বাম আমলের ৫ বারের পঞ্চায়েত সদস্য ও উপ-প্রধান, আজ ফুটপাতের ফল বিক্রেতা https://ift.tt/3zjOUul - MAS News bengali

বাম আমলের ৫ বারের পঞ্চায়েত সদস্য ও উপ-প্রধান, আজ ফুটপাতের ফল বিক্রেতা https://ift.tt/3zjOUul

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৫ বারের পশ্চিম খিলকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য, ১ বারের পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান আজ বারাসতের ফুটপাতের ফল বিক্রেতা। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ভাগ্যের ফেরে বর্তমানে এমনই হাল হয়েছে সিপিআইএম-এর একদা সক্রিয় সদস্য মশিয়ার রহমানের। ছাত্রজীবন থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতে চলে আসেন মশিয়ার রহমান। ১৯৮৩ সালে প্রথমবার কংগ্রেসকে পরাজিত করে পশ্চিম খিলকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিআইএম-এর সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৮, ১৯৯৩, ১৯৯৮ পরপর আরও তিনবার সচিব নির্বাচিত হন তিনি। এরপর দলের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয় মশিয়ার রহমানের। ২০০৮ সালে নির্দল হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেখানেও জয়ী হন তিনি। ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত খিলকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানও ছিলেন মশিয়ারবাবু। মার্কসবাদে বিশ্বাসী মশিয়ার রহমানের কাছে সততাই মূল মতাদর্শ। খিলকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শপথবাক্য পাঠ করে ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষতা, নিয়ম-কানুন ও আদর্শ মেনে চলার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। ক্ষমতায় আসীন হয়েও সেই অঙ্গীকার তিনি ভোলেননি। তাই পঞ্চায়েত সদস্য থাকাকালীন পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান করে দেওয়ার একাধিক সুযোগ পেয়েও সেই পথে হাঁটেননি মশিয়ার রহমান। কোনদিনও কোন অসৎ সঙ্গ নেননি ও গণতন্ত্রকে আঘাত বা আক্রমণ করে কোনও কথা বলেননি। তাঁর খিলকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হওয়ার সুযোগ থাকলেও ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে জোট থাকায় সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে মশিয়ার রহমানের প্রাপ্তি ছিল উপ-প্রধান পদটি। তিনি খিলকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য থাকাকালীন ওই পঞ্চায়েত রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পায়। এরপর সময়ের ফেরে রাজনৈতিক পদ-পরিচয় ঘুচলেও নিজের আখের গোছাতে অন্য দলেও যোগ দেননি মশিয়ার রহমান। বরং আত্মসম্মান বজায় রেখে ভিটে-বাড়ি বিক্রি করে তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তাঁর ছেলেরা নিজেদের মত সংসার গুছিয়ে নিয়েছেন। ফলে স্ত্রীকে নিয়ে এখন চরম দুর্দশায় দিন কাটছে ‘সততার প্রতীক’ মশিয়ার রহমানের। বর্তমানে বারাসাত ন-পাড়ায় সস্ত্রীক বসবাস করেন মশিয়ার রহমান। দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে এখন বারাসাত থানার সামনে ফুটপাতে বসে ফল বিক্রি করেন তিনি। কোনদিন ১৫০ টাকা তো কোনদিন ২০০ টাকা আয় হয়। ওষুধ কেনা থেকে খাওয়া-দাওয়া সমস্ত কিছুতে এখন এটাই এখন তাঁর সম্বল। দল না ছাড়লেও দলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন মশিয়ার রহমান। তাঁর খোঁজ রাখেন না বাম নেতারাও। তবে দারিদ্রতা সঙ্গী হলেও সততার কাছে হার মানেননি বাম-মনস্ক মশিয়ার রহমান।


from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3Cpnqp1
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads