ছ'বছর জেলে কাটিয়ে ওডিশা হাইকোর্টে জামিন মাওবাদী নেতার https://ift.tt/34ZHvEs - MAS News bengali

ছ'বছর জেলে কাটিয়ে ওডিশা হাইকোর্টে জামিন মাওবাদী নেতার https://ift.tt/34ZHvEs

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ছ'বছর কারাভোগ করে জামিনে জেলের বাইরে বেরোতে চলেছেন ওডিশার এক নেতা। বুধবার ওডিশা হাইকোর্ট ওই মাওবাদী নেতার জামিন মঞ্জুর করে। নামে ওডিশার এই মাওবাদী নেতার জামিনের বিষয়টি অনেক দিন ধরেই ঝুলে ছিল। সম্প্রতি ওই মাওবাদী নেতার আইনজীবী শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে, সুপ্রিম কোর্ট জামিনের আবেদনের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলে গত সপ্তাহেই হাইকোর্টে নির্দেশ দেয়। তার পরেই বুধবার ওডিশা হাইকোর্টের এই রায়। বুধবার ওডিশা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি একে মিশ্রা ৪৭ বছর বয়সি মাওবাদী নেতা নচিকা লিঙ্গার জামিন মঞ্জুর করেন। এই মাওবাদী নেতার আইনজীবী প্রশান্ত জেনা জানিয়েছেন, হাইকোর্ট জামিনের জন্য কোনও শর্ত আরোপ করেনি। কোরাপুট ট্রায়াল কোর্টের উপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে। কোরাপুট কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ কার্যকর করার পরেই জেলের বাইরে পা রাখবেন নচিকা । জেলে যাওয়ার আগে ওডিশার কোরাপুট জেলায় 'চাষি মুলিয়া আদিবাসী সংঘ'র নেতৃত্ব দিতেন লিঙ্গা। সিপিআই-মাওবাদীদের এটি একটি সংগঠন। ওডিশার নারায়ণপটনা ও বন্ধুগাঁও ব্লকে সংক্রিয় ছিল মাওবাদীদের এই সংগঠনটি। ২০১৪ সালে নিজের গ্রাম পোড়াপড়ার কাছে ওডিশা পুলিশের হাতে ধরা দেন এই মাওবাদী নেতা। লিঙ্গার আত্মসমর্পণে মাওবাদীরা তাঁর উপর ক্ষুব্ধ হন। বিজু জনতা দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি আধিবাসী আন্দোলন দুর্বল করে দিতে চাইছেন বলে অভিযোগ করা হয়। নারায়ণপটনার মজদুর লিঙ্গা ২০০৬ সালে গড়ে তোলেন 'চাষি মুলিয়া আদিবাসী সংঘ'। কোরাপুটের নারায়ণপটনা ব্লকে পড়াপড়র গ্রাম পঞ্চায়েতে আদিবাসীদের জমি নয় এমন ৫০ একর জমির দখল নেন। এর পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মাওবাদী হিসেবে দেগে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়। আরও পড়ুন: ২০০৮ সালে তাঁকে যাবতীয় অভিযোগ থেকে খালাস করা হয়। এর পর চাষি মুলিয়া আদিবাসী সংঘের কয়েক জনকে সঙ্গে তৈরি করেন আর একটি সংগঠন। যার নাম দেন ঘেনুয়া বাহিনী। লাল জামা পরে তির-ধনুক নিয়ে ঘুরত এই বাহিনী। ঘেনুয়া বাহিনীর কাজ ছিল আদিবাসী নয় এমন লোকেদের জমিজমা, সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া। এই ঘেনুয়া বাহিনীর অত্যাচারে অনেকেই নিরাশ্রয় হয়ে পড়েন। পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা হতে থাকে। ২০০৯ সালে নারায়ণপটনা থানায় সশস্ত্র হামলা চালায় লিঙ্গার বাহিনী। বাধ্য হয়ে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। নিহত হয় দুই আদিবাসী। পুলিশের এক ইনস্পেক্টর গুরুতর জখম হন। এই ঘটনার পরেই পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি হয়ে ওঠেন এই মাওবাদী নেতা। আরও পড়ুন: মাওবাদীদের সাহায্য নিয়ে নারায়ণপটনা ব্লককে মাওবাদীদের দুর্গে পরিণত করে ফেলেছিলেন লিঙ্গা। তিন বছর এই ব্লকটিকে দখলে রেখেছিল মাওবাদীরা। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৪৫টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ৪৪টি মামলা থেকে ইতিমধ্যেই নিষ্কৃতি পেয়েছেন। নারায়ণপটনা থানায় হামলার মামলাটি খালি চলছে। লিঙ্গার আইনজীবী প্রশান্ত জেনা জানান, ২০১৮-য় ওডিশা হাইকোর্টে তিনি লিঙ্গার জামিনের আবেদন করেছিলেন। আবেদন খারিজ হলে, ২০১৯ সাল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মার্চে সুপ্রিম অ্যাপেক্স কোর্ট কোরাপুটের ট্রায়াল কোর্টকে ছ-সপ্তাহের মধ্যে নারায়ণপটনা মামলার শুনানি শেষ করার নির্দেশ দেয়। তা না পারলে অভিযুক্তকে জামিন দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ে ট্রায়াল কোর্ট শুনানি শেষ করতে না পারায়, ফের সুপ্রিম দ্বারস্থ হন লিঙ্গার আইনজীবী। ২৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টকে মাওবাদী নেতার জামিনের শুনানির জন্য ওডিশা হাইকোর্টকে নির্দেশ দেয়। তার ভিত্তিতেই হাইকোর্টের এই রায়। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। ।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2JxvT3j
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads