Bengali News: বাংলা সংবাদ
Breaking Bengali News
Latest Bangla News
Latest Bengali News | Eisamay
বাংলার আজকের খবর
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3yVdjpR
অনলাইন শিক্ষা: অন হচ্ছে না পড়ুয়ার মনোজগৎ https://ift.tt/3zUIEu8
প্রশান্ত ভট্টাচার্য করোনামণ্ডলের মধ্য দিয়ে আমরা একটা নতুন জগতে প্রবেশ করেছি, যেখানে শিক্ষক-ছাত্রের মধ্যে কোনো কর্ডিয়াল বা আত্মিক সম্পর্ক থাকছে না। সবটাই হচ্ছে ভার্চুয়াল। অ্যাপের মাধ্যমে। পাঠের নাম হল অনলাইনে শিক্ষা। কিন্তু এই দেড় বছর কাল অতিক্রম করার পর নিবিড় এক সমীক্ষা জানাচ্ছে, করোনা কালে ব্যর্থ হয়েছে অনলাইনে শিক্ষা ()। শহরে অনলাইনের মাধ্যমে কিছুটা পড়াশোনা হলেও বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে চূড়ান্ত ব্যর্থ অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি। অথচ রাষ্ট্রনেতা থেকে শুরু করে অনেক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে অনলাইনে শিক্ষার গুণকীর্তন করছেন। এটির অসফলতা নিয়ে আমি দুটো দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলব, একটি উপযোগী পরিকাঠামো অন্যটি মানবিক দিক। শিক্ষা তো কতগুলো বই মুখস্ত করে বা ফর্মুলা বুঝে নিয়ে চালিয়ে যাওয়া নয়, শিক্ষা একটি আত্মবিকাশের মাধ্যম। সেই কবে রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'শিক্ষার বাহন' প্রবন্ধে লিখেছিলেন, 'যাহা হউক, বিদ্যাশিক্ষার উপায় ভারতবর্ষে কিছু কিছু হইয়াছে। কিন্তু বিদ্যা বিস্তারের বাধা এখানে মস্ত বেশি। নদী দেশের একধার দিয়া চলে, বৃষ্টি আকাশ জুড়িয়া হয়। তাই ফসলের সব চেয়ে বড়ো বন্ধু বৃষ্টি, নদী তার অনেক নীচে ; শুধু তাই নয়, এই বৃষ্টিধারার উপরেই নদীজলের গভীরতা, বেগ এবং স্থায়িত্ব নির্ভর করে।' এখন আবার সেই কথাই মনে হচ্ছে। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গোটা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শিক্ষক পর্ব। মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্বোধন করেন 'বিদ্যাঞ্জলি' পোর্টাল। যার মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য সাংকেতিক ভাষার অভিধান, অডিও বুক, সিবিএসইর জন্য স্কুল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক চালু করা যাবে। আগামী দিনের ভারত গড়ার জন্য এই প্রকল্পগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন। এনিয়ে কোনও বিতর্কও নেই। কিন্তু প্রশ্ন সেই পরিকাঠামো নিয়ে। এই যে করোনা সংক্রমণ থেকে পড়ুয়াদের রক্ষা করতে ভারতে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে অনলাইনে শিক্ষাকে () বিকল্প হিসেবে চালু করা হয়েছে তা কি আদৌ বিদ্যার্থীদের কাছে পৌঁছেছে? তা খতিয়ে দেখতে ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক ‘স্কুল চিলড্রেন্স অনলাইন অ্যান্ড অফলাইন লার্নিং (স্কুল)’ নামে একটি সমীক্ষা চালায় দেশজুড়ে। ওদের স্যাম্পেলটা বেশ বড় এবং বিশ্বাসযোগ্য সাইজ। অসম, বিহার, কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গের মতো ১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১,৩৬২টি পরিবারের ওপরে ওই সমীক্ষা চালানো হয়। এই পরিবারগুলো থেকে কমপক্ষে একজনকে হয় প্রাইমারি (প্রথম-পঞ্চম শ্রেণি) কিংবা আপার প্রাইমারির (ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি) পড়ুয়া হতে হবে। ওই সমীক্ষার রিপোর্টে যতগুলো দিক উঠে এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, গ্রামীণ ভারতে মাত্র ৫১% পরিবারে স্মার্টফোন আছে। এরমধ্যে মাত্র ১২% পড়ুয়ার নিজের স্মার্টফোন আছে। রিপোর্ট বলছে, এর ফলে শহরে ২৪% পড়ুয়া নিয়মিত অনলাইনে পড়াশোনা করেছে, আর গ্রামে এই সংখ্যাটা ৮%। গ্রামে ৩৭% পড়ুয়া অনলাইনে শিক্ষার ধারকাছ দিয়ে যায়নি, শহরে এই সংখ্যাটা ১৯%। আরও করুণ অবস্থা তফসিল জাতি/উপজাতির পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে। এদের মাত্র ৪%পড়ুয়া নিয়মিত অনলাইনে পড়াশোনা করেছে। সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, ওভারঅল দেখা গিয়েছে পরিবারে স্মার্ট ফোন থাকলেও নিয়মিতভাবে শহরে ও গ্রামীণ এলাকায় ক্লাস করেছে যথাক্রমে ৩১ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ পড়ুয়া। বাকিদের স্মার্ট ফোন থাকলেও তা লেখাপড়ার কাজে ব্যবহৃত হয়নি। এর একটি অন্যতম কারণ, পরিবারের কাজকর্ম করা বড়রা স্মার্টফোনটি নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন, ফলে ছোটরা তার নাগালই পায়নি। এছাড়াও দেখা গিয়েছে স্মার্টফোনের সাহায্যে পড়াশোনায় মনোযোগ বসাতে পারেনি অধিকাংশ পড়ুয়া। তাই দেখা যাচ্ছে, লকডাউন ও করোনা বিধির বিশেষ নিষেধাজ্ঞায় শহরে ৭৬% ও গ্রামে ৭৫% ছাত্রছাত্রীর পড়ালেখার দক্ষতা করুণভাবে নেমে গিয়েছে। অভিভাবক থেকে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করছেন, অল্প বয়সি পড়ুয়াদের পক্ষে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে পড়াশোনায় মন বসানো বিরাট সমস্যা। তাঁরা মনে করেন, স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এভাবে স্কুল বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে শিশুদের একাংশের বিকাশ বড় ধরনের বাধার সামনে পড়বে বলেও অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবার আমি মানবিক দিকটি আলোচনায় আনছি। অ্যাপের মাধ্যমে পড়ালেখা মানে রক্তমাংসের শিক্ষক ও পড়ুয়া ব্যাকডেটেড। কোনোরকম দৈহিক নৈকট্য বা মানসিক একাত্ম --- থাকবে না। ফলে শিক্ষক বা শিক্ষয়ত্রী যে ব্যাপকার্থে আমাদের বাবা-মা, সেই ধারণাটাই লুপ্ত হতে চলেছে। এটা বোঝার ব্যাপার, কোনো চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক সংস্কার নয়। বাস্তব হচ্ছে, এই শিক্ষক ও পড়ুয়ার মধ্যকার প্রত্যক্ষ সমীকরণটি অনেকদিন ধরেই আলগা হয়ে আসছে। শিক্ষার অঙ্গনে যত বেশি ব্যক্তিগত পুঁজির অনুপ্রবেশ ঘটেছে ততই এই সমীকরণ আলগা হয়ে পড়েছে। তবু একটা জিনিস অক্ষত ছিল, সেটি হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে সাম্য। অনলাইনে পাঠ দেওয়ায় সেই সাম্য বিনষ্ট হওয়া শুরু হয়ে গেল। মানে ওয়ান ইজ টু ওয়ান মেথড, ডাইরেক্ট ইন্টারেকশন আর থাকবে না। পড়ুয়া ও শিক্ষকের মাঝে এক অদৃশ্য অচলায়তন। তুমি দেখতে পাচ্ছ, ছুঁতে পাচ্ছ না। শুনতে পাচ্ছ, কিন্তু শ্রুতি নয়। রক্তমাংসপেশির মাস্টারমশাই হয়ে যাচ্ছেন বিগ্রহের মতো। এর ভিতরে ব্যথার দিকও আছে। মোবাইল ফোন খারাপ, অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারছিল না রাজচন্দ্রপুরের শিবাণী কুমারী। বালিরই একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ত। লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকায় ক্লাস হচ্ছিল অনলাইনে। সেই ক্লাসে যোগ দিতে না পেরে আত্মঘাতী হল শিবাণী। এর আগেই অনলাইনে ক্লাস করতে না-পারায় কেরালায় স্কুলছাত্রী ১৪ বছরের দেবিকা বালকৃষ্ণণ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। যদিও এই করোনাকালে এমন দুটো-একটা মৃত্যু অতি নগন্য ব্যাপার। তাই আমাদের আর জানার ইচ্ছে হয় না, কেন 'মরিবার হল সাধ!' অনলাইনে শিক্ষা মানে আছে ডেটা প্যাকের খরচ, নেটওয়ার্কের সমস্যা। একটা আম্ফান বা ইয়াস হলে নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডারদের কী হাল হয়, তা আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। ফলে সব মিলিয়ে বলা যায় অনলাইন হল ‘ডিজিটাল ডিভাইড’। অনলাইনের নামে এক ধাক্কায় পড়ালেখার জগত থেকে একটা বড় অংশকে বেলাইন করে দেওয়া হল। শিক্ষা ব্যবসা হলেও যে সাম্য সেখানে থাকত, তা অনলাইনে নেই। অনলাইনে শিক্ষাদানের অভিমুখ অবিমিশ্র ব্যবসা। বিজ্ঞাপন, নিত্যনতুন অ্যাপ ব্যবহার, শিক্ষার ব্যবসা এক্কেবারে রমরমা। আর এই নব্যপ্রযুক্তির অনিবার্যতা হচ্ছে, আপগ্রেডেশন। প্রায় প্রতিদিন সফটওয়্যার আপডেট। না করালেই আপনার ছেলে বা মেয়ে বঞ্চিত হবে নানা উপকরণ থেকে। কিন্তু, ভুবনমাস্টারের পাঠশালা থেকে আইআইটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষই হোক, একবার ঢুকে পড়তে পারলে একটা সাম্য ছিল। বণ্টনের ন্যায্যতা ছিল। শিক্ষক যা বিতরণ করেন, তা গোপাল-রাখাল সকলেই আহরণ করতে পারে। শ্রেণিকক্ষে হাজির থাকলে শ্রীকান্ত থেকে ইন্দ্রনাথ, সেই সম্পদের সমান ভাগ পাওয়া থেকে কেউ কাউকে আটকাতে পারত না। এখানেই রয়েছে শ্রেণিকক্ষের সৌন্দর্য। সেই লেখাপড়াকে শ্রেণিকক্ষচ্যুত করে অর্থাৎ ক্লাসরুম থেকে বার করে ড্রইং রুমে এনে অনলাইন করে দিলে কোন ছাত্র তার কতটা ভাগ পাবে, সেটা আর উপস্থিতির ওপরে নির্ভর করবে না৷ আরো অনেক কিছুর ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাবেই। শিক্ষা তখন একটা জিওপলিটিক্যাল ও আর্থসামাজিক শর্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাবে। পড়ুয়াটি কোথায় থাকেন, সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা কতটা সাবলীল, কোন পরিষেবা সংস্থা সেটা সরবরাহ করছে তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাবে। তার ওপর নির্ভর করবে, রিসিভিং এন্ডে যে পড়ুয়া আছেন, তিনি কী ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করছেন। আর এগুলো সবই হচ্ছে শিক্ষক নিরপেক্ষ। অর্থাৎ শিক্ষক যদি বণ্টনে বৈষম্য না-ও চান, সেটা ঠেকানোর উপায় তাঁর হাতে নেই। ফলে ড্রপ আউটের সংখ্যা আরও বাড়বে। এই প্যারাডাইম শিফট ব্যাপারটা করোনার অসুখমণ্ডলে ভয়ে জড়সড় হয়ে থাকলে কখনই বোঝা যাবে না। যাঁরা গা ঝাড়া দিয়ে বেরিয়ে আসছেন, তাঁরা বুঝছেন। তাই শহরের ৯০% আর গ্রামের ৯৭% অভিভাবক চাইছেন স্কুল খুলে দেওয়া হোক। শুধু অভিভাবকরাই নন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে ওই একই আবেদন জানিয়েছেন ৫৫ জন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিদ। আমাদের মনে রাখতে হবে, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। (এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণ ভাবে লেখকের ব্যক্তিগত। এই সময় ডিজিটাল কোনও ভাবেই লেখার দায়ভার বহন করে না।)
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3yVdjpR
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment