Bengali News: বাংলা সংবাদ
Breaking Bengali News
Latest Bangla News
Latest Bengali News | Eisamay
বাংলার আজকের খবর
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3nsBKbQ
কোভিড আবহে আমলাশোলের ছায়া নিয়ে ধুঁকছে শালবনির একাধিক গ্রাম https://ift.tt/3kQMv5W
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: এ যেন আমলাশোল, পূর্ণাপানির ছায়া! অপুষ্টির আঁধারে ডুবে রয়েছে শালবনির কোনিয়ারি ও গোলডহরি গ্রাম। জঙ্গলমহলের এই দুই গ্রাম থেকে গত কয়েক দিনে মিলেছে ৮ জন মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর হদিশ। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, করোনা আবহে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণেই গত দেড় বছরে সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে না শিশুরা। এ নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরেও। বছর কয়েক আগে অপুষ্টি আর অনাহারের ভয়ানক ছবি উঠে এসেছিল লালগড়ের পূর্ণপানি গ্রামে। অপুষ্টির করালগ্রাস কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা দেখিয়েছে বেলপাহাড়ির আমলাশোলও। এ বার অনেকটা একই ছবি দেখা যাচ্ছে শালবনির কোনিয়াড়ি ও গোলডহরি গ্রামে। জঙ্গলে ঘেরা পাশাপাশি এই দুই গ্রামে গত কয়েক দিনে খোঁজ মিলেছে ৮ জন মারাত্মক অপুষ্টি বা SAM (সিভিয়ার একিউট ম্যাল নিউট্রিশন) - এ আক্রান্ত শিশুর। শুধু এই ৮ জনই নয়। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী গ্রামের বেশির ভাগ শিশুই ভুগছে অপুষ্টিতে (মডারেট ম্যাল নিউট্রিশন)। মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগা ৮ শিশুর মধ্যে ২ জনকে শালবনির নিউট্রিশন রিহ্যাবিলেশান সেন্টারে ভর্তি করানো হয়েছে। বাকিরা এখনও বাড়িতে। কারণ শয্যার অভাব। ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাড়তি শয্যা না থাকায় ছ'জনকে এখনও চিকিৎসার আওতায় আনা যায়নি। ঘটনার কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন শালবনির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মনোজিত বিশ্বাস। শয্যার সমস্যার কারণে সকলকে হাসপাতালে ভর্তি করা যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন এমন অবস্থা? অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর পরিবার ও গ্রামবাসীদের দাবি, আগে নিয়ম করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে মিলত রান্না করা খিচুড়ি ও সুষম খাওয়ার। কোভিড অতিমারির প্রেক্ষিতে গত দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কখনও দু'মাস, কখনও আবার তিন মাস অন্তর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায় সরকার নির্ধারিত ২ কেজি চাল, ডাল, আলু, সোয়াবিন প্যাকেটের মতো খাদ্যসামগ্রী। দীর্ঘদিন অন্তর এই খাদ্যসামগ্রী দেওয়ায় শিশুদের মিলছে না সঠিক পুষ্টি। গ্রামবাসীদের এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারছেন না শালবনির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক। তবে তাঁর দাবি, শিশুদের এই অপুষ্টির জন্য অনেকাংশেই দায়ী অসচেতনতা। গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি সঠিক না হওয়ার কারণেই অনেক সময় শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে বলেও দাবি করেন শালবনির এই স্বাস্থ্যকর্তা। তাঁর দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কী কী করতে হবে তা নিয়ে এখনও সচেতনতা নেই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। তার ফলেই বাড়ছে সমস্যা। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে আশা কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও। এলাকার বাসিন্দারা অবশ্য দাবি করেছেন, লকডাউনে সে ভাবে আসতে পারেননি আশাদিদিরা। তবে শুধু শালবনির এই দু'টি গ্রাম নয়। কোভিড আবহে পরিস্থিতি এমনই যে উদ্বেগ বাড়ছে গোটা জেলার অপুষ্টি পরিসংখ্যান নিয়েও। সূত্রের খবর, পুজোর পর জেলাজুড়ে সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে জেলায় ১০ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। জেলায় বর্তমানে অপুষ্টিতে আক্রান্ত প্রায় ৩৫ হাজার শিশু। এদের মধ্যে মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত ৫৭৫ জন। জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (পঞ্চায়েত) কুহুক ভূষণ জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে জেলা প্রশাসনের তরফে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি খুললে সমস্যা অনেকটা মিটবে বলেও মানছেন জেলা প্রশাসনের এই আধিকারিক। সবমিলিয়ে জেলার অপুষ্টির এই চিত্র কবে বদলায় সেটাই এখন দেখার।
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3nsBKbQ
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment