শেল্টার ছেড়ে ঘরমুখো ওঁরা, ইয়াস তো কেটে গেছে! https://ift.tt/3vsic99 - MAS News bengali

শেল্টার ছেড়ে ঘরমুখো ওঁরা, ইয়াস তো কেটে গেছে! https://ift.tt/3vsic99

এই সময়: পেরিয়ে গেলেও দুর্যোগ এখনও কাটেনি। আজ, বৃহস্পতিবার ভরা কোটালের ফলে এখনও রয়ে যাচ্ছে বিপদের আশঙ্কা। তাই কলকাতায়, বিশেষ করে আদিগঙ্গার পাড়ের যে সব নিচু এলাকায় বস্তি, ফুটপাথ থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে তুলে আনা হয়েছিল, তাঁদের সেখানেই থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ইয়াসের ভয় কেটে গিয়েছে ধরে নিয়ে সেই ঘরছাড়ারা অনেকেই আর থাকতে চাইছেন না নিজেদের ঘরের বাইরে। তাই বুধবার বিকেলেই অনেকে আশ্রয়স্থল থেকে নিজেদের বাড়িতে চলে গিয়েছেন। স্থানীয় ওয়ার্ড বা বরো কো-অর্ডিনেটররা তাঁদের বুঝিয়ে-সুঝিয়েও রাখতে পারছেন না। ইয়াসের খুব প্রভাব না-পড়লেও, এদিন ভরা কোটালে জলমগ্ন হয়েছে চেতলা, ভবানীপুর , টালিগঞ্জের একাংশ। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'যাঁরা গঙ্গার ধারে বাস করেন, কোটালের সময় গঙ্গার জলে ওই সব এলাকার রাস্তাঘাট সবই প্লাবিত হয়ে যায়। আমি জানি। কারণ, আমার বাড়ি তো গঙ্গার ধারে। আমি ওখানেই মানুষ হয়েছি।' কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন মানুষকে সতর্ক করে থানাগুলিকে মাইকে প্রচার করার। তাঁর পরামর্শ, 'ভরা কোটালের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখুন। আমিও বাড়ির লোকদের অনুরোধ করেছি, ভরা কোটালের সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে। জল ও বিদ্যুৎ একাকার হয়ে অনেকে প্রাণ হারান।' দুর্গত মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, 'দুর্যোগগ্রস্ত এলাকাগুলি থেকে যে মানুষরা রিলিফ ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন, দয়া করে তাঁরা সেগুলিতে আরও দু'-একটা দিন না হয় কষ্ট করেই থাকুন। এখনই বাড়ি ফিরবেন না। আপনারা আমার কথা শুনেছেন বলে ঘূর্ণিঝড়ে তেমন কোনও বড় বিপদ হয়নি। এ বার কথা শুনুন।' যাঁদের জন্য এই মুখ্যমন্ত্রীর এই অনুরোধ, তাঁদের কেউ কেউ অবশ্য সে কথা ভাবছেন কই? 'কিছুই হয়নি, কিছুই হবে না' বলে বুধবার দুপুরে কলকাতা পুরসভার আশ্রয় শিবির থেকে ঘরে ফিরে গিয়েছেন অনেকেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই। এ দিকে কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগ এবং আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস জানাচ্ছে, বুধবার রাত ১টা ৪০ মিনিটে গঙ্গার জলস্তর বেড়ে হবে ৪.৯৪ মিটার অর্থাৎ ১৬.১৯ ফুট। এই কারণে লকগেটগুলি বন্ধ রাখা হবে বুধবার রাত ১১টা থেকে রাত তিনটে পর্যন্ত। আবার বৃহস্পতিবার দুপুর দু'টো নাগাদ গঙ্গার জলস্তর বেড়ে হওয়ার কথা ৫.৩৩ মিটার অর্থাৎ ১৭.৪৭ ফুট। এই কারণে আজ বৃহস্পতিবারও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত লকগেটগুলি বন্ধ থাকবে। ফলে কালীঘাট, ভবানীপুর, চেতলা, হরিদেবপুর-সহ আদিগঙ্গার বিস্তীর্ণ এলাকা বুধবারের মতো প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে আজও। ইয়াসের চোখরাঙানির পূর্বাভাসের পরেই মঙ্গলবার দুপুরে এই সব এলাকার বস্তি ও বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের এনে আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছিল। ভবানীপুরের এই রকম একটি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন ওই এলাকার একটি বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দা হরি শর্মা। তিনি বলেন, 'এখানে কোনও ঝড় হয়নি। তাই আজ দুপুরে বউ, বাচ্চা নিয়ে পুরসভার স্কুল থেকে বাড়ি চলে এসেছি।' কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তো আপনাদের আরও অন্তত একটা দিন আশ্রয় শিবিরে থাকতে বলেছেন! সদুত্তর নেই হরির কাছে। এই এলাকা কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরোর অন্তর্গত। বরো কো-অর্ডিনেটর রতন মালাকার বলেন, 'আমি নিজে গিয়ে ওঁদের কাছে হাত জোড় করে থেকে যাওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু ওরা অনেকে আশ্রয় শিবিরে থাকতে চাইলেন না।' আদিগঙ্গা সংলগ্ন হরিদেবপুরের একটি ক্লাবে পুরসভার আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল জনা ১৫ পরিবার। তাঁদেরই একজন নির্মল প্রামাণিক। তিনি বলেন, 'এখানে ঝড় কিছু হয়নি দেখে আজ আমরা বাড়ি ফিরে এসেছি। পরে কিছু হলে আবার যাব ক্লাবে।' ১১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর রত্না শূর বলেন, 'ওঁদের থাকার জন্য অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু ওঁরা কথা শুনতে চাইছেন না।'


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3oSko7n
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads