টিকায় আগ্রহী শতায়ু হারাধন, চিন্তায় পরিবার https://ift.tt/3zNlZ3e - MAS News bengali

টিকায় আগ্রহী শতায়ু হারাধন, চিন্তায় পরিবার https://ift.tt/3zNlZ3e

সঞ্জয় দে বয়স তাঁর ১১১ বছর। দেখেছেন কলেরা-বসন্তর মত মহামারী। কিন্তু করোনার মতো বিপর্যয় দেখেননি কাঁকসার মলানদিঘী পঞ্চায়েতের সরস্বতীগঞ্জের হারাধন সাহা। ভাইরাসের () যা দাপাদাপি, তাতে () নেওয়ার ইচ্ছে বৃদ্ধের। কিন্তু এই বয়সে ভ্যাকসিন নেওয়া কতদূর নিরাপদ, তা নিয়ে চিন্তিত পরিবারের লোকেরা। মানুষটা তো দিব্যি হেঁটে-চলে বেড়াচ্ছেন। ভ্যাকসিন নিলে যদি অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়! চিকিৎসকরা অবশ্য বলছেন, ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। তাই হারাধান ভ্যাকসিন নিতেই পারেন। কিন্তু তার আগে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা প্রয়োজন। পরামর্শের জন্য দূরে যেতে হচ্ছে না বৃদ্ধকে। হারধানের মেজ ছেলে জয়নারায়ণই পেশায় চিকিৎসক। তিনি বলেন, 'ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনও সমস্যা নয়। শারীরিক পরীক্ষার পর ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বাবার এমনিতে কোনও অসুখ নেই, কোনও ওষুধ খান না। সুস্থ আছেন। গ্রামে সংক্রমণও সে ভাবে ছড়ায়নি। তার উপরে বাবা সারাদিন বাড়িতে থাকেন। তাই ওঁর টিকাকরণে আমরা তেমন উৎসাহী নই।' কাঁকসার হারাধনের সাত মেয়ে চার ছেলে। বড় ছেলে শিবনারায়ণ বছর দুয়েক আগে মারা গিয়েছেন। স্ত্রী তিলোত্তমা চলে গিয়েছেন দেখতে দেখতে ৩৫ বছর হলো। পরিবারের সকলেই ভ্যাকসিন নিচ্ছেন। কারও প্রথম, কারও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া হয়ে গিয়েছে। হারাধন চান, তাঁকেও ভ্যাকসিন দেওয়া হোক। বৃদ্ধের কথায়, 'ছোটবেলায় টিকা নিয়েছি। এখন যদি করোনার টিকা দেওয়া হয়, তা হলে নেব।' বৃদ্ধের মতে, কলেরা-বসন্তের চেয়েও ভয়ানক করোনা। ওই দুই মহামারীতে পাড়ায় পাড়ায় মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। কিন্তু কখনও এ ভাবে গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হয়নি। করোনায় গত দেড় বছর কার্যত গৃহবন্দি হারাধন। তাঁর প্রশ্ন, 'আগে তো এত হাসপাতাল, ডাক্তার, চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি ছিল না। সব ছিল ঈশ্বরের হাতে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাহলে কেন করোনাকে বাগে আনা যাচ্ছে না কেন?' বাড়িতে বন্দি থাকতে আর তো ভালো লাগে না হারাধনের! পাড়ার আড্ডা থেকে কীর্তনের আসর - সব বন্ধ। মনমেজাজ খারাপ তাঁর। বৃদ্ধের ধারণা, টিকা নিলেই আর চিন্তা নেই। নিশ্চিন্তে বেরোতে পারবেন বাড়ি থেকে। তাই এই বয়সেও টিকা নিতে চান হারাধন। এক নাতি নিত্যানন্দ সাহা বলেন, 'আসলে আমাদের গ্রামে সংক্রমণ ছড়ায়নি। তা সত্ত্বেও দাদু ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন। কিন্তু তাতে যদি হিতে বিপরীত হয়! দাদুর এমনিতে শারীরিক কোনও সমস্যা নেই। তাই দাদুকে টিকা দেওয়া হয়নি।' দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ধীমান মণ্ডল বলেন, '১১১ বছরে কেউ টিকা নিতেই পারেন। সে ক্ষেত্রে শারীরিক পরীক্ষা জরুরি। টিকা নিতে হলে হাসপাতালে আসতে হবে। বাড়ি গিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা এখনও নেই।' শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশিস ঘোষ বলেন, 'টিকার জন্য বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। তবে এই বয়সে টিকা নেওয়ার আগে একবার ইসিজি করে নেওয়া দরকার।'


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3gNsnim
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads