Bangla News Live
Bengali News
Current News in Bengali
আজকের বাংলা খবর
কলকাতা বাংলা খবর - এই সময়
বাংলা নিউজ
from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/RPr1N5u
নক আউটের অভিশাপ মুক্তির সামনে ভারত https://ift.tt/DWY82bE
সব্যসাচী সরকার অ্যাডিলেড সিডনিতে জয়ের সঙ্গে সঙ্গে ফোনে ঢুকল পরিচিত পাক সাংবাদিকের বার্তা- 'ইনশা আল্লা, উই হ্যাভ মেড ইট। ইউ ক্যান ডু ইট টু! সুপার সানডে অ্যাট এমসিজি!' আগামী রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর একটা ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের সম্ভাবনায় ক্রিকেটপ্রেমীরা রক্তচাপ বাড়াতে পারেন, কিন্তু ঘটনা হল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হার-জিতের হিসেব একেবারেই আবেগের অঙ্কে চলে না। ভারত-পাক হতেই পারে রবিবার, তার আগে আজ শুক্রবার অ্যান্ড কোংকে জিততে হবে আইসিসি ক্রমপর্যায়ে দুই নম্বরে থাকা টিম ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। অ্যাডিলেডের টিম হোটেলে টিভির সামনে বসে পাকিস্তান-নিউ জিল্যান্ড অবশ্যই দেখেছে টিমের থিঙ্কট্যাঙ্ক। সোজা কথা, সিডনিতে বাবরের টিমের পারফরম্যান্স দেখে উদ্দীপ্ত হতে পারেন রোহিতরা। গোটা টুর্নামেন্টে রান নেই, কিন্তু সেমিফাইনালে বাবর ঠিক ৪২ বলে ৫৩ রানের অমূল্য ইনিংসটা খেলে দিলেন। সঙ্গে রিজওয়ানের ৪৩ বলে ৫৭। অনায়াসে হাসতে হাসতে ১৫৩ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তান, যাঁদের টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যাওয়ার কথা ছিল একটা সময়ে। ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যে ওয়াকার ইউনিসকে বলতে শুনলাম, 'এই হচ্ছে ক্যাপ্টেন। আসল ম্যাচে ঠিক খেলে দিল। গোটা টিমের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। এখন এই পাকিস্তানকে হারানো কঠিন।' ওয়াকারের বাণী ভুলে নীল জার্সির দিকে তাকাই। আইসিসি ক্রমপর্যায়ে এক নম্বর টিম এবং প্রত্যাশার পারদ আকাশছোঁয়া বলেই চাপ বেশি। সঙ্গে দোসর বিশ্বকাপে বা আইসিসি টুর্নামেন্টে নক আউটে ধারাবাহিক ব্যর্থতার ইতিহাস। গোটা টুর্নামেন্টে ভালো খেলে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ডুবে যাওয়ার গল্প একেবারে দগদগে ঘায়ের মতো গত এক দশক ধরে থেকেছে টিম ইন্ডিয়ার সঙ্গে। আজ অ্যাডিলেড ওভালে টস করতে নামার সময় রোহিত শর্মার মাথায় ইতিহাস থাকবে না, প্রত্যাশিত। আগে কী হয়েছিল ভেবে কোনও টিমই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নামে না। এই টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত ভাগ্য ভারতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। বেশ কিছু টিমকে যখন বৃষ্টির জন্য পয়েন্ট খোয়াতে হয়েছে, সেখানে পাঁচটা ম্যাচেই মাঠে ফলাফল পেয়েছেন রোহিতরা। ব্যাটারদের মধ্যে বিরাট প্রতিভার বিস্ফোরণ আর সূর্যকুমারের অবিশ্বাস্য স্কিল যেমন ক্রিকেট দুনিয়াকে বিস্ময়াবিষ্ট করেছে, তেমনই বুমরার অনুপস্থিতি ঢেকে দিয়ে এই বিশ্বকাপে নিজেকে টিমের এক নম্বর ম্যাচ উইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন অর্শদীপ সিং। দেরিতে হলেও রানে ফিরেছেন ওপেনার রাহুল, কিন্তু ক্যাপ্টেন রোহিত এখনও বড় স্কোরের অপেক্ষায়। ক্যাপ্টেনের ব্যাটে সেমিফাইনালে একটা বড় ইনিংস টিমকে অনেকটাই চাপমুক্ত রাখতে পারে। গত মঙ্গলবার প্র্যাক্টিসে পাওয়া চোট একেবারেই গুরুতর নয়, নিজেই বলছেন। 'আমি ঠিক আছি। টিমের সবাই ফিট,' অ্যাডিলেড ওভালে রোহিতকে ফুরফুরে লাগছিল। গোটা টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ বাদ দিলে বাকি চার ম্যাচে মোক্ষম সময়ে নার্ভ সামলে রাখার পরীক্ষায় সসম্মানে লেটার মার্কস তুলেছে টিম। কিন্তু আসল পরীক্ষা বিশ্বকাপের এই শেষ সপ্তাহে। এই সেই মুহূর্ত, যখন সব প্রস্তুতি, সব স্ট্র্যাটেজি, সব রকম পরিশ্রমের বিচার হবে মাত্র দুটো ম্যাচে। যদি হারতে হয়, সারা বছরে বা টুর্নামেন্টে আগে টিম কী করেছে, কেউ মনে রাখবে না। আবার জয় মানে বিশ্বকাপ থাকবে আর এক ধাপ দূরে। এখানে সাফল্যের একটাই মন্ত্র। যা সব টিমের মেন্টাল কন্ডিশনিং কোচ বা মনোবিদরাই বলে থাকেন। 'কোনও ভাবেই যেন মাঠের নামার সময় 'ফফ' তোমাকে গ্রাস না করতে পারে।' 'ফফ' মানে ফিয়ার অফ ফেলিওর। ব্যর্থতার কথা আগাম ভেবে মনকে ভয়ে আচ্ছন্ন করা। এই ফফের হাত থেকে বাঁচার নানা উপায় ক্রীড়াবিদরা বেছে নেন। ম্যাথু হেডেন যেমন ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন মাছ ধরতে চলে গিয়েছিলেন। পাক সাংবাদিকের মুখে শুনলাম, সেমিফাইনালের আগে টিমকে টেনশন মুক্ত রাখতে নানা রকমের ইন্ডোর গেমস খেলার টোটকা বাবর-রিজওয়ানদের দিয়েছিলেন পাক টিমের ব্যাটিং কোচ হেডেন। ফল মিলল হাতে-নাতে। এই বিশ্বকাপে মেন্টাল কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে টিম ইন্ডিয়ার সঙ্গে আছেন প্যাডি আপটন। কোচ দ্রাবিড়ের ঘনিষ্ঠ আপটন নক আউটের ব্যর্থতা থেকে মুক্তির রাস্তা নিশ্চয়ই টিমকে বলেছেন। যা-ই বলুন, এতদিন মাঠে নেমে টিম যা করেছে, সেই একই কাজ আবার করতে পারাটাই জয়ের হাইওয়ে মসৃণ করে দিতে পারে। প্রথম এগারো নিয়ে একটা ধোঁয়াশা এখনও অব্যাহত। কিন্তু বুধবার নেটে দীর্ঘ সময় ক্রিজে কাটাতে দেখলাম ঋষভ পন্থকে। পরে কোচ দ্রাবিড়কেও দেখছিলাম, একান্তে ঋষভের সঙ্গে। এই কথোপকথন ঋষভকে প্রথম এগারোর দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। ইংল্যান্ডের লেগস্পিনার আদিল রশিদের বিরুদ্ধে বাঁ হাতি ঋষভ অ্যাডিলেডের ছোট মাঠে ভেল্কি দেখাতে পারেন বলেই ভাবা হচ্ছে। রিকি পন্টিং থেকে ইয়ান চ্যাপেল, সবার মত, ঋষভকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে না খেলালে সেটা বড় ভুল হবে। অক্ষর প্যাটেলের জায়গায় যুজবেন্দ্র চাহলকে কি ভাবা যায় না? ইংল্যান্ড ব্যাটারদের লেগস্পিনে দুর্বলতা কারও অজানা নয়। কিন্তু কোনও ম্যাচে না খেলিয়ে সেমিফাইনালে চাহলকে খেলানোর ঝুঁকি কি ভারত নেবে? অক্ষরের ব্যাটের হাত ভালো, এটা সব সময়েই তাঁকে এগিয়ে রেখেছে। আবার আর একটা থিয়োরি, কার্তিক-ঋষভ দু'জনকেই খেলানো। তা হলে অক্ষর-চাহল, দু'জনকেই বসতে হবে। হার্দিককে নিয়ে স্রেফ পাঁচ বোলার নিয়ে নামবে ভারত। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ রেকর্ড ভালো নয়। এই মাঠেই ২০১৫ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে ছিটকে গিয়েছিল তারা। ডাভিড মালানের পাশাপাশি টিমের প্রধান পেসার মার্ক উডের খেলা নিয়েও একটা প্রশ্নচিহ্ন আছে। দু'জনেই চোট পেয়েছেন। উডকে খেলানোর জন্য মরিয়া ইংল্যান্ড। ক্যাপ্টেন বাটলার বলে গেলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উডের অপেক্ষায় থাকবেন। উড না থাকলে খেলতে পারেন ডেভিড উইলি, টাইমাল মিলস বা ক্রিস জর্ডন। প্রায় নয় নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং শক্তি, বাটলার, হেলস, স্টোকস, কারানরা যে কোনও টার্গেট তাড়া করতে পারেন। এক বনাম দুইয়ের যুদ্ধ, এই ফর্ম্যাটে চিরকালীন বলে কিছু হয় না। বিশেষ দিনে বিশেষ পারফরম্যান্সই শেষ কথা। ডাগআউটে দ্রাবিড়, মাঠে ঠাণ্ডা মাথার রোহিত, নক আউটে ব্যর্থতার অভিশাপ মুক্তির এমন সুযোগ বারবার আসবে না।
from Bengali News, Bangla News Live, আজকের বাংলা খবর, Current News in Bengali, বাংলা নিউজ, কলকাতা বাংলা খবর - এই সময় https://ift.tt/RPr1N5u
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment