তালিবান শান্তি চাইলেই টিকবে, নইলে না: মাসুদ https://ift.tt/3moRb4P - MAS News bengali

তালিবান শান্তি চাইলেই টিকবে, নইলে না: মাসুদ https://ift.tt/3moRb4P

সাবেরী গুপ্ত তখন রবিবার দুপুর গড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমে ফুটে উঠছে ব্রেকিং নিউজ - তাঁকে হুমকি দিয়েছে, চার ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ না-করলে হামলা হবে পঞ্জশিরে। তিনি অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, আত্মসমর্পণের প্রশ্ন নেই। সেই 'ডেডলাইন' শেষ হতেই হিংস্র তালিবান অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এগোচ্ছে তাঁর ডেরার দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভিডিয়ো। ঠিক এর ঘণ্টাকয়েক আগেই পঞ্জশিরে বসে যুদ্ধের বিপক্ষে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন আহমেদ মাসুদ, 'এই সময়'-এর সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে। 'তালিবানিস্তানে'র একমাত্র তালিবান-মুক্ত প্রদেশের নেতা। 'পঞ্জশিরের সিংহ' আহমেদ শাহ মাসুদের একমাত্র ছেলে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন এক সরকারের ডাক দিচ্ছেন, যেখানে ন্যায়বিচার, সাম্য, ঐক্য, ইসলামের পাশাপাশি সকলের গ্রহণযোগ্যতারও নীতি থাকে। এমনকী, তালিবান তাদের চরমপন্থা ছাড়লে সরকারে সামিল করতেও সমস্যা নেই মাসুদের। যদিও তালিবান যে ভাবে তাঁর ডেরার দিকে ধেয়ে চলেছে, তাতে মাসুদের নিজের ভবিষ্যৎই এখন সংশয়ের মুখে। আহমেদের কাছে প্রথম প্রশ্ন ছিল - আপনার মতে বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাধানের পথ কী? জবাবে যুদ্ধের পথ ছেড়ে শান্তির পথে এগোনোর বার্তা দেন আহমেদ। তবে তালিবান এখন যে রাস্তা ধরেছে, তাতে দেশ ও দুনিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার স্বপ্ন অনেক দূরের। আহমেদের কথায়, 'কুনার, জালালাবাদ-সহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে ইতিমধ্যেই প্রতিরোধের কথা উঠে আসছে। এমন কিছু করাই ঠিক নয় যাতে গোটা বিশ্ব থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। এবং আমাদের নিজেদের মানুষ আমাদের গ্রহণ করতে না-পারেন।' এ প্রসঙ্গে নাম না করে বাবা আহমেদ শাহ মাসুদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন জুনিয়র মাসুদ। বলেন, 'জাতির নায়কের ইচ্ছে ছিল এমন এক গড়ে উঠুক, যেখানে সকলে নিজেদের জন্য এবং একইসঙ্গে বহির্বিশ্বের সঙ্গে মিলেমিশে থাকবে। না হলে একপাক্ষিক ভাবে হয়তো কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারে। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। আফগানিস্তানের ইতিহাস বারবারই তা দেখিয়েছে। আফগানিস্তানের প্রত্যেক একপাক্ষিক জয়ই এ পর্যন্ত স্বল্পস্থায়ী, রক্তক্ষয়ী এবং হিংস্রতায় পূর্ণ থেকেছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম হিসেবে আমি আন্তর্জাতিক দর্শনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সকলের একত্র অগ্রগতির পক্ষেই সওয়াল করব।' আপনি বারবার আন্তর্জাতিক দর্শন ও একত্রে এগোনোর কথা বলছেন। আফগানিস্তানকে একটা ইতিবাচক পর্যায়ে নিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক দুনিয়া কতখানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে? আহমেদের উত্তর - 'যে কোনও দেশই গঠন বা বিনাশে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকে নিঃসন্দেহে।' নাম না করে আরও পাঁচজন আফগানের মতো আমেরিকাকে কাঠগড়ায় তোলেন আহমেদও। বলেন, 'আমরা আশা করেছিলাম, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেটাই হলো। তবে একটা কথা বলতে চাই - আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ এই ঘটনাগুলি আজ না হোক কাল সব রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করবে। সেটা সকলের বুঝে নেওয়া দরকার। আমরা এখন দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আফগানিস্তান, কাবুলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখছি। কাবুল বিমানবন্দরের অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি নজরে আসছে আমাদের। গোটা মানব সমাজটাই যেন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে সব দেশ নিজেদের মানবাধিকারের ধ্বজাধারী বলে দাবি করে, তারা যদি এখনও কোনও কথা না বলে, তা হলে তো মনে হবে তারা কেবল নিজেদের স্বার্থটুকু দেখে। তারা কি শান্তিকে সমর্থন করে না? নাকি তাদের দরজায় ধাক্কা পড়ার আগে এই বিতর্ক নিয়ে কিছু ভাববে না?' কিন্তু যে শান্তির কথা বা আন্তর্জাতিক বিশ্বের সক্রিয়তার কথা তিনি বলছেন, সেটা কাম্য পরিস্থিতি। তালিবান যদি স্বমূর্তিতে হানাদারি চালায়, সে ক্ষেত্রে আপনার সমাধান সূত্র কী হবে? ঘটনাচক্রে, এই প্রশ্নের কয়েক ঘণ্টা বাদেই পঞ্জশিরের উদ্দেশে তালিবানের হুমকির খবর আসে সামনে। আহমেদ বলেন, 'আমরা এমনিতেই দেশের নানা প্রান্তে মানুষের প্রতিরোধ, ক্ষোভের প্রকাশ দেখতে পাচ্ছি। তালিবান যদি শান্তি প্রক্রিয়া আরও বিঘ্নিত করে, জোর করে দখলদারি চালানোর চেষ্টা করে, তা হলে প্রতিরোধের সম্মুখীন তাদের হতে হবেই। আফগান মানুষই সেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। এবং তাঁরাই জয়ী হবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তার সঙ্গে জড়িত থাকবে অনেক রক্তক্ষয়, যুদ্ধ, বহু বহু মানুষের দেশত্যাগ, দেশের বড় অংশের ক্ষতিসাধন। অনেকটা সময় হয়তো পিছিয়ে যেতে হবে। কিন্তু একটি দলের পক্ষে যে ক্ষমতা দখল করে চিরদিন দেশ শাসন করা সম্ভব নয়, সেটা সকলের বুঝে নেওয়া দরকার।' কথোপকথনের শেষ এই প্রশ্নের জবাবেও আগাগোড়া শান্তির কথা বলেন আহমেদ। তাঁর কথায়, 'শান্তি প্রতিষ্ঠাই হলো আফগানিস্তানের একমাত্র রাজনৈতিক সমাধান। এই শান্তির পথই দীর্ঘস্থায়ী হবে।' এর পর ফের নিহত বাবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন আহমেদ। বলেন, 'জাতির নায়ক আহমেদ শাহ মাসুদ বারবার বলতেন, আমি থাকি কি না থাকি, জাতীয় প্রতিরোধ বজায় থাকবে।'


from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/384TZLZ
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads