বয়স্কদের টিকাও আটকে গেল কো-উইন অ্যাপে https://ift.tt/380BEzW - MAS News bengali

বয়স্কদের টিকাও আটকে গেল কো-উইন অ্যাপে https://ift.tt/380BEzW

এই সময়: সাধারণের জন্য করোনা টিকাকরণেরও প্রথম দিনেই মুখ থুবড়ে পড়ল কো-উইন অ্যাপ। প্রবল উৎসাহ নিয়ে সোমবার টিকাকেন্দ্রে পৌঁছেও সিংহভাগ বয়স্ক ও কো-মর্বিডিটির শিকার ৪৫-৫৯ বছর বয়সি ব্যক্তিদের পাশাপাশি ভোটকর্মীদেরও আশাহত হয়ে ফিরতে হল টিকা না-নিয়েই। কো-উইনের পাশাপাশি ভ্যাকসিনের সিরিঞ্জও সমস্যার দোসর হওয়ায় প্রবল ভাবে ব্যাহত হল সোমবারের টিকাকরণ। যদিও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, সাধারণ মানুষ পোর্টাল আর অ্যাপের ফারাক না-বোঝাতেই যত সমস্যা! বাংলার পাশাপাশি সারা দেশেই এদিন কো-উইন বিভ্রাট চূড়ান্ত আকার ধারণ করায় বিকেলে 'ড্যামেজ কন্ট্রোল'-এ নামতে প্রায় বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। টুইট করে তারা জানায়, আমজনতার জন্য কো-উইন উন্মুক্ত হয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেটি কো-উইন পোর্টাল বা ওয়েবসাইট (.gov.in), কখনওই প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোর থেকে ডাউনলোড করা কো-উইন অ্যাপ নয়। অ্যাপটি শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য, কোনও ব্যক্তির ব্যবহারের জন্য নয়। পাশাপাশি নাম নথিভুক্ত করার জন্য রয়েছে আরোগ্য সেতু অ্যাপের কো-উইন বিভাগটিও। কিন্তু সাধারণ মানুষ ভুল বুঝে অধিকাংশই পোর্টালের বদলে অ্যাপ ব্যবহার করতে যাওয়াতেই বিপত্তি। ফলে আজ, মঙ্গলবার কো-উইন অ্যাপ ও পোর্টাল খোলা থাকবে নাকি ফের বুধবার থেকে খুলবে, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত বিভ্রান্তি কাটেনি। রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা অবশ্য এর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রককেই দুষছেন। তাঁদের বক্তব্য, পুরো বিষয়টা খোলসা করে সাধারণ মানুষকে আগে বোঝানো হলো না কেন? তা হলেই তো এ সমস্যা হতো না। যদিও তাঁরা মনে করছেন, গোড়ায় গলদটা মূলত রয়ে গেল সেই কো-উইনেই। জানুয়ারির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে তিন দিন ড্রাই রানের পরেও, ১৬ জানুয়ারি টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর বার বার হোঁচট খেয়েছে কো-উইন। টিকাকরণের পুরো পর্বেই আগাগোড়া ছিল কো-উইনের সেই ব্যর্থতা। স্বাস্থ্যকর্তারা বার বার বিরক্ত হয়ে বলেছেন, টিকাকরণ মসৃণ ভাবে না-হওয়ার নেপথ্যে পয়লা নম্বর কারণ এই কো-উইন বিপত্তি। ভুল-ত্রুটি শুধরে তাই বয়স্ক ও কো-মর্বিডদের জন্য সোমবার, ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকাকরণের জন্য কো-উইনের উন্নততর দ্বিতীয় ভার্সন তৈরি করেছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তার জন্য শনি ও রবিবার টিকাকরণ বন্ধ রেখে কো-উইনকে উন্নীত করা হয় আপগ্রেডেড ভার্সন কো-উইন ২-এ। কিন্তু ৩০ কোটি মানুষের নাম নথিভুক্তিকরণের ধাক্কা সইতে না-পেরে এদিন চালু হওয়ার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই ক্র্যাশ করে যায় অ্যাপ। যদিও ৩০ কোটির সিকিভাগও এদিন নাম তোলার চেষ্টা করেননি। কিন্তু তাতেই দুর্যোগ! দুপুর দেড়টা-দুটো পর্যন্ত টিকাকরণ চললেও তার পরেই মুখ থুবড়ে পড়ে অ্যাপ। সন্ধ্যার আগে ফের কো-উইন চালু না-হওয়ায় দুপুরের পর থেকে রাজ্যের কোথাও আর টিকাকরণই হয়নি এদিন। অথচ ১২৬টি টিকাকেন্দ্রের প্রতিটিতে ন্যূনতম ২০০ জন করে প্রাপককে টিকা দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে কোভিডযোদ্ধা ও ভোটকর্মী মিলিয়ে ১০০ জন, ৫০ জন দ্বিতীয় ডোজের প্রাপক এবং বাকি ৫০ জন প্রবীণ ও কো-মর্বিড ব্যক্তি। কিন্তু কো-উইন বিপত্তিতে তা আর হয়নি। বিকেলের দিকে শুধুমাত্র কিছু দ্বিতীয় ডোজ প্রাপক চিকিৎসাকর্মীকে অফলাইনে টিকা দেওয়া হয়। ফলে দিনের শেষে চিকিৎসাকর্মী, কোভিড যোদ্ধা, ভোটকর্মী, প্রবীণ মানুষ ও কো-মর্বিডিটির শিকার ব্যক্তি মিলিয়ে মাত্র ১৭,০৭৯ জনকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে এদিন। এত কম টিকাকরণ এ যাবৎ হয়নি বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। অথচ সকালে উৎসাহের অভাব ছিল না প্রবীণ নাগরিক কিংবা প্রৌঢ়ত্বে কো-মর্বিডিটির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে। কো-উইন বেলা ১২টা থেকে 'লাইভ' হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৯.৩০ নাগাদ ঘণ্টাখানেকের জন্য তা উন্মুক্ত হয় সাধারণের জন্য। এত দিন হাপিত্যেশ করে তাকিয়ে থাকা বয়স্কদের অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে নাম তুলিয়ে নেন কো-উইনে। কিন্তু তাঁদের সিংহভাগকেই হতাশ হতে হয়েছে। আমরি গোষ্ঠীর সিইও রূপক বরুয়ার অনুযোগ, এত দিন ভ্যাকসিনের সঙ্গে বিশেষ সিরিঞ্জও দেওয়া হত সরকার থেকে। সিরিঞ্জটি যেমন ৫ মিলি-র বেশি ভ্যাকসিন টানে না, তেমনই একবার ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর নিজে থেকেই লক হয়ে যায়। কিন্তু এদিন থেকে আর সিরিঞ্জ দেওয়া হচ্ছে না। মুশকিল হল, এই সিরিঞ্জ হাতেগোনা কয়েকটি সংস্থাই উৎপাদন করে যারা মূলত এখন সরকারকেই সরবরাহ করছে। ফলে বাজারে মিলছে না সিরিঞ্জ। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3q7s1FY
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads