ভোট আমরা করবই, আর পরব না মাস্কও https://ift.tt/3dEThsl - MAS News bengali

ভোট আমরা করবই, আর পরব না মাস্কও https://ift.tt/3dEThsl

এই সময়: কোথায় করোনা বিধি! কোথায় গেল কমিশনের নজরদারি? একদিনে সংক্রমণের সব দেশের সব রেকর্ড ভেঙে ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩,১৪,৮৩৫ জন! মৃত্যুতেও ভারতীয় রেকর্ড- ২,১০৪ জন। পশ্চিমবঙ্গের তথ্যও ভয়জাগানো, একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১১,৯৪৮ জন। মারা গিয়েছেন ৫৬ জন। যতই টিকাকরণ শুরু হোক, এই অবস্থায় মাস্ক পরার কোনও বিকল্প নেই, বার বার বলছেন ডাক্তাররা। কিন্তু বৃহস্পতিবার দেখা গেল, পুরোনো ঐতিহ্য বজায় রেখে ষষ্ঠ দফার ভোটেও করোনো-বিধিকে শিকেয় তুলে ভোট উৎসবে মাতলেন বঙ্গবাসী। প্রার্থী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের কর্মী কিংবা সাধারণ ভোটার- ভোটের উত্তাপে গা ভাসাতে গিয়ে করোনা-বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখালেন সবাই। কোনও কাজে আসেনি হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ, কমিশনের নির্দেশিকাও থেকেছে ফাঁকা বুলি হিসেবেই। বহু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রেই দেখা গেল, শারীরিক দূরত্ববিধি ভুলে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভোটাররা। অনেকের মুখেই মাস্কের দেখা মেলেনি। মাস্ক থাকলেও সেটা হয় থুতনির নীচে, নয় তো গলায় ঝুলছে। বহু প্রার্থীকেই মুখ থেকে মাস্ক নামিয়ে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী পরিচালক রাজ চক্রবর্তী থেকে শুরু করে বীজপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভ্রাংশু রায়, উত্তর দমদম কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্য, নোয়াপাড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুনীল সিং, ভাটপাড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পবন সিং-সহ অনেকেই ছিলেন 'মুখোশহীন'। এক মাস্কহীন ভোটারকে আবার তাচ্ছিল্যভরে বলতে শোনা গিয়েছে- 'আমার কিছু হবে না। অন্যরা মরলে মরুক!' মাস্ক পরানোর প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বারই বলছেন, কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, মানুষকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে মাস্ক পরাতে রাজি করাতে হবে। কিন্তু তাতেও বিশেষ কাজ হচ্ছে না। পপ্যুলিজমের রাজনীতিতে ব্যস্ত সব রাজনৈতিক দলগুলোও একই রকম নরমপন্থী। এদিন টেলিভিশনে প্রার্থীদের মাস্কহীনতার খণ্ডচিত্র দেখে নাগরিকদের বড় একটা অংশ তাই প্রশ্ন তুলেছেন- ২ মে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাঁরা করোনার আক্রমণে মৃতদের জন্য রাস্তায় গণচিতা জ্বালানোর জন্য তৈরি থাকবেন তো? শাসক থেকে বিভিন্ন দলের নেতারা তাত্ত্বিক স্তরে মানছেন যে মাস্কহীনতার উপর রাশ টানা খুবই দরকার। তাঁদের এ-ও দাবি যে, দলীয় কর্মীরা যাতে করোনা-বিধি মানেন, তার জন্য তাঁরা যথাসাধ্য করছেন। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন বিশেষ দেখা যাচ্ছে না। রাজের স্ত্রী শুভশ্রীর কয়েক দিন আগেই করোনা ধরা পড়েছে। আপাতত তিনি কোয়ারান্টিনে রয়েছেন। কিন্তু এদিন রাজকে দেখে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। মাস্ক ছাড়াই তাঁকে নিজের কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাঁর মতো 'সেলিব্রেটি'রা যদি মাস্ক ছাড়াই রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ান, তা হলে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা যাবে? এদিন ভোট চলাকালীন বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তন্ময় ভট্টাচার্য। সেই সময় তাঁর গলায় নীল রংয়ের সার্জিক্যাল মাস্ক ঝুললেও খোলা ছিল নাক-মুখ খোলা ছিল। শুভ্রাংশু রায়কে মাস্ক না-পরেই বিশাল দলবল নিয়ে রাস্তায় টহল দিতে দেখা গিয়েছে। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অর্জুন সিং মাস্ক পরে রাস্তায় বেরলেও তাঁর ছেলে পবনের মুখে মাস্ক ছিল না। জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামের মুখেও কোনও মাস্ক ছিল না। নোয়াপাড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুনীল সিংকে মাস্ক ছাড়াই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা গিয়েছে। কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায় এবং ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মুকুল রায় যে কয়েকবার বাইরে বেরিয়েছেন, মাস্ক পরে ছিলেন। আবার চাপড়ার নির্দল প্রার্থী জেবের শেখ মাস্ক পরে বেরলেও, বেশির ভাগ সময়ে তা থুতনিতেই ঝুলছিল। এ নিয়ে অবশ্য প্রার্থীদের কোনও হেলদোল নেই। অথচ, ভোটের দিনই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে কামারহাটি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র। শশী পাঁজা, সাধন পাণ্ডে, কাজল সেন-সহ একাধিক প্রার্থীর করোনা ধরা পড়েছে। এ রাজ্যেই করোনায় দু'জন প্রার্থী মারা গিয়েছে। তার জেরে দু'টি কেন্দ্রের ভোটের দিন পিছতে হয়েছে। তথৈবচ মনোভাব ভোটারদেরও। ভাটপাড়া কেন্দ্রের কাঁকিনাড়া আর্য সমাজ রোডের বুথে গিয়ে দেখা গেল, যাঁরা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তাঁদের অনেকের মুখেই মাস্ক নেই। মাস্ক না-থাকায় অনেককে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাইরের দরজায় আটকে দিলেও তারা একপ্রকার জোর করেই মুখে রুমাল বেঁধে বুথে ঢুকে পড়েন। অনেক মহিলা ভোটারকে আবার বুথ থেকে বেরিয়েই মাস্ক খুলে মোবাইলে সেলফি তুলতে দেখা গিয়েছে। ইছাপুর স্টোরবাজার বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশনের বুথে যেমন দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাম্পে যারা বসে রয়েছেন, তাঁদের অনেকের মুখেই মাস্ক নেই। নদিয়ার কৃষ্ণনগর মহারানি জ্যোতির্ময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গিয়েছে, যাঁরা মাস্ক পরে আসেননি, তাঁদের জোর করে মুখে মাস্ক পরিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাই। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা করোনা বিধি না-মানলেও বুথের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ান এবং পুলিশকর্মীরা প্রত্যেকেই মাস্ক পরে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3tJPqQd
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads