শহরে অন্তরালে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সদর দপ্তর https://ift.tt/3cPOVyz - MAS News bengali

শহরে অন্তরালে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সদর দপ্তর https://ift.tt/3cPOVyz

এই সময়: চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, একাধিক মন্ত্রী বসতেন। থিয়েটার রোড, অধুনা শেক্সপিয়র সরণির বাড়িটির আরও এক মহার্ঘ পরিচয়, এখানেই জন্মেছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিময় ব্যক্তিত্ব অরবিন্দ ঘোষ। চলতি বছর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সে দেশের প্রথম সরকারের আসন হিসাবে শেক্সপিয়র সরণির বাড়িটি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্য মাত্রা পেয়েছে। অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের জেলে বন্দি। ১৯৭১-এর ১৭ এপ্রিল বর্তমান বাংলাদেশের মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার গঠনের পর তার সদর দপ্তর কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। শেক্সপিয়র সরণির এই বাড়িতে বসতেন সেই সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি তথা কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের প্রেস সচিব মোফাকখারুল ইকবাল জানান, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজ্য সরকারের কাছে ওই বাড়িটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের স্মারক হিসাবে রক্ষণাবেক্ষণের আর্জি জানিয়েছিলেন। ইকবাল বলেন, 'ওই ভবনটিতে বেশ কিছুটা জমিও আছে। তা যদি রাজ্য সরকার আমাদের দেয়, সেখানে আমরা একটি ভবন বানাতে চাই।' অরবিন্দ ভবনের ট্রাস্টের সদস্য ও পেশায় আইনজীবী কল্যাণ সর্বজ্ঞের কাছে জানা গেল বাড়িটির বিস্তারিত ইতিহাস। অরবিন্দের বাবা কৃষ্ণধন ঘোষ ছিলেন পেশায় চিকিৎসক। তিনি রংপুরে অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ব্রাহ্মসমাজের সদস্য কৃষ্ণধন পরে খুলনার সিভিল সার্জন হন। রংপুরে থাকার সময় তাঁর স্ত্রী স্বর্ণলতা সন্তানসম্ভবা হন। তখন কৃষ্ণধন স্বর্ণলতাকে তাঁর বন্ধু মনোমোহন ঘোষের থিয়েটার রোডের বাড়িতে নিয়ে আসেন। ১৮৭২ সালের ১৫ অগস্ট অরবিন্দের জন্ম এই বাড়িতেই। কল্যাণ বলেন, 'এক সময় কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে ছিল এই বাড়ি। পরে মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানরা বসতেন। আমরা বাড়িটি পেয়েছিলাম তারও পরে, ১৯৭২ সালের অগস্টে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে আর্জি জানানোর পর একটি ট্রাস্ট গঠিত হয়। তারাই অরবিন্দ ভবনের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। ট্রাস্টে রাজ্য সরকারের আধিকারিকরাও রয়েছেন।' তবে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের প্রথম ঠিকানা এই বাড়িতে সেই উত্তাল সময়ের কোনও স্মারকের হদিস ট্রাস্টের কাছে নেই বলেই কল্যাণ জানিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যা, 'বাড়িটি অনেক বারই হাতবদল হয়েছে। আর আমরা যখন প্রাথমিক ভাবে দু'টি ঘর পেয়ে এখানে এসেছিলাম, তখন আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের অফিস ছিল। সে ভাবে পুরনো কোনও নথি, ছবি বা স্মারকের সন্ধান আমরা পাইনি।' ১৯৭২-এর ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সর্বকালীন রেকর্ড ভিড়ে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক জনসভা। উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও। আজ, শনিবার ৬ ফেব্রুয়ারি ৫০ বছর পর ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি ও বঙ্গবন্ধুর ১০০ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ জনসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুক্রবার থেকে নন্দনে শুরু হয়েছে তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব ও অ্যাকাডেমিতে 'বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ' শিরোনামে বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী। এত কিছুর মধ্যেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের এক বিশেষ স্মারক শেক্সপিয়র সরণির বাড়িটি যেন রয়ে গিয়েছে খানিক নিভৃতেই।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2MuZ7lv
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads