Bengali News: বাংলা সংবাদ
Breaking Bengali News
Latest Bangla News
Latest Bengali News | Eisamay
বাংলার আজকের খবর
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3lN0oBV
পুজোর মুখে টান, নিষিদ্ধ ইলিশ শিকার https://ift.tt/39rwDRy
সোমনাথ মাইতি, ইলিশ সংরক্ষণে পুজোর আগে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করলো মৎস্য দফতর। মা ইলিশ ও খোকা ইলিশ বাঁচাতে দু'মাসে ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের জন্য সমুদ্রে ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে মৎস্য দফতরের পক্ষ থেকে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। পুজোর সময় বাংলাদেশ থেকে ইলিশ এলেও দামের ছেঁকায় আমবাঙালি এ মরশুমে ইলিশের স্বাদ থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে দিঘার সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও, তার পরে আর সে ভাবে জালে পড়েনি এই মাছ। চলতি বছর ইলিশ দূরে থাক, অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের পরিমাণও কমেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। মঙ্গলবার দিঘায় ছোট নৌকায় কিছু ইলিশ ধরা পড়লেও সেগুলি আকারে ছোট। আড়াইশো-তিনশো গ্রাম ইলিশের পাইকারি দর ছিল তিনশো থেকে চারশো টাকা প্রতি কিলো। অথচ বাংলাদেশে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। মৎস্য দফতরের বিশেষজ্ঞ, মৎস্যজীবী থেকে সমুদ্র বিজ্ঞানীদের কথায়, গভীর সমুদ্রের মাছ ইলিশ ডিম পাড়ার সময় উপকূলের দিকে চলে আসে। সেই সময় মৎস্যজীবীদের জালে ইলিশের ঝাঁক ধরা পড়ে। তবে ইলিশের আসার উপযুক্ত পরিবেশ দরকার। যেমন ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর পুবালি বাতাস ইলিশের দেখা পাওয়ার জন্য আদর্শ, তেমনই সমুদ্র তলের উচ্চতা, জলের উষ্ণতা এবং দেদার মাছ ধরা (বিশেষ করে ছোট ইলিশ শিকার) এমনই কয়েকটি বিষয়ও প্রভাব ফেলে। রাজ্য মৎস্যদফতরের এক আধিকারিকের কথায়, 'আমরাই ইলিশ আসার পরিবেশ নষ্ট করে দিচ্ছি। বাংলাদেশের প্রশাসন এবং জনতা ইলিশ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন হওয়ায়, সেখানে বড় সাইজের মাছ মিলছে।' দিঘার মৎস্যজীবী নবকুমার পয়ড়্যার পরিষ্কার কথা, 'রাজ্যের উপকূল এলাকায় ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সমুদ্র এলাকা রাজ্যের এক্তিয়ারে। বাকিটা কেন্দ্রের। আমাদের রাজ্যে ছোট ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধে আইন থাকলেও পাশের রাজ্য ওডিশাতে নেই। সেখানে দেদার ছোট ইলিশ ধরা ও বিক্রি হচ্ছে। তাই এখানকার মৎস্যজীবীরা ছোট ইলিশ না ধরলেও সমুদ্রে তা ধরা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সকলে একটা আইন মেনে চললেও আমাদের দেশে তা সম্ভব নয়। আসলে আমাদের দেশে যেমন আইন আছে, তেমনই আইনের ফাঁক আছে।' সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মৎস্য দফতরের সহ মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুরজিৎ বাগ। তিনি বলেন, 'সমস্যার মধ্যে ইলিশ সংরক্ষণ করতে হবে সকলকে। এই সময় ইলিশ ডিম পাড়ে, যার কারণে পূর্ণিমার আগে ও পরের পাঁচ দিন করে দশ দিন ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মৎস্যজীবীদের নিয়ে সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। শুধু মৎস্যজীবী নয়, সকলকে সচেতন হতে হবে।' প্রবীণ সমুদ্রবিজ্ঞানী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক গৌতম সেন বলেন, 'বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন হয়েছে। এর প্রভাবে একের পর এক নিম্নচাপের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি যথেচ্ছ মাছ শিকারের জন্য হাজার হাজার ট্রলার বোট সমুদ্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার বটম ট্রলিংয়ের (সমুদ্রের তলদেশ ছেঁচে মাছ শিকার। এতে শিকারের সঙ্গে আরও অনেক কিছুই উঠে আসে, যা আদতে নষ্ট হয়) ফলেও সমুদ্রতলের বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রচুর ছোট মাছ ধরা হচ্ছে যথেচ্ছ ভাবে। এই ভাবে চললে এক সময় সমুদ্র মাছশূন্য হয়ে পড়বে। ইলিশ তার উপযুক্ত পরিবেশ ও বাড়ার সুযোগ না পেলে এই সমুদ্রে আসবে কেন?' সমস্যার কথা স্বীকার করে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরি বলেন, 'বটম ট্রলিং ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে নিষিদ্ধ। মিডল ট্রলিংয়ের অনুমতি আছে। কিন্তু সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায়, মিডল ট্রলিং কোনও কোনও সময় বটম ট্রলিং হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা সব দিক বিবেচনা করে মিডল ট্রলিং বন্ধের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। যথেচ্ছ মাছ ধরা বন্ধে নতুন করে বোটের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ইলিশ শিকার বন্ধের আইন আগে থেকে ছিল। কিন্তু তা রূপায়ণে এতটা জোর দেওয়া হতো না। এ বার এই বিষয়ে কড়া আইন করা হয়েছে। মা ও ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে ইলিশ দেখতে জাদুঘরে দেখা যেতে হবে।'
from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3lN0oBV
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment