Bangla News: বেঙ্গলি খবর
Breaking News In Bengali
Latest News in Bengali
সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2Lfzrs8
রাত বাড়তেই নিয়ম ভেঙে বেলাগাম শহর, দেদার বাজির দূষণ আর ডিজে-র হুল্লোড় https://ift.tt/3o3P8RG
এই সময়: ভালো লাগছে না রে তোপসে! ঘটনা ১: মাস্কটা থুতনিতে ঝুলিয়ে পার্ক স্ট্রিটের রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটছিলেন তরুণী। পুলিশকে সামনে দেখে মাস্কে নাক ঢাকল ঠিকই, তবে 'পুলিশকাকু' অন্য দিকে যেতেই তরুণী আবার মাস্ক খুলে আলো ঝলমলে পার্ক স্ট্রিটে মেতে উঠলেন সেলফিতে! ঘটনা ২: রাত বারোটা বাজতেই করোনা-বিষাক্ত ২০২০-কে বিদায় জানাতে ফাটতে শুরু করল দেদার শব্দবাজি। কান ঝালাপালা শহর-শহরতলির বাসিন্দাদের, বাজির দূষণেও হাঁফ ধরল অনেকের। শব্দদানবের তাণ্ডব শুনে হতভম্ব পুলিশকর্তারাও বলছিলেন, এত বাজি তো এ বার কালীপুজোতেও ফাটেনি! আসলে এগুলো সব কালীপুজো-দিওয়ালিরই জমিয়ে রাখা মাল! বড়দিনে নাগরিকদের একাংশের করোনাবিধিকে ডোন্ট-কেয়ার মনোভাব চিন্তা বাড়িয়েছিল পুলিশ-প্রশাসন থেকে চিকিৎসকদের। ভিড় দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল আদালতও। বর্ষশেষে উৎসবের জেরে যাতে করোনার গ্রাফ কোনও ভাবেই ঊর্ধ্বমুখী না-হয়, সে জন্য দেশের সব রাজ্যকে প্রয়োজনে নাইট কার্ফু জারির প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবশ্য নাইট কার্ফু না-করে ভরসা রেখেছিল নাগরিকদের সচেতনতা এবং প্রশাসনের বাড়তি তৎপরতার উপর। তাতে বর্ষশেষের দিনের বেলায় কাজও হয়েছিল অনেকটা। পার্ক স্ট্রিট থেকে চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে নিকো পার্ক- বড়দিনের বাঁধনহারা ভিড়ে লাগাম পড়েছিল অনেকটাই। যাঁরা রাস্তায় বেরিয়েছেন, তাঁরাও যাতে মাস্ক-স্যানিটাইজার-শারীরিক দূরত্ববিধির সতর্কতা মেনে চলেন, তার জন্য লাগাতার প্রচার চালিয়েছে পুলিশ, মাস্ক বিলিও করেছেন পুলিশকর্মীরা। কিন্তু তাঁদেরও সেই চেষ্টায় জল ঢেলে দিল কিছু মানুষের বিন্দুমাত্র সতর্কতা না-মেনে হুল্লোড়-মোচ্ছবে মেতে ওঠার মানসিকতা। শুধু কী তাই! রাত বাড়তেই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়াল শব্দবাজি। সঙ্গে ডিজে মাইক বাজিয়ে উদ্দাম নাচের দাপট, যেখানে শিকেয় উঠল শারীরিক দূরত্ব, মাস্কও গেল খসে। যে ভাবে কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাজির তাণ্ডব চলল শীতের শহরে, তাতে রীতিমতো আশঙ্কিত ডাক্তাররা। বাজির দূষণে কষ্ট বাড়বে কোভিড রোগীদের, এমনকী সুস্থ মানুষরাও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এই আশঙ্কা থেকেই এ বার কালীপুজো-দিওয়ালিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল সব ধরনের বাজিতে। সেই সংযম ভেঙে গেল বৃহস্পতিবার রাতে, বাড়ল উদ্বেগও। পুলিশ-প্রশাসন সম্ভবত ভিড়ের বিষয়টি মাথায় রাখলেও এই বিষয়টি ততটা ধর্তব্যের মধ্যে রাখেনি। ফলে আলাদা করে পুলিশ-পর্ষদের নজরদারিও ছিল না বাজি রুখতে। অবস্থা যা দাঁড়াল, তাতে অনেকেই বলছেন, কেন্দ্রের পরামর্শ মেনে দিল্লি-মুম্বই-চেন্নাই-বেঙ্গালুরুর মতো কলকাতাতেও নাইট কার্ফু করলেই ভালো হতো। ভিড় নিয়ন্ত্রণে দেশের রাজধানীতে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্ফু ছিল। আজ, শুক্রবার ১ জানুয়ারি রাত ১১টা থেকে আগামিকাল সকাল ৬টা পর্যন্তও কার্ফু থাকবে। বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে বুধবারই রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করেছে উদ্ধব ঠাকরের সরকার। তা বাদে, সমস্ত মিউনিসিপ্যাল এলাকাতে আগে থেকেই 'নাইট কার্ফু' জারি করা রয়েছে। বেঙ্গালুরুতে যে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধে ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে, সে কথা সোমবারই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই। চেন্নাইয়ে ৩১ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি, দু'দিনই প্রকাশ্যে জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে তামিলনাড়ু সরকার। বর্ষবরণের সমস্ত উৎসব যেন রাত দশটার মধ্যে শেষ হয়ে যায়, নয়া নির্দেশিকায় জানিয়েছিল কেরালা সরকারও। বাংলা অবশ্য এত কড়াকড়ির পথে হাঁটেনি। রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁরা সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আবেদন করছেন, যাতে তাঁরা শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়েই উৎসবে সামিল হন। দিনের বেলায় ছবিটা মোটের উপর ঠিকই ছিল। এদিন ইকো পার্কে পা রেখেছিলেন প্রায় ২২ হাজার নাগরিক, যা বড়দিনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। তবে এদিনও সেখানে ঢোকার সময় অনেকের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও, ভিতরে ঢুকতেই সেই মাস্ক চলে গিয়েছে থুতনিতে বা মুখে। পার্ক স্ট্রিটেও বড়দিনের তুলনায় বর্ষশেষের রাতে আট থেকে আশির ভিড় ছিল কিছুটা কম। তবে এর মধ্যেও মাস্ক খুলে এবং দূরত্ববিধি ভুলে সেলফি তোলার হিড়িকে সামিল হওয়ার ছবি ধরা পড়েছে। যা আরও বাড়ল রাত বাড়তেই। এ জন্যই বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ রকম কয়েকজনের মুহূর্তের ভুলই না নতুন বছরে আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অরুণাভ চক্রবর্তীর বিস্ময়, 'নাগরিকদের একাংশের এই আচরণ সত্যিই আমাকে অবাক করছে।' চিকিৎসক অংশুমান মুখোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, 'পুলিশ যতই চেষ্টা করুক, নাগরিকরা সচেতন না-হলে সামনে সমূহ বিপদ।' কলকাতার পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলছেন, 'উৎসবে সামিল হোন, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু, সর্বদা মাস্ক পরুন, মেনে চলুন দূরত্ববিধি। নিয়ম না-মানলে আপনি একা নন, অনেকেই বিপদে পড়বেন।' মধ্যরাতে পার্ক স্ট্রিটে কত ভিড় হতে পারে, তার কোনও আন্দাজ না-থাকলেও পুলিশি বন্দোবস্তে কমতি ছিল না। ডিসি ডিডি (স্পেশ্যাল)-সহ ৯ জন ডিসির আওতায় পার্ক স্ট্রিটকে পাঁচটা সেক্টরে ভাগ করে ভিড় ও যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রাখা হয়েছিল কুইক রেসপন্স টিম। আজ, শুক্রবার বছরের প্রথম দিনেও থাকবে এই নজরদারি। পাশাপাশি উচ্ছৃঙ্খলতা ও অপরাধ রুখতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর তিনটে পর্যন্ত বিভাগীয় ডিসিদের নেতৃত্বে চালানো হয় 'ব্লক রেইড'ও। তাতে কাজ হল কতটা, তা পুলিশের তথ্য বলবে। আপাতত দেখা গেল, করোনা শিয়রে থাকলেও সতর্কতা অনেকটাই শিকেয়! এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। -
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2Lfzrs8
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment