বাঙালির পাতে ইলিশ, ভরসা জোগাচ্ছে দিঘা https://ift.tt/3wxbI9r - MAS News bengali

বাঙালির পাতে ইলিশ, ভরসা জোগাচ্ছে দিঘা https://ift.tt/3wxbI9r

এই সময়, দিঘা: 'নিষিদ্ধ সময়' কাটার পর প্রথম শিকারে বেরিয়েই দেখা মিললো ইলিশের। সঙ্গে পমফ্রেট, ভোলা ,চিংড়ির মতো সামুদ্রিক মাছেরও। প্রথম ফিসিং-এ পরিমাণে কম হলেও ইলিশের দেখা মেলায় খুশি মৎস্যজীবীরা। তবে গত বছর শুরুর দিকে তেমন ভাবে না উঠলেও এই মরশুমে ভালো পরিমাণে ইলিশ উঠবে বলে দিঘা উপকূলের ব্যবসায়ীদের আশা। গত কয়েকদিন ধরে মেঘলা আকাশ আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে উপকূল জুড়ে। সে কারণে 'ব্যান পিরিয়ড' শেষ হতেই ইলিশের আশায় ১৫ জুন থেকে সমুদ্রে পাড়ি জমিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। আর বৃহস্পতিবারই কোভিড বিধি মেনে খুলে গিয়েছে দিঘা মোহনায় রাজ্যের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক মাছের নিলাম কেন্দ্র বা পাইকারি বাজার। যদিও ১৫ তারিখ সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ফিসিং বোটের বেশিরভাগ এখনও ফেরত আসেনি। তবু বাজার খোলার প্রথম দিনেই দু'কুইন্টাল ইলিশ সহ পমফ্রেট,ভোলার মতো প্রায় ৮০ টন সামুদ্রিক মাছ ওঠায় সবার মধ্যেই নতুন করে আশা দেখা দিয়েছে। পরিমাণে কম হলেও মরসুমের প্রথম ইলিশের দাম এদিন ছিল মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ১ কেজি ওজনের ইলিশের পাইকারি দর প্রায় দেড় হাজার টাকা। আর তার চেয়ে ছোট হলে ১২০০। এর থেকেও কম সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫০০/৬০০ টাকায়। তবে পরিমাণ বাড়লে দামও কমবে বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। দিঘা ফিসারম্যান অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৬০০ ট্রলারের মধ্যে ২৫০০-র মতো ট্রলার দু'দিন আগে সমুদ্রে ইলিশের খোঁজে পাড়ি দিয়েছে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই। এদের মধ্যে বুধবার বিকেল পর্যন্ত শঙ্করপুর,পেটুয়া,শৌলাতে ৫০টির মতো ট্রলার মাছ নিয়ে ফিরেছে। বেশির ভাগ এখন সমুদ্রে রয়েছে ইলিশ ধরার জন্য। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, 'প্রথম দিন বাজারের ৩৫ টি আড়তে মাছের নিলাম হয়েছে। শুরুতে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি মেঘলা আকাশ সহ ইলিশের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। পূবালি বাতাস বইতে শুরু করলে ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করা যায়। তবে মৎস্যজীবীদের আশা সত্বেও গত বছর দিঘার সমুদ্রে ইলিশ সেভাবে দেখা যায়নি। কাঁথি মৎস্যদপ্তরের সহ মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক )সুরজিৎ বাগ অবশ্য এবার সমুদ্রে ইলিশের দেখা মেলায় ব্যাপারে আশাবাদী। তাঁর কথায়, 'গত মরসুমে ইলিশ সেভাবে পাওয়া যায়নি বলে এবারও যে তাই হবে এমন নয়। কারণ, সমুদ্রে ইলিশের ঝাঁক আসা নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। গতবার লকডাউন এবং ব্যান পিরিয়ডের জন্যে সমুদ্রে ভালো ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আবহাওয়া অনুকূল ছিল না। এবার কিন্তু আবহাওয়া প্রথম থেকে ইলিশের পক্ষে দেখা দিয়েছে। হালকা বৃষ্টি এবং বাতাস বাইতে শুরু করলেই বেশি পরিমাণে ইলিশ জালে পড়বে বলে আমাদেরও ধারণা। তবে ডিম দিতে মিষ্টি জলের খোঁজে গভীর সমুদ্র থেকে বঙ্গপোসাগরে ঢুকে মোহনার দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে চলে আসে। সেই সময় মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ে। আবহাওয়া সহ নানা কারণের ওপর তাদের আনাগোনা নির্ভর করে।' প্রতিবারই দেখা যায় অনেক ছোট ইলিশ জালে উঠে আসছে। সেটা বন্ধ করার উপায় কী? সুরজিৎ বলেন, ইলিশ ধরতে গিয়ে যাতে মৎস্যজীবীরা ছোট সাইজের না ধরেন সে জন্য সচেতন করা হয়েছে। ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। ছোট ইলিশ ধরা এবং বিক্রি বন্ধে সারপ্রাইজ ভিজিট ও করা হবে মৎস্যদপ্তরের পক্ষ থেকে।' মৎস্য দপ্তর ও দিঘা মোহনার মৎস্যজীবীদের কথায়, 'জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইলিশের ঝাঁকের দেখা মেলে সমুদ্রে। সে কারণে শুরুতে না হলেও মৎস্য প্রিয় বাঙালি সাধ্যের মধ্যে যে ইলিশের স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।' তবে এরই পাশাপাশি তাঁদের আশঙ্কা, কয়েকটি বরফ কলে ইয়াসের সময় নোনা জল ঢুকে খারাপ হয়ে যাওয়ায় বরফের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3q6uIcu
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads