প্রয়োজনে প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার কমিশনের বিজ্ঞপ্তিকেই কার্যকরের পক্ষেই সায় দিল হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণ ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ, যে ভাবে হোক, প্রয়োজনে পুলিশ দিয়ে বিধি মানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। হাইকোর্ট তার রায়ে নির্বাচন কমিশনের রাজ্যের গত ৯ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তির অংশ তুলে ধরে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে রাজনৈতিক দল-প্রার্থী-তারকা প্রচারকদের বলা হয়, করোনাবিধি মানা না-হলে কমিশন প্রচার বন্ধ করতে দ্বিধা করবে না। তার পরও অবশ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল 'ধরি মাছ না-ছুঁই পানি'র মতো বিধি না-মেনে প্রচার চালিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু যে ভাবে করোনা হু হু করে বাড়ছে, তাতে আর শুধু সাধারণ নাগরিক নন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিচুতলার নেতা-কর্মীরাও এখন প্রকাশ্যেই প্রচার বন্ধের পক্ষে সওয়াল করছেন। সাধারণ মানুষের উদ্বেগই যেন এদিন ধরা পড়ল হাইকোর্টের বক্তব্যে। এদিন শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, 'ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকে যথেষ্ট মিছিল, জনসভা হয়েছে। এবার মানুষকে বিচার করতে দিন।' ইতিমধ্যে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রচার কাটছাঁট করেছে বামেরা। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বঙ্গে ভোটপ্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সভা ছোট করার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভোট প্রচারের জন্য বঙ্গ সফরও কাটছাঁট করা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, ২৩ এপ্রিল মোদীর কোনও জনসভাতেই পাঁচশোর বেশি দর্শক থাকবে না। বাকিরা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনবেন ভার্চুয়ালি। BJP রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, 'আমরা সবরকম সতর্কতা মেনে মোদীজির সভা করব। সে ক্ষেত্রেও দর্শকদের মধ্যে চার ফুটের দূরত্ব থাকবে, এই ভাবেই বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আমরা সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।' করোনাকালে শেষ তিন দফার ভোট একসঙ্গে করার জন্য কমিশনে দাবি করেছিল তৃণমূল। তা অবশ্য হয়নি। এর পর মুখ্যমন্ত্রী অন্তত শেষ দু'দফার ভোট একলপ্তে করার কথা বলেছিলেন। মঙ্গলবার শেষ দুই দফার ভোট যাতে একসঙ্গে হয়ে যায় কমিশনের কাছে ফের সেই আর্জি জানিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, 'আমাদের দলনেত্রী প্রচারসূচি ছোট করেছেন। এ বার শেষ দু'দফার ভোট একসঙ্গে করার আবেদন জানিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ও ভোটকর্মী-সহ ভোটের কাজে যুক্ত সকলের জীবন সুরক্ষার কথা ভাববে।' তবে এসবের মধ্যেও অনেক দল বা প্রার্থীই করোনাবিধি না-মেনে প্রচার চালাচ্ছেন, এমন ছবি সামনে এসেছে। এদিন কলকাতা হাইকোর্টে মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী বলেন, 'আদালত যাবতীয় নির্দেশ দিলেও ভোট প্রচার চলছে করোনা বিধি না মেনেই। কমিশন সব দেখেও কোনও পদক্ষেপ করছে না।' আর এক মামলাকারীর তরফে আইনজীবী মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, 'যে কোনও ভাবে ভোটের প্রচার বন্ধ করা জরুরি।' রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, 'রাজ্য সরকার এখন এ ব্যাপারে কিছু করছে না। যেহেতু আদর্শ আচরণ বিধি জারি রয়েছে, তাই যা করার নির্বাচন কমিশনই করুক।' এর পরেই ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনকে করোনা নিয়ন্ত্রণে যে কোনও ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য 'ওপেন হ্যান্ড' দিয়ে দেয়। রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়, কমিশনকে এই পরিস্থিতিতে যাবতীয় সহযোগিতা করার জন্য। একই সঙ্গে আদালতের বক্তব্য, কমিশন এবং রাজ্যের মূখ্য নির্বাচনী অফিসারের সবরকম স্বাধীনতা আছে, প্রয়োজনে রাজ্যের পুলিশ এবং প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে করোনা বিধি মানাতে সদর্থক পদক্ষেপ করার জন্য যে বিজ্ঞপ্তি তারা জারি করেছিল, তা কঠোর ভাবে কার্যকর করার। আবার আদালত আগামী বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানিতে রাজ্য সরকারকে করোনা পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দিয়েছে। এদিন হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে BJPর রাজ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'পাঁচ দফা নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। যাঁদের এখনও বাকি আছে তাঁরা প্রচার করতে চাইবেনই। তবে করোনা বিধি মেনেই প্রচার করতে হবে। একদিকে করোনাকে হারাতে হবে, অন্য দিকে রাজ্যের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে।' সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শমীক লাহিড়ী অবশ্য মনে করছেন, 'মিটিং-মিছিল বন্ধ করতে হাইকোর্টকেই আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হতো।' তাঁর অভিযোগ, 'নির্বাচন কমিশন BJPর নির্দেশে চলছে। তাই তারা বিধি ভঙ্গ হলেও কিছু করবে না। এই অবস্থায় মানুষের জীবন বাঁচাতে আদালতকেই সরাসরি পদক্ষেপ করতে হত।' তৃণমূল অবশ্য আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে কিছু বলতে চায়নি। হাইকোর্টের নির্দেশের পরই শেষ দু'দফার ভোট হতে যাওয়া কলকাতা-সহ রাজ্যের সাত জেলাকে নির্বাচনী প্রচার নিয়ে কড়া হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব। মঙ্গলবার সাত জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স করে তিনি জানিয়ে দিলেন, ভোটের প্রচারে প্রার্থী থেকে রাজনৈতিক দল ও তাদের স্টার ক্যাম্পেনাররা কোভিড বিধি মেনে চলছে কিনা নজর রাখুন। বিধি ভাঙলেই তালিকা তৈরি করে পাঠান। বাতিল করা হতে পারে তাদের সভা। কোনও রকম সমঝোতা করা হবে না। টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3tDURjV
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads