পাকা ঘর তাঁর! মোদীর সঙ্গে ছবি দেখে হাঁ ঝুপড়িবাসী https://ift.tt/3r8aKNw - MAS News bengali

পাকা ঘর তাঁর! মোদীর সঙ্গে ছবি দেখে হাঁ ঝুপড়িবাসী https://ift.tt/3r8aKNw

এই সময়: ঝুপড়ির মধ্যে ৭০-৮০ বর্গফুটের একচিলতে ভাড়ার ঘর। সেই তেঁতুলপাতায় গাদাগাদি করে ৮ জনের বাস। তাঁদেরই একজন বছর পঞ্চাশের লক্ষ্মীদেবী। কয়েক দশক ধরে এই ভাবেই সংসার করছেন কলকাতার বৌবাজারের মলঙ্গা লেনে। সেই তিনি হঠাৎ একদিন দেখলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে তাঁর ছবি! হঠাৎ জানলেন, ওই ছবিতে তাঁর পিছনে থাকা পাকা বাড়িটাও নাকি তাঁর! হঠাৎ শুনলেন, মোদী সরকারের প্রকল্পে 'আত্মনির্ভর' হয়ে উঠেছেন তিনি! অথচ বাস্তব বলছে, বস্তির একচিলতে ওই ঘরে মা লক্ষ্মী চঞ্চলা হলেও লক্ষ্মীদেবী বহু বছর ধরেই আত্মনির্ভর। স্বামীর মৃত্যুর পর ঠিকে শ্রমিকের কাজ করে তিন ছেলেকে একা হাতে মানুষ করেছেন। অথচ এত লড়াইয়ের পরেও একটা বলার মতো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। রাতে ঘরে কেবল মেয়েরা থাকেন। ছেলেরা খোলা আকাশের নীচে কেউ ফুটপাথে, কেউ ভ্যানের উপর মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞাপনে তাদের সাফল্যের অন্যতম 'মুখ' লক্ষ্মীই! দরিদ্র পরিবারের দাবি, এর পর থেকেই চরম তামাশা চলছে তাঁদের নিয়ে। তাই বিজ্ঞাপনের 'মিথ্যে' ছবিকে এবার 'সত্যি' করুক নরেন্দ্র মোদীর সরকারই। লক্ষ্মীদেবী ও তাঁর পরিবারের দাবি, এই প্রৌঢ়ার ছবি ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়ে আত্মনির্ভর হয়েছেন। গত ১৪ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর ছবি ব্যবহার করে আত্মনির্ভর ভারত, আত্মনির্ভর বাংলার বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদপত্রে। যেখানে এক দিকে দাঁড়িয়ে লক্ষ্মীদেবী, পিছনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের পাওয়া বাড়ি, পাশেই হাসিমুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু লক্ষ্মীদেবীর বক্তব্য, 'পুরো মিথ্যে কথা। আমার ছবি ব্যবহার করে একটা ভুল প্রচার করা হচ্ছে।' ছবিটি আদৌ লক্ষ্মীদেবীর কি না, তা নিয়ে সরকারি আধিকারিকরা নিশ্চিত নন। তবে লক্ষ্মীদেবীর দাবি, মাস কয়েক আগে গঙ্গাসাগরের মেলায় তিনি চুক্তিভিত্তিক কাজ করেছিলেন। সে সময় একদল ফটোগ্রাফার তাঁর ছবি তোলেন। পরে তিনি দেখেন, সেই ছবি ব্যবহার করে একাধিকবার বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে। এমনকী কলকাতায় হোর্ডিং-ফ্লেক্সও পড়েছে। লক্ষ্মী রবিবার বলেন, 'এই ক'দিন আমি হাসাহাসির পাত্র হয়ে উঠেছি। লোকে আমাদের নিয়ে নানা ঠাট্টা-মস্করা করছে।' লক্ষ্মীদেবীর ছেলে, পেশায় ভ্যানচালক রাহুল প্রসাদের বক্তব্য, 'আমার মায়ের ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। এখন যা বলা হয়েছে, সেই অনুযায়ী যেন আমরা সরকারি সুবিধা পাই। আমার মা এত কিছু বোঝেন না। কিন্তু বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পর লোকজনের প্রশ্নের চোটে আমাদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে।' লক্ষ্মীদেবীর প্রতিবেশীদেরও এমনই দাবি। সৈকত রায় নামে এক প্রতিবেশী বলেন, 'এই পরিবারটিকে আমরা বহু বছর ধরে চিনি। বাবা মারা যাওয়ার পর তিন ছেলেকে এই লক্ষ্মীই বড় করে তুলেছেন। আজও ঠিক করে মাথা গোঁজার জায়গাটুকু নেই।' এ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে। এই খবর চাউর হতেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব লক্ষ্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলে এসেছেন। আবার বিজেপি সূত্রে খবর, এই বিজ্ঞাপনের দেখভাল করেন কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসাররা। এর সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। সবার আগে নিশ্চিত হতে হবে ওই ছবিটি লক্ষ্মীদেবীরই কিনা। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও অফিসারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের যদিও দাবি, 'এ ভাবেই ফেক নিউজ ছড়িয়ে ওঁরা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এবার তো সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যানার দিয়ে ফেক নিউজ ছড়ানো হয়েছে।' রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যকে সব জানানো হলে তিনি বলেন, 'খোঁজ নিয়ে দেখে তার পর মন্তব্য করব।' টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3c9IHZu
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads