সুস্থ হতে হতে করোনা রোগী কেন ফের সঙ্কটে? https://ift.tt/3vgfsLW - MAS News bengali

সুস্থ হতে হতে করোনা রোগী কেন ফের সঙ্কটে? https://ift.tt/3vgfsLW

অনির্বাণ ঘোষ কেউ হয়তো থেকে দিব্যি সেরে উঠছিলেন। কেউ বা ক্রিটিক্যাল কেয়ার থেকে জেনারেল ওয়ার্ডে স্থানান্তরের অপেক্ষায়। কিংবা শীঘ্রই হাসপাতাল থেকে ছুটি পাবেন বলে কেউ হয়তো দিন গুনছেন। কিন্তু সহসা ছন্দপতন! সুস্থ হতে হতেও বেশ কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হঠাৎ জবাব দিয়ে দিচ্ছে তাঁদের ফুসফুস। ফলে, সেরে ওঠার দোরগোড়া থেকে আচমকা শুরু হচ্ছে যমে-মানুষে টানাটানি। চিকিৎসকরা বলছেন, কখনও কখনও স্টেরয়েডকে কাবু করে শরীরে এমন সাইটোকাইন ঝড় উঠছে যে, তার প্রাণঘাতী প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে। তার মধ্যে সব চেয়ে মারাত্মক হলো, ফুসফুসের বিকল হয়ে পড়া। এমন নজির বিক্ষিপ্ত ভাবে প্রায়ই এখন নজরে আসছে চিকিৎসকদের। এমন আচমকা শারীরিক অবনতির শিকার রোগীদের একটা বড় অংশই সোজা ভেন্টিলেশন চলে যাচ্ছেন। কাউকে বা একমো (শরীরের বাইরে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা) সাপোর্টও দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ, কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তো কেউ একেবারে আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের মধ্যে শতাংশের হিসেবে যদিও এমন নজির খুব নগণ্য। কিন্তু ইদানীং রোজ গড়ে যে ১৫০ জন করোনা-আক্রান্ত মারা যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে এমন রোগীর অনুপাত নেহাত কম নয়। তবে চিকিৎসকদের আশ্বাস- ৮৫-৯০ শতাংশ রোগী বাড়িতে এমনিই দিব্যি সুস্থ হয়ে ওঠেন একেবারে সাধারণ চিকিৎসায়। গোটা চিকিৎসায় তাঁদের হয়তো স্টেরয়েডের দরকারই পড়ে না। আইভারমেক্টিন, ডক্সিসাইক্লিন আর জিঙ্ক-ভিটামিনের যুগলবন্দিতেই তাঁরা সেরে ওঠেন। এবং তাঁদের সংখ্যাটা দেখা যাচ্ছে দৈনিক প্রায় ১৬-১৯ হাজার। আক্রান্তদের মধ্যে যে ১০ শতাংশ রোগীর অসুস্থতা বেশ গুরুতর, যাঁদের রক্তপরীক্ষায় দেখা যায় শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশনের সূচক বেশ খারাপ কিংবা রক্তবাহিকার মধ্যেই রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা, তাঁদের মধ্যে সামান্য কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, সুস্থ হয়ে উঠতে উঠতেও হয়তো ফের ঘোর অসুস্থ হয়ে পড়লেন তাঁরা। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ যোগীরাজ রায়ের হিসেবে, 'আজকাল যত মানুষ কোভিডে মারা যাচ্ছেন, তার মধ্যে ১০-১৫ শতাংশ এমনই ভালো হতে হতেও আচমকা সঙ্কটজনক হয়ে পড়া রোগী।' তিনি জানাচ্ছেন, যাঁকে মনে করা হচ্ছে, এক-দু'দিন পরেই ছুটি দেওয়া যাবে, সেই রোগী আচমকা এত খারাপ হয়ে যাচ্ছেন যে, প্রাণ সংশয় তৈরি হচ্ছে, অনেকের ক্ষেত্রে শেষরক্ষাও হচ্ছে না। যোগীরাজের কথায়, 'দ্বিতীয় ঢেউয়ে এমন রোগী প্রায়ই দেখছি। আগের বার, প্রথম ঢেউয়ের সময়ে আমরা রোগীদের সম্পর্কে রীতিমতো আগাম বলে দিতে পারতাম। কোন রোগী কত দিন পরে ছুটি পেতে পারেন, সেটা ভর্তির পর দু'-চার দিন কাটলেই আমরা বলে দিতে পারতাম। কিন্তু এ বার কিছুই বুঝতে পারছি না!' চিকিৎসক শুভ্রজ্যোতি ভৌমিকের বক্তব্য, '৮-১১ দিনের মাথাতেই বিপত্তিটা বেশি ঘটছে।' বিশেষজ্ঞদের অনুমান, কাউকে কাউকে হয়তো এত বেশি স্টেরয়েড দিয়ে ফেলা হচ্ছে যে, রোগীর ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে তলানিতে চলে যাওয়ায় পরের দিকে অন্য ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাক ঘটিত সংক্রমণ হচ্ছে। অনেকের আবার রক্তবাহিকার মধ্যেই হয়তো রক্ত জমে যাচ্ছে ওষুধ দেওয়ার পরেও। এবং সেই জমাট রক্তের টুকরো অনেক সময়ে গিয়ে আটকে যাচ্ছে ফুসফুসে। ফলে, রাতারাতি প্রাণসংশয় তৈরি হচ্ছে রোগীর। ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ বিশ্বাসের অনুমান, 'তথাকথিত সেরে ওঠার পরেও কিছু ভাইরাস হয় শরীরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকছে কিংবা শরীরের ইমিউনিটি ব্যবস্থার উপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। তার জেরেই পরের দিক বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।' ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ সুরেশ রামাসুব্বন বলেন, 'মুশকিল হচ্ছে, ভালো হতে হতেও একটা সময়ে বোঝা যাচ্ছে, স্টেরয়েড ব্যবহার করেও সাইটোকাইন ঝড় কিংবা রক্তবাহিকার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া পুরোটা থামানো যায়নি। ফলে যখন সেই বিপত্তিটা হচ্ছে, তখন স্টেরয়েডের ডোজ বাড়িয়েও লাভ হচ্ছে না।' সুরেশের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সেই সময়ে ওষুধে সাড়াই দিচ্ছেন না রোগী। ফলে, ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতা চলে গিয়ে ফাইব্রোসিস হয়ে যাচ্ছে। যার জেরে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের আদানপ্রদানটাই ফুসফুস সুষ্ঠু ভাবে করতে পারছে না। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে একমত আর এক ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ সৌরেন পাঁজাও। সৌরেনের বক্তব্য, 'কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, স্টেরয়েড যতদিন বেশি ডোজে চলছে, তত দিন কোনও সমস্যা থাকছে না। কিন্তু যখন তিনি সেরে উঠছেন বলে স্টেরয়েডের ডোজ কমানো হচ্ছে, ঠিক তখনই সাইটোকাইন ঝড়ে বেসামাল হয়ে পড়ছে শারীরিক অবস্থা। অনেকের আবার তখন রক্তবাহিকার মধ্যেই রক্ত জমাট বাঁধার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। হয়তো সেই জমাট রক্তের একচিলতে টুকরো ফুসফুসে গিয়ে আটকে যাচ্ছে, যার জেরে আচমকা ভয়াবহ শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে এবং প্রায় বিকল হয়ে পড়ছে শ্বাসযন্ত্র।' চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সাইটোকাইন ঝড়ের সামনে পড়ে ফুসফুসের পাশাপাশি অনেকের হৃদযন্ত্র কিংবা কিডনিও সাময়িক বিকল হয়। কিন্তু হার্ট বা কিডনির বৈকল্য সামলানোর অনেক চিকিৎসা জানা আছে বিজ্ঞানে। সেগুলো প্রয়োগ করে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। কিন্তু ফুসফুসের তেমন একটা চিকিৎসা এখনও মেডিক্যাল সায়েন্সের জানা নেই। ফলে, প্রথাগত চিকিৎসা করা এবং কখন ফুসফুস নিজেই সেই চিকিৎসায় সাড়া দেবে, সেই জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকে না।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3oH4NHL
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads