অনীহা প্রবীণদের, ব্রিগেডে তবু কানহাইয়াকেই চান নবীনরা https://ift.tt/3aCSNlf - MAS News bengali

অনীহা প্রবীণদের, ব্রিগেডে তবু কানহাইয়াকেই চান নবীনরা https://ift.tt/3aCSNlf

রূপসা ঘোষাল, এই সময় ডিজিটাল বেশ কিছুদিন পর আবার তিনি খবরে। JD(U) নেতা তথা বিহারের মন্ত্রী অশোক চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে ফের বিতর্কে জড়িয়েছেন বাম নেতা কানহাইয়া কুমার ()। বছর ছয়েক আগে তাঁকে ঘিরেই জন সমর্থনের দৈন্য দশা কাটার স্বপ্ন দেখেছিল বাম নেতৃত্ব। তবে একের পর এক ‘দলবিরোধী’ কাজ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই নেতাকে কোণঠাসা করে দিয়েছে। এরই মধ্যে তাঁকে ব্রিগেড সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে আড়াআড়ি বিভক্ত CPI-এর বঙ্গ শিবির। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাম-কংগ্রেস জোটের যৌথ ব্রিগেড ( Brigade)। কিন্তু, এবারের ব্রিগেডের মুখ কে? এখনও সংশয়ে বামফ্রন্ট। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উপস্থিতির কোনও সম্ভাবনা নেই। রাহুল গান্ধীর আসার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এই আকালে কার গলার শিরা ফোলানো জ্বালাময়ী ভাষণ বাম কর্মী-সমর্থকদের অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থিতে জোয়ার আনবে? কার দেখানো স্বপ্নে বিভোর হয়ে BJP-তৃণমূলকে দেখে নেওয়ার শপথ নেবেন ছাত্র-যুবরা? প্রশ্ন আছে, উত্তর নেই। এদিকে CPI-এর অন্দরমহলে নাকি ধুতি আর সাদা চুলের নেতার বদলে কানহাইয়া কুমারের আগুনে ভাষণ শোনার আব্দার জমা পড়েছে। শোনা যাচ্ছে, দলের ছাত্র সংগঠনের তরফে কানহাইয়াকে আনার জোরাল দাবি উঠেছে। তবে নিমরাজি পক্ককেশী নেতারা। তাঁদের দাবি, বিহারের নেতা বাংলার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ততটা ওয়াকিবহাল নন। দলের ছাত্র সংগঠন AISF-এর রাজ্য সম্পাদক সৈকত গিরির কথায়, ‘কানহাইয়া আসা মানেই বাড়তি অক্সিজেন। বাড়তি অ্যাডভান্টেজও বটে। আমরা তাঁকে চাই। তবে কিংবা CPI(M)-এর একক সিদ্ধান্তে তো কিছু হয় না। বামফ্রন্টের বৈঠকে বক্তাদের তালিকা চূড়ান্ত হবে।‘ এদিকে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কানহাইয়া কুমার, ঐশী ঘোষের মতো তরুণ নেতাদের সমর্থনে পোস্টার পড়তে শুরু করেছে। নবীন সমর্থকরা এই দু’জনকে বক্তা হিসেবে চেয়ে লম্বা চওড়া পোস্ট করছেন। দাবি যাই উঠুক কানহাইয়াকে নিয়ে দলের প্রবীণ নেতৃত্ব সন্তুষ্ট নয়। পড়শি রাজ্য তথা কানহাইয়ার জন্মস্থান বিহারেও দলীয় নেতারা অসন্তুষ্ট। তার উপর সম্প্রতি বিহারের মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক ফায়ারব্র্যান্ড এই প্রাক্তন ছাত্রনেতাকে দলে আরও কোণঠাসা করেছে। CPI-র রাজ্য সম্পাদক শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই তা স্পষ্ট। কতকটা যেন তাচ্ছিল্যের সুরেই তিনি বললেন, ‘কানহাইয়া এলে আসবেন...।’ বিহারে CPI-এর মুখপত্রর দফতরে ভাঙচুর চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দলের নেতা ইন্দু ভূষণকে মারধরের ঘটনাতেও কাঠগড়ায় তিনি। এছাড়া ভাষণে CPI-কে ‘কনফিউশন পার্টি অব ইন্ডিয়া’ বলে কটাক্ষ করায় চটে লাল দলীয় নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে তাঁকে সতর্ক করে সেন্সর করেছে জাতীয় পরিষদ। তরুণ নেতার জবাবও দলের সর্বোচ্চ কমিটিতে গৃহীত হয়নি। দলের নিদানে আপাতত ছ’মাস কার্যত নির্বাসনে কানহাইয়া। দলীয় নজরদারির মধ্য়েই কাজ করতে হবে তাঁকে। জাতীয় পরিষদে পাশ করিয়ে নিতে হবে তাঁর বক্তৃতার বয়ান। যদিও সৈকত গিরির কথায়, ‘কানহাইয়ার বক্তব্য তো কেউ ঠিক করে দিতে পারেন না। কিন্তু, পার্টি লাইন মেনেই তাঁকে বক্তব্য রাখতে হবে।’ ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে ব্রিগেডে আসতে পারেননি কানহাইয়া। এই নিয়ে দলের রাজ্য পরিষদে এখনও অসন্তোষ রয়েছে। জাতীয় পরিষদের বৈঠকে কানহাইয়ার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ১০৭ জন সদস্য। বাকি তিনজন দাবি করেছিলেন কানহাইয়াকে ভর্ৎসনা করে ছেড়ে দেওয়া হোক। ওই চারজনের মধ্যে ছিলেন রাজ্য পরিষদের নেতা প্রবীর দেবও। তাঁর কথায়, ‘কানহাইয়া কুমারের মতো সুবক্তাকে ব্রিগেডে প্রয়োজন রয়েছে। আমরা অবশ্যই ব্রিগেডে তাঁকে চাই। সেই চেষ্টাই থাকবে।’ তবে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য না রাখলে কানহাইয়াকে নিয়ে ভাবনাচিন্তাই করতে নারাজ প্রবীণ নেতৃত্ব। গতবার তৃণমূল নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ দলের মধ্যেই বিরূপ মনোভাব তৈরি করেছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরাগভাজন কানহাইয়ার বিষয়ে রাজ্যের CPI নেতারা ঠারেঠোরে বিতৃষ্ণাই ব্যক্ত করছেন। ফলে ব্রিগেডে তাঁর আসার সম্ভাবনা কার্যত নেই। যতই ছাত্র-যুবরা আওয়াজ তুলুন, ইতিহাস সাক্ষী, বাম দলগুলিতে শেষ রাতে ওস্তাদের মার দেন পক্ককেশীরাই। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট ।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3dqDc9X
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads