'আপদ বিদায়ে' উল্লসিত তৃণমূল https://ift.tt/387THUP - MAS News bengali

'আপদ বিদায়ে' উল্লসিত তৃণমূল https://ift.tt/387THUP

এই সময়, দুর্গাপুর ও আসানসোল: নেতাকে ঘিরে যোগ-বিয়োগের অঙ্কে সরগরম পাণ্ডবেশ্বর। বিজেপিতে যাওয়ায় রীতিমতো উল্লাস তৃণমূল শিবিরে। কারণ দলত্যাগী নেতাকে নিয়ে বিজেপির অন্দরে যে পরিমাণ ক্ষোভ জমেছে, তাতে লাভের অঙ্কই দেখছে তারা। কোথাও কোথাও মিষ্টি পর্যন্ত খাওয়ানো হচ্ছে। এ সবের মধ্যেই পাণ্ডবেশ্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি নরেন চক্রবর্তী বলেছেন, 'যে বিজেপি কর্মীরা তাঁকে (জিতেন্দ্র) পছন্দ করছেন না তাঁদের তৃণমূলে স্বাগত।' জিতেন্দ্রর দলত্যাগকে 'আপদ বিদায়'ও বলছেন তিনি। জিতেন্দ্র এ সব নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর আগমনে বিক্ষুব্ধ দলীয় কর্মীদের একাংশ বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেওয়াল লিখন শুরু করেছেন। মাসদুয়েকের নাটকে দাঁড়ি টেনে মঙ্গলবার দিলীপ ঘোষের হাত থেকে পতাকা নিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক তথা আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের প্রবল ক্ষোভ। অভিযোগ, তৃণমূলে থাকাকালীন তিনি ও তাঁর দলবল ব্যাপক দাদাগিরি, নির্যাতন চালিয়েছেন। এখন সেই নেতা দলে এলেও মেনে নেওয়া অসম্ভব। এই অসন্তোষ ধামাচাপা দিতে চেষ্টার কসুর করছেন না নেতারা। কিন্তু তাতে আর ফাটল ঢাকা পড়ছে কই! ক্ষোভ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক জায়গায় বিজেপি কর্মীরা দলের সমর্থনে দেওয়াল লিখন মুছে দিয়েছেন। সে জায়গায় বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ নিয়ে দৃশ্যতই বিড়ম্বনায় বিজেপি নেতৃত্ব। এই ফাঁক গলেই ঘুঁটি সাজাতে চাইছে তৃণমূল। অরিজিৎ চক্রবর্তী নামে এক বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী বলেন, 'বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আমরা প্রায় ১২০০ দেওয়াল মুছেছি। সেখানে বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার কথা লেখা হয়েছে। জিতেন্দ্র তিওয়ারি অনেক অত্যাচার করেছে। এখন সে বিজেপিতে এলেও আমরা মেনে নেব না।' এক নেতা বলেন, 'তৃণমূলে থাকাকালীন বিজেপি কর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার করেছেন জিতেন্দ্র। কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ থাকবেই। তবে তাঁদের বোঝাতে হবে।' পাণ্ডবেশ্বরের পাশাপাশি দুর্গাপুরেও ক্ষুব্ধ বহু বিজেপি কর্মী। কিন্তু এঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে সরাসরি ক্ষোভ জানাতে চাইছেন না। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তাঁর বাঁ হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। বেশ ক'টি স্টিচ পড়ে। এই ঘটনায় অভিযোগ ওঠে জিতেন্দ্র ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। সেই নেতা এখন বিজেপিতে। ক্ষতস্থানে সেলাইয়ের দাগ কি মিলিয়েছে? লক্ষ্মণের জবাব, 'জিতেন্দ্রকে দলে নেওয়াটা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত। উনি একজন বড় মাপের নেতা।' বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় দিনকয়েক আগেও জিতেন্দ্রর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। এখন তাঁর কথায়, 'বিজেপি গঙ্গাজল। তাতে শুদ্ধ হয়ে জিতেন্দ্র যোগ দিয়েছেন।' নেতৃত্ব স্থানীয়রা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও দলবদলু জিতেন্দ্রকে নিয়ে দলের অন্দরের চওড়া ফাটল চাপা নেই। তৃণমূল কোথাও মিষ্টি মুখ করাচ্ছে। আবার কোথাও তাঁর কুশপুতুল পোড়ানো হচ্ছে। ব্লক তৃণমূল সভাপতি নরেন চক্রবর্তীর কথায়, 'আমাদের আপদ বিদায় হয়েছে। তোদের (বিজেপির) ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছি। এ বার তোরা সামলা।' এ সব বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করেন জিতেন্দ্র। পরে তিনি বলেন, 'পাঁচ বছর বিধায়ক ছিলাম। তাই রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাই। তিনি একজন পণ্ডিত ও জ্ঞানী মানুষ। রাজ্যপাল আমাকে সৎভাবে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়েছেন।' তৃণমূলে থাকাকালীন অবশ্য একাধিক বার ধনখড়ের সমালোচনায় সরব হয়েছেন তিনি। টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2NWgSLg
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads