Bengali News: বাংলা সংবাদ
Breaking Bengali News
Latest Bangla News
Latest Bengali News | Eisamay
বাংলার আজকের খবর
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3nzUUMR
মুখে হাসি, তবু উচ্ছ্বাসে রাশ টানছে গাজিপুর https://ift.tt/3DCPfez
অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় এক সাল সে ঝেল রহে হ্যায়/ ও মোদীজি... পহলে হি অগর মান যাতে! প্রচলিত লোকসঙ্গীতের সুরে এমন কথা বসিয়ে হাসিমুখে গান ধরেছেন কৃষক সুখবীর। অন্নদাতাদের দাবি আগেই মেনে নিলে এ হাল যে হতো না, সেটাই মর্মার্থ। শুক্রবার সকালবেলা প্রধানমন্ত্রীর তিনটি কৃষি বিল প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর দুপুরে দিল্লি-গাজিপুর সীমানায় তখন সংবাদমাধ্যমের থিকথিকে ভিড়। তার মধ্যেই চলছে আন্দোলনরত কৃষকদের মিষ্টিমুখ। তবে আনন্দের সঙ্গেই মিশে খানিক অবিশ্বাস। এঁদেরই একজন, কর্তার সিং হাতে জিলিপি নিয়ে বলছিলেন, 'এই সরকারের মনে এত রকম প্যাঁচ যে, যদ্দিন না সংসদে কৃষি বিল প্রত্যাহার হচ্ছে, আমরা এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না।' হয়তো এই সন্দেহের আবহের কারণেই গাজিপুরে উচ্ছ্বাসের ঢেউ যতটা আছড়ে পড়ার কথা, সেটা তটের আশপাশ ছুঁয়ে চলে যাচ্ছিল। কর্তব্যরত পুলিশ থেকে আন্দোলনরত কৃষক - একটা ছাইচাপা খুশি সবার মুখে ভাসমান। কিন্তু ওটুকুই। ২৬ নভেম্বর এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে আন্দোলনের। তার আগে আন্দোলনরত কৃষকদের কাছে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়াকে আন্দোলনের নৈতিক জয় হিসাবে দেখছেন ওঁরা। এই হাইওয়ের ওপর প্রতিবাদস্থলে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা কাটানো বছর সাতাশের যুবক এতদিন এই প্রতিবেদককে দেখলেই প্রশ্ন করতেন, 'ভাইসাহেব, আমাকে দেখে কি খালিস্তানি বা উগ্রপন্থী মনে হয়!' আজও এমন প্রশ্ন উঠল বৈকি। 'আমাদের এত অপমান করে, যন্ত্রণা দিয়ে, আজ যখন ভোটের আগে নিজেদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, তখন এসেছেন সহানুভূতি দেখাতে?' বোঝা গেল, এখানেই আটকে আছে যাবতীয় উচ্ছ্বাস আর উন্মাদনা। সাহিবাবাদ থেকে গুরমিত, সুখপ্রীত তাদের ছোট ছেলেমেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন কৃষকদের আনন্দে সামিল হতে। বলছিলেন, 'বাবা উত্তরপ্রদেশে এখনও চাষ করেন। অথচ ক'মাস আগে বন্ধুর বাড়ির পার্টিতে আমাদের শুনতে হয়েছিল, জিনস পরে, পিৎজা-বিরিয়ানি খেয়ে কীসের !' মনে এখনও দগদগ করছে আন্দোলনজীবী, খলিস্তানি, ভুয়ো কৃষক- এই শব্দগুলো। গত ২৬ জানুয়ারি দিল্লির লালকেল্লার বিতর্কিত অধ্যায়ের তকমা ঘাড়ে নিয়েও ঠিক তার ৩ দিন বাদে রাকেশ টিকায়েতের চোখের জলের অবিশ্বাস্য ফাইট ব্যাকও কোনও কৃষকের মনে বিশ্বাস জাগাতে পারেনি যে খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজে ওই তিন বিতর্কিত আইন রদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন। পরবেশ গুজ্জর লাড্ডু খেতে খেতে তাই বললেন, 'আমরা হঠাৎ খলিস্তানি, পাকিস্তানি, জঙ্গি থেকে দেশভক্ত হয়ে গেছি জেনে খুবই আনন্দ হচ্ছে। কিন্তু খাতায়কলমে সব প্রত্যাহার হোক। তার পরেই সংযুক্ত কিষান মোর্চা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা কী করব।' এরই মধ্যে হঠাৎ পাকোড়া লঙ্গর থেকে সত্তরোর্ধ হরপ্রীত বলতে লাগলেন 'এখনও অনেক লড়াই বাকি। আসুক গরম ভাত, রুটি ছোলে তৈরি। খেয়ে নিন।' তার মধ্যেই দুটো ট্র্যাক্টরে তিরঙ্গা ঝান্ডা পুতে একদল তরুণ চলে এলেন। সঙ্গে স্লোগান, 'যো বলে সো নিহাল...।' শুক্রবার বিকেলে সীমান্তের চারিদিক ধোঁয়াশায় ভরা। মেঘ-সূর্যের সঙ্গে দূষণের লুকোচুরির মধ্যেই ইতিহাস তৈরির সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মনে হল, আইন রদ হয়তো ক'দিন পর আনুষ্ঠানিক ভাবে হয়েই যাবে। কিন্তু বিশ্বাসটা ফিরবে কি? ও মোদীজি... পহলে হি অগর মান যাতে!
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3nzUUMR
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment