বাঙালি আবেগ টানতে মোদী-ব্রিগেডে মিঠুনও https://ift.tt/3esWBb5 - MAS News bengali

বাঙালি আবেগ টানতে মোদী-ব্রিগেডে মিঠুনও https://ift.tt/3esWBb5

এই সময়: একুশের বিধানসভা ভোটের মহারণে প্রচারে ঝড় তুলতে আজ, রবিবার ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিজেপি। প্রধান বক্তা অবশ্যই নরেন্দ্র মোদী। ভোটের আগে তিনি বাংলার মানুষকে কী বার্তা দেন, সে দিকেও তাকিয়ে সবাই। সেই সঙ্গেই ব্রিগেডের মঞ্চে , অক্ষয় কুমারের মতো বলিউডের তারকাদের হাজির করিয়েও চমক দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তার পাল্টা প্রায় একই সময়ে রান্নার গ্যাস ও পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে মহামিছিল করতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়ির মল্লাগুড়ি থেকে হাসমিচক পর্যন্ত হবে মিছিল। সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই দিনটি বাংলায় 'মেগা সানডে' হতে চলেছে। তবে বাংলা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপালেও মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কে, সেই বিষয়টি এখনও ঝুলিয়েই রেখেছেন মোদী-অমিত শাহরা। ব্রিগেডের সভায় মিঠুন উপস্থিত থাকবেন বলে শনিবার আগাম জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কিন্তু আসন্ন ভোটে মিঠুনের কী ভূমিকা হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। বঙ্গ বিজেপির নেতারা দাবি করছেন, ব্রিগেডে জনপ্রিয় অভিনেতা অক্ষয় কুমারকেও দেখা যাবে। অক্ষয়ের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর অনেক দিনের সুসম্পর্ক। গত লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মোদীর একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এই অক্ষয়ই। তাই অক্ষয়ের ব্রিগেডে উপস্থিতির সঙ্গে বাংলার ভোটের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বোঝাও দায়। সে ক্ষেত্রে সমাবেশের জৌলুস বাড়াতেই তারকাদের আনা কি না, সে চর্চা রয়েছে। বস্তুত ব্রিগেড ভরাতে চেষ্টার কোনও খামতি রাখছে না বিজেপি। শনিবার বিকেলে ব্রিগেড সভাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, মঞ্চ বাঁধার কাজ শেষ হলেও চলছে শেষ পর্বের প্রস্তুতি। বিশাল ফোল্ডিং হ্যাঙ্গার দিয়ে তৈরি হয়েছে ৭২ বাই ৪৮ ফুটের মূল মঞ্চ। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও থাকবেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস, শিবপ্রকাশ, অরবিন্দ মেনন, অমিত মালব্য, রাজ্যের দুই সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, দেবশ্রী চৌধুরী ছাড়াও দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রা। থাকতে পারেন আরও কয়েক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। মূল মঞ্চের দু'পাশে থাকবে ৪৮ বাই ২৪ ফুটের আরও দু'টি মঞ্চ। এর একটিতে রাজ্য নেতৃত্ব, জেলা পর্যবেক্ষক, জেলা সভাপতিরা থাকবেন। আর দলে যোগ দেওয়া সেলিব্রিটিরা থাকবেন অন্যটিতে। বক্তারা যেখানে বসবেন তার পিছনেই থাকবে বিশাল এলইডি স্ক্রিন। কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেও বসছে জায়ান্ট স্ক্রিন। সেখানেও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনা যাবে। গোটা সভাস্থল সিসিটিভিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা কলকাতায় আসতে শুরু করেছেন। তাঁদের বিভিন্ন হোটেল, ধর্মশালা এবং সরকারি অতিথিশালায় রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনেও খোলা হয়েছে শিবির। শনিবার রাতেই হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছেন কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। তার আগে দুপুরে ব্রিগেড পরিদর্শনের সময়ে কৈলাস সাংবাদিকদের জানান, ঐতিহাসিক সভা হতে যাচ্ছে, যা বাংলার মানুষ আগে কখনও দেখেনি। শহরে অন্য একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েও কৈলাস বলেন, 'মিঠুনদার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন উনি। এখন এর বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না।' ব্রিগেড সভায় তারকাদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে কৈলাস বলেন, 'দেশ এবং দুনিয়ার সব থেকে বড় তারকা নরেন্দ্র মোদী। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। মোদীজিই সবচেয়ে বড় তারকা। বাকি সকলে জনতা। ব্রিগেডের মঞ্চে দলের তাবড় নেতা উপস্থিত থাকলেও সবাই মোদীর পিছনেই বসবেন।' তবে এত তারকার ভিড়েও বঙ্গসন্তান মিঠুনকে নিয়ে জল্পনাটা এই ভোট-বাজারে স্বভাবতই বেশি। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি মুম্বইয়ের মাড আইল্যান্ডের বাড়িতে মিঠুনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন স্বয়ং সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত। যদিও সেই সময় মিঠুন সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, 'রাজনৈতিক কারণে নয়, ভাগবতের সঙ্গে তাঁর 'আধ্যাত্মিক' যোগ রয়েছে।' তার পরেও ঠিক কী কারণে একদা তৃণমূল সাংসদ মিঠুন রবিবার মোদীর ব্রিগেডে হাজির হতে চলেছেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। বিজেপির দাবি, ব্রিগেডে ১০ লক্ষের উপর লোক আসবে। কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং দুই বর্ধমান থেকে কয়েক লক্ষ লোক আসবেন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রচুর কর্মী-সমর্থক আসবেন। দূরবর্তী জেলার লোকেরা ট্রেনে আসবেন। কলকাতার আশপাশের জেলা থেকে বাস, ম্যাটাডোর, প্রাইভেট কারে সমর্থকরা আসবেন। ব্রিগেড সভার প্রচারে সারা রাজ্যে কয়েকশো সভা করেছে বিজেপি। বাড়ি-বাড়ি আমন্ত্রণপত্রও বিলি করা হয়েছে। শনিবার ভবানীপুর-কালীঘাটে আমন্ত্রণপত্র বিলি করতে গিয়েছিলেন স্বয়ং কৈলাসও। সব চেষ্টা কতটা কাজে দিল, তা আজই বোঝা যাবে।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3egFvNe
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads