করোনার তৃতীয় ঢেউ কি জানুয়ারিতে? https://ift.tt/3f7yjDq - MAS News bengali

করোনার তৃতীয় ঢেউ কি জানুয়ারিতে? https://ift.tt/3f7yjDq

প্রীতমপ্রতীক বসুআগামী জুলাই নাগাদ দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ স্তিমিত হতে পারে বলে কেন্দ্রকে জানাল বিশেষজ্ঞ প্যানেল। তবে অতিমারীর নিয়ম মেনে তৃতীয় ঢেউ একপ্রকার অনিবার্যই। কেন্দ্রকে দেওয়া রিপোর্টে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, দ্বিতীয় ঢেউয়ের ছয় থেকে আট মাস পরে তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে। অন্তত অক্টোবরের আগে তৃতীয় ঢেউ আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তৃতীয় দফার সংক্রমণের এই সঙ্কেত যদি ভয়ের কারণ হয়, তা হলে ভরসাও রয়েছে বলে আশ্বস্ত করছেন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের সবথেকে বড় ভরসার কারণ, দুই ঢেউয়ের মাঝের এই ছয় থেকে আট মাসের সময়টা। এই সময়ে টিকাকরণ কর্মসূচি অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, এই ফাঁকে কোভিড-যুদ্ধের পরিকাঠামো আরও পোক্ত করে ফেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনও ঢিলে দেওয়া যাবে না। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁরা পইপই করে সতর্ক করছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝে জনতার একাংশের বেয়াক্কেলেপনার চরম খেসারত দিতে হয়েছে দেশকে। এ বার তেমনটা ঘটলে, কোভিড-যুদ্ধ কঠিনতর হয়ে উঠবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে বড়রা উদাসীন হলে, শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকিও একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের বক্তব্য, টিকা উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বুধবার দাবি করেছেন, এ বছরের শেষে ২৬৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে পারবে সরকার। এতে দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকা দেওয়ার জায়গায় চলে আসা যাবে বলে আশাবাদী কেন্দ্র। জুলাইয়ের মধ্যে ৫১ কোটি এবং অগস্ট ও ডিসেম্বরের মধ্যে ২১৬ কোটি ডোজের ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। করোনা সংক্রমণের প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও মাস চারেকের সময় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে নাগরিকদের একাংশ যে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছিলেন, তা একপ্রকার আত্মহত্যারই সামিল বলে আক্ষেপ চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। মাস্ক না-পরে, শারীরিক দূরত্ব এতটুকু না-মেনে দেদার বেরিয়ে পড়েছিলেন অনেকে। এবং তা সমাজের তথাকথিত 'নিরক্ষর' অংশ নয়, বহু শিক্ষিত মানুষও কোভিড-বিধি মানার এতটুকু প্রয়োজন বোধ করেননি। তাঁদের এই ইচ্ছাকৃত বেআক্কেলেপনার মাসুল গুনেই দেশে বেড়েছে সংক্রমণ। দ্বিতীয় কারণটি প্রশাসনিক। চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, প্রথম সংক্রমণ মোকাবিলায় যে পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা হয়েছিল, তা প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝের সময়ে অনেকটা আলগা করে দেওয়া হয়। ফলে দ্বিতীয় ঢেউ রাতারাতি সুনামির আকার নেওয়ার পরে প্রশাসনকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। বেড, অক্সিজেন বা কিছু ওষুধের যে আকাল এখন দেখা যাচ্ছে, তা সেই ঢিলে দেওয়ারই পরিণতি বলে মনে করছেন চিকিৎকদের অনেকে। অতএব, এই ধরনের ভুলগুলি এড়ানোর উপরেই সবথেকে বেশি জোর দিচ্ছেন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, আগেরবার হাতে টিকা ছিল না। এখন দেশে তিনটি টিকা এসে গিয়েছে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাসের বক্তব্য, 'হাতে টিকা রয়েছে। এটাই সবথেকে বড় হাতিয়ার। এই মাঝের সময়টায় টিকাকরণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। এই যে জানলা বা উইন্ডো পাওয়া যাবে, সেখানে খুব দ্রুত গড়ে তুলতে হবে অক্সিজেন প্লান্ট, বাড়িয়ে ফেলতে হবে কোভিড বেড। যে চিকিৎসকেরা সরাসরি করোনা-যুদ্ধে রয়েছেন, এই সময়টায় তাঁদের ভীষণ ভাবে কাজে লাগাতে হবে। ওষুধের জোগান নিয়ে যেতে হবে সর্বোচ্চ স্তরে। বেঁধে দিতে হবে রেমডিসিভিরের মতো ওষুধের দাম। আর এই সবগুলোই কিন্তু এই ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে করা সম্ভব।' টিকা যে ব্রহ্মাস্ত্রের সামিল, সে কথা বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দলুইও। তাঁর বক্তব্য, প্রথম ঢেউ কমার পরে অনেকেই ভেবেছিলেন করোনা-পর্ব বুঝি শেষ হলো। আর কাল হয়েছে সেটাই। তাঁর কথায়, 'আশা করা যাচ্ছে, জুলাই নাগাদ সংক্রামিতের সংখ্যাটা অনেকটা কমে যাবে। তখন কিন্তু বেলাগাম হলেই বিপদ। মাস্ক, স্যানিটাইজার আর দূরত্ব- এই তিনটেই হবে সেই ছয় থেকে আট মাসের মন্ত্র। আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বিদেশ থেকে যে সব বিমান আসছে, সেগুলির উপরে কড়া নজর রাখতে হবে। কেননা, কিছু দেশে তখন ফের সংক্রমণ মাথাচাড়া দিতেই পারে। অন্য কোনও রাজ্যে যদি সেই সময়ে সংক্রমণ তুলনায় বেশি থাকে, তা হলে সেখান থেকে আসা লোকজনের উপরে বাড়তি নজর দিতে হবে।' শুধু তা-ই নয়, একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে যাঁরা করোনার বিরুদ্ধে লড়ছেন, তাঁদের সকলের টিকাকরণ সম্পূর্ণ করে বুস্টার ডোজ লাগবে কি না, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার উপরে জোর দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের যুক্তি, ফ্রন্টলাইন যোদ্ধারাই কিন্তু ঘুরিয়ে একপ্রকার 'সুপারস্প্রেডার' হয়ে দাঁড়াতে পারেন। তাই তাঁদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা আগে জরুরি। তৃতীয় ঢেউয়ে ভাইরাসের মিউটেশন কেমন হয়, সে দিকেও নজর রয়েছে চিকিৎসকদের। মহামারী বিশেষজ্ঞ দীপিকা সুরের ব্যাখ্যা, 'তৃতীয় ঢেউয়ের সময়ে ভাইরাসটি কী চেহারা নেবে, তা এখনই বলা মুশকিল। টিকা নিতেই হবে। তবে যেহেতু ভাইরাসের মিউটেশন হয়, সেহেতু মৌলিক নিয়মগুলি পালন করে যেতে হবে অন্তত আগামী এক বছর। মিউটেশন হোক বা না হোক, মাস্ক-দূরত্ববিধি হবে সুস্থ থাকার হাতিয়ার।' শিশু-চিকিৎসক লোকেশ পাণ্ডের বক্তব্য, 'তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। তবে এই মাঝের সময়টা যদি বাড়ির বড়রা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, তা হলে শিশুদের তো ঝুঁকি বাড়বেই। তাই সেই সময়টায় অবশ্যই সর্বোচ্চ সাবধানতা মেনে চলুন সকলে।' প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝের সময়ে যে কিছু ভুল হয়েছে, সে ইঙ্গিত মিলেছে কেন্দ্র নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের অন্যতম সদস্য, আইআইটি হায়দরাবাদের অধ্যাপক মুথুকুমালি বিদ্যাসাগরের কথায়- 'খুব আশাবাদী হয়ে আমরা পূর্বাভাস দিয়েছিলাম, দ্বিতীয় ঢেউয়ে দৈনিক সংক্রমণ গড়ে দেড় লক্ষ মতো হবে। আমরা ভুল প্রমাণিত হয়েছি।' এই ভুলটাই আর হতে দিতে চান না চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় প্যানেলের আর এক সদস্য, আইআইটি কানপুরের অধ্যাপক মণীন্দ্র আগরওয়াল জোর দিচ্ছেন টিকাকরণে- 'অনেকেরই টিকা নেওয়া হয়ে গিয়েছে। আশা করা যায়, টিকাকরণের হার বাড়লে তৃতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ অনেকটাই কম দেখতে পাব।'


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3uaWLI6
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads