তৃতীয় ঢেউ রুখতে চার দাওয়াই চিকিৎসক কুণাল সরকারের https://ift.tt/38SNCvt - MAS News bengali

তৃতীয় ঢেউ রুখতে চার দাওয়াই চিকিৎসক কুণাল সরকারের https://ift.tt/38SNCvt

করোনার মেঘ এখনও কাটেনি। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রথম ঢেউ, দ্বিতীয় ঢেউয়ে আমরা ডুবেছি-ভেসেছি। উঁকি মেরে এখন যখন আশার আলো দেখার চেষ্টা চলছে, তখনই কানে এল নতুন শঙ্কার ভবিষ্যদ্বাণী— তৃতীয় ঢেউ আসছে... এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, কেমন হবে সাধারণের জীবন-যাপন? কলম ধরলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক কুণাল সরকার। ডা. কুণাল সরকার ২০২০-র জানুয়ারির একেবারে শেষ থেকে আজ, প্রায় দেড় বছর হয়ে গিয়েছে। করোনা কেড়ে নিয়েছে প্রায় সাড়ে চার কোটি প্রাণ। গত বছরের শুরুতে বিদেশে যখন করোনা সংক্রমণের খবর টিভি বা সংবাদপত্রে প্রকাশ হতে শুরু করল, আমরা ভেবেছিলাম ইউরোপ, আমেরিকার ভুগবে। আমরা বেঁচে যাব। এর পর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভারত, ইরান, ইতালি-এই তিনটি দেশে একসঙ্গে সংক্রমণ প্রবেশ করে। বাকিটা ইতিহাস। তবে মার্চ-এপ্রিল এমনকী মে-জুন পর্যন্তও আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি করোনার প্রভাব কতটা? ওই বছর মার্চে লকডাউন করা হয়েছিল বটে তবে, লকডাউনের মাসটা ঠিক ছিল বছরটা নয়। আমাদের দেশে লকডাউনটা যদি মার্চ ২০২০-তে না হয়ে মার্চ ২০২১-তে হত তাহলে অনেকগুলো প্রাণ আমরা বাঁচাতে পারতাম। এরপর ওই বছর জুন নাগাদ লকডাউনটা যখন হালকা হতে শুরু করল তখনই সংক্রমণের প্রথম ধাক্কাটা বাড়তে শুরু করে, মোটামুটি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সংক্রমণ বাড়ল। এর পর অক্টোবরটা একটু নিম্নমুখী হল। শীতকালটা রেহাই দিল। ফেব্রুয়ারিতে আমরা ভাবলাম করোনা আর নেই বা আর ঝামেলা আসবে না। তখন কিছু কেন্দ্র ও কয়েকটি রাজ্য সরকার গা ঢিলে দিতেই আবার আগুনের আঁচ বাড়তে শুরু করল। এর মধ্যে আমরা কতগুলো বাজে সিদ্ধান্ত নিলাম। যেমন- কুম্ভ মেলা হল, পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে তো দু'মাস ধরে ভোট হল। এমনিতে সংক্রমণ নিজস্ব গতিতেই বাড়ছিল এর মাঝে আমরা খানিকটা আগুনে ওই জল না ঢেলে তেল ঢালার প্রক্রিয়া শুরু করে দিলাম। দাউ দাউ করে বাড়তে শুরু করল! দ্বিতীয় তরঙ্গের পিক হল ২০২১-এর মে মাসের মাঝামাঝি। যদি সেকেন্ড ওয়েভের পর্যালোচনা করা হয় সেটা মোটামুটি প্রথম ওয়েভের সাত সাড়ে সাত মাস পর হয়েছে। এর ফলে পাঁচগুণ বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় তরঙ্গের সংক্রমণ মানুষকে অসুস্থ করল বেশি। এবং কয়েক মাসের মধ্যে বোঝা গেল এটি ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাটা তার পূর্বসূরি ভ্যারিয়েন্টের থেকে পাঁচগুণ বেশি। যদিও এর অনেকগুলো কারণ ছিল। এর মধ্যে আমাদের ঢিলেমি, ভোট, কুম্ভ মেলা। তো সব মিলিয়ে আমরা একেবারে নাজেহাল অবস্থায় পড়লাম। যত মানুষ ভারতবর্ষে মারা গিয়েছেন তাঁর দুই তৃতীয়াংশ অফিশিয়ালি মারা গিয়েছেন দ্বিতীয় তরঙ্গে। এখন আমরা যে স্টেজে আছি তাতে সংক্রমণ কিছুটা ক্ষমাঘেন্না করতে শুরু করেছে। এই যে আমরা দু-তিনটে মাস একটু শান্তিতে আছি এর মাঝে কেরালায় বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংক্রমণ চারিদিকে কমে গেলে এখন এই রাজ্য কেন টগবগ করে ফুটছে? কারণ, কেরালায় সেকেন্ড ওয়েভ আসেনি। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এসে যাওয়ায় কাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে? কারা বেশি করে আক্রান্ত হতে পারেন? ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট তাঁদেরই হবে, যাঁদের সঙ্গে এই ভাইরাসের মুখোমুখি পরিচয় হয়নি। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের কোনও ইমিউনিটি নেই। যাঁরা ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠেছেন এবং টিকার দু'টি ডোজ নেওয়া হয়ে গিয়েছে, তাঁরা হয়তো রেহাই পেয়ে যাবেন। কেরালাকে বাদ দিলে গোটা দেশের সার্বিক করোনা চিত্রটা কিন্তু খুব একটা খারাপ নয়। আমাদের ৩০ হাজার নাগরিকের অ্যান্টিবডি স্টাডি করা হয়েছে। রাজ্যের চার জেলার মধ্যে ৬৭.৮% মানুষের শরীরে রয়েছে অ্যান্টিবডি। এই যে সকলে বলছে থার্ড ওয়েভ আসছে। এক্ষেত্রে কারা বেশি সংক্রামিত হতে পারে? পরীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী আমাদের জনসংখ্যার ৬০%-এর শরীরে অ্যান্টিবডি রয়েছে। সেই অনুযায়ী 'ডেঞ্জার জোনে' রয়েছেন প্রায় চার কোটি মানুষ। তাই সাবধনতা বজায় রাখতে হবে। এর মধ্যে শঙ্কার ভবিষ্যদ্বাণী থার্ড ওয়েভ। থার্ড ওয়েভ কী? এর অর্থ হল, আবার অল্প সময়ে প্রচুর সংখ্যক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। আজকে যদি কলকাতায় ১০০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে যায় তবে আমাদের গায়ে লাগবে। এর বেশি হলে হাহুতাশ করতে শুরু করব। তাই সংক্রমণ রেখচিত্রকে যতটা সম্ভব স্তিমিত রাখতে হবে। গত তিন সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে Average Rate Of Vaccination অনেকটাই ইমপ্রুভ করেছে। Average Daily Vaccination প্রায় সাত লাখের উপরে। টিকাকরণের হার বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? কোভিশিল্ড অনেক বেশি তৈরি হয়েছে। ফলে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছি আমরা। কিন্তু, তার সঙ্গে জটিলতার কারণে আটকে রেখেছি ফাইজার এবং মর্ডানাকে। তা কিন্তু যুক্তিগ্রাহ্য নয়। ফাইজার এবং মর্ডানাকে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, আমার অস্বস্তি মেশানো আক্ষেপ, বাংলায় আশানুরূপ ভ্যাক্সিনেশন হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে মেরে কেটে একদিন বা দু'দিন ১০ লক্ষের উপর টিকাকরণ হয়েছে। প্রথম ডোজের হিসেবে চোখ রাখলে দেখা যাবে মাত্র ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আমার মতে এর কারণ, রাজ্যে টিকাকরণ মূলত শহর কেন্দ্রিক। গ্রাম বা প্রান্তিক এলাকায় টিকাকরণের হার তেমন আশাব্যঞ্জক নয় বলেই আমার বিশ্বাস। তৃতীয় ঢেউ রুখতে মূলত টিকাকরণ বাড়াতে হবে। আমার মনে হয়, এখন আরও টানা দু-তিন মাস ভিড়ভাট্টা করা উচিত নয়। বড় বড় জমায়েত নিষিদ্ধ রাখা হোক। আক্রান্তদের উপযুক্ত চিকিৎসা এবং আইসোলেশনের মধ্যে রাখতে হবে। Spread Of Infection-কে ঠেকাতে হলে দেওয়ালে পিঠ দিয়ে রুখতে হবে। বাড়াতে হবে ছোট ছোট অঞ্চল ভিত্তিক নজরদারি। নিয়মিত কোভিড পরীক্ষাও চালু রাখা জরুরি। ভ্যাক্সিনেশন, স্থানীয় স্তরে নজরদারি, ভিড় বা জমায়েত থেকে দূরে থাকা, সঠিক নিয়মে মাস্ক পরা-এই চারটি জিনিস মাথায় রেখে আমরা এই বছরটা যদি চলি তবে অনেকটাই সুরক্ষিত হতে পারব। প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে 'হার্ড ইমিউনিটি' একটা সময় মনে করা হত। এখন ডেল্টা ভ্যরিয়েন্টের আক্রমণের ফলে এই হার্ড ইমিউনিটি তৈরির ভাবনাটাই মিথ্যে হয়ে গিয়েছে এখন সকলেই টিকাকরণ করতে হবে। তবেই রোখা যাবে তৃতীয় ঢেউকে।


from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/2YHGuAv
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads