মানবশরীরের ৭ চক্র কী কী? যোগদিবসে জানুন এগুলির মাহাত্ম্য https://ift.tt/3cV9FEc - MAS News bengali

মানবশরীরের ৭ চক্র কী কী? যোগদিবসে জানুন এগুলির মাহাত্ম্য https://ift.tt/3cV9FEc

এই সময় অ্যাস্ট্রো ডেস্ক: চক্র কথাটির অর্থ হল চাকা বা গোলাকার কোনও কিছু। আমাদের শরীরের এনার্জি সেন্টারের সঙ্গে এই চক্রের যোগ রয়েছে। মানুষের শরীরে সাতটি প্রধান চক্র রয়েছে। বিভিন্ন শিরা উপশিরা ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলির মধ্যে সমন্নয় রক্ষা করে এই সাতটি চক্র। আজ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ( 2021) মানুষের শরীরের এই সাত চক্রের গুরুত্ব জেনে নেওয়া যাক। আমাদের শরীরে মেরুদণ্ড বরাবর এই সাতটি চক্র অবস্থিত। মেরুদণ্ডের গোড়া থেকে শুরু হয়ে মস্তিষ্ক পর্যন্ত রয়েছে এই সাত চক্র। আমাদের দেহের নিম্নাঙ্গে, তলপেটে, নাভিতে, হৃদয়ে, কণ্ঠে, দু চোখের মাঝে ও মাথার ওপরে আছে সাতটি চক্রের অবস্থান। চক্রগুলো হলো, মূলাধার চক্র, স্বাধিষ্ঠান চক্র, নাভিচক্র, হৃদচক্র, বিশুদ্ধ চক্র, আজ্ঞা চক্র ও সহস্রার চক্র। মূলাধার চক্র মূলাধার চক্র দেহের মেরুদন্ডের শেষ প্রান্তে বা নিম্নাংশে অবস্থিত। এটিকে কুণ্ডলিনী বলে। এই চক্রের চারটি দল। এর রঙ লাল। এটি আমাদের চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই চক্রটি চেতন থেকে অবচেতন পর্যন্ত বিস্তৃত। জন্ম, মৃত্যু, জরা, ব্যাধির নিয়ামক এই চক্র। কামশক্তির আধার এটি। এটিতে আছে অস্থিধাতুর শক্তি। এই চক্রে দিব্যশক্তি খেলা করলে কামনা বাড়ে, জন্ম হয়, মৃত্যু হয়, রোগ হয়। স্বাধিষ্ঠান চক্র স্বাধিষ্ঠান চক্র দেহের তলপেট বা অগ্নাশয় নিয়ে গঠিত। এই চক্রের ছয়টি দল। এর রঙ গাঢ় গোলাপি। এটি আমাদের লোভ, কামনা, বাসনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটিতে আছে মেদ ধাতুর শক্তি। এই চক্রে দিব্যশক্তির নৃত্যে কামনা বাসনা বাড়ে। লোভ বাড়ে। এছাড়া এই চক্রের কারণে বমি হয়, ডায়েরিয়া হয় ও ভয় কাজ করে। মনিপুর চক্র মণিপুর চক্র দেহের নাভি বা বৃক্কাশয় বা পাকস্থলির নীচের শিরাজাল নিয়ে গঠিত। এই চক্রের দশটি দল। এটির রঙ বেগুনি। এটি আমাদের উচ্চ চেতনা, জীবনীশক্তি, আবেগ, বাসনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটিতে আছে মাংসধাতুর শক্তি। তেজশক্তির আধার এটি। এ চক্রে দিব্যশক্তি মণিপুরি নৃত্য করে। দিব্যশক্তির উন্মাদ নাচের তালে দেহের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। পেটের পীড়া হয়। অনাহত চক্র হৃদচক্র আমাদের বুকের মাঝখানে অবস্থিত। এই চক্রের বারোটি দল। এর রঙ সোনালি-গোলাপি। এটি আমাদের আবেগ, রাগ-অনুরাগ, প্রেম, বিরহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটির অনেক গভীরে আত্মা থাকে। এটিতে আছে রক্ত ধাতুর শক্তি। এই চক্রে দিব্যশক্তির খেলায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। প্রেম-ভালোবাসা হয়। বিরহ আসে। বুক-পিঠ ব্যথা করে। হৃদরোগ হয়। বিশুদ্ধ চক্র বিশুদ্ধ চক্র আমাদের কণ্ঠে অবস্থিত। এই চক্রের ষোলটি দল। এর রঙ ধূসর। এটি আমাদের ভাবপূর্ণ মন ও বাইরের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই চক্র মানসিক শক্তি ও মনের সব ভাব প্রকাশ করে। এটিতে আছে স্নিগ্ধশক্তি। এই চক্রে শিশু খেলা করলে কথা বলার শক্তি আসে। গানের সুর আসে। সর্দি, কাশি, গলা-ঘাড় ব্যথা ও মন খারাপ হয়। আজ্ঞা চক্র আজ্ঞা চক্র আমাদের দুই ভুরুর মাঝে অবস্থিত। এই চক্রের দুটি দল। এর রঙ সাদা। এটি আমাদের গতিময় মন, ইচ্ছা, দিব্যদৃষ্টি, মানসিক গঠন ও মনের সব চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করে। এটিতে আছে মজ্জা ধাতুর শক্তি। এই চক্রে দিব্যশক্তির খেলায় মন কাজ করে। চিন্তাশক্তি আসে। ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা আসে। কবিতা, উপন্যাস লেখা-সহ সব সৃষ্টিশীল কাজ করার ক্ষমতা আসে। মাথা ঘোরায়। কখনও কখনও মাথা চিন্তাশূন্য হয়ে পড়ে। সহস্রার চক্র সহস্রার চক্র আমাদের মাথার ঠিক ওপরে অবস্থিত। এ চক্রের সহস্রটি দল। এটিতে নির্দিষ্ট কোনো রঙ নেই। এটি আমাদের উচ্চ চেতনা বা অধিচেতনা, অর্ন্তদৃষ্টি, বোধিসত্ব চেতনা, দিব্য চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটির তিনটি অংশ আছে : সচ্চিদানন্দ (সৎ, চিৎ, আনন্দ), নিচ থেকে উপরে আনন্দ অংশ, এর উপরে চিৎ (দর্পণ) অংশ এবং এরও উপরে সৎ (মহাশূন্যতারুপী অন্ধকার) অংশ। এই চক্রে দিব্যশক্তির খেলায় দিব্যজ্ঞান আসে। মানুষ জাগতিক ও মহাজাগতিক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কে জানতে পারে। মাথার তালু জ্বলে যায়।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3zCEojr
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads