কোভ্যাক্সিন টিকাকরণ হোঁচট খেল গোড়াতেই https://ift.tt/3rpmEmH - MAS News bengali

কোভ্যাক্সিন টিকাকরণ হোঁচট খেল গোড়াতেই https://ift.tt/3rpmEmH

এই সময়: ট্রায়াল শেষ হয়নি বলে করোনার দেশীয় টিকা কোভ্যাক্সিন নিয়ে সংশয়ের বাতাবরণ ছিলই স্বাস্থ্য মহলে। তাই চিকিৎসাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজ্যে কোভ্যাক্সিন টিকাকরণের প্রথম দিন বুধবারে শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যকর্তারা এই টিকা নিতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু দিনের শেষে দেখা গেল, খুব একটা লাভ হল না। কলকাতার তিনটি হাসপাতালে ২০ জন করে মোট ৬০ জনকে কোভ্যাক্সিন দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হলেও এ দিন দু'টি হাসপাতাল মিলিয়ে ৪৮ জন কোভ্যাক্সিন নেন। আর একটি হাসপাতালে খোলাই হয়নি কোভ্যাক্সিনের ভায়াল। উৎসাহের অভাবের পাশাপাশি কো-উইন পোর্টালের সমস্যার ফলেও অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও খুব একটা আশাব্যঞ্জক গেল না কোভ্যাক্সিনের প্রথম দিনটা। পোর্টাল সমস্যায় কোভিশিল্ড টিকাকরণের হারও এ দিন হোঁচট খেতে খেতে শেষে ৩৪ শতাংশে আটকেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী। তিনি জানান, কোভ্যাক্সিন প্রাপকদের কারও মধ্যেই ন্যূনতম পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এ দিনই ফের হায়দরাবাদ থেকে কোভ্যাক্সিনের ১৬,৪৭২টি ভায়াল (৩,২৯,৪৪০টি ডোজ) কলকাতায় পৌঁছেছে। সেগুলি বাগবাজারের সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোরে মজুত করা হয়েছে। কোভিশিল্ডের মতো গণহারে নয়, কোভ্যাক্সিন টিকাকরণ কেন্দ্রীয় অনুমতি পেয়েছে ট্রায়াল মোডে। তাই এই টিকা নেওয়ার আগে সম্মতিপত্রে প্রাপককে সই করতে হয়। বুধবার থেকে কোভিশিল্ডের পাশাপাশি কোভ্যাক্সিন দেওয়ার কথা থাকলেও সম্ভবত এই সব কারণেই এ টিকা নিয়ে খুব উৎসাহ দেখা যায়নি আগাগোড়া। সমস্যার কথা আঁচ করে বুধবার সকালে এসএসকেএমে সবার আগে কোভ্যাক্সিন নেন রাজ্যের তিন স্বাস্থ্যকর্তা। প্রথমে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য মিশনের পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিশন অধিকর্তা সৌমিত্র মোহন এবং তার পরে স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য ও রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য মিশনের প্রোগ্রাম অফিসার স্মিতা সান্যাল শুক্লা কোভ্যাক্সিন নেন। সবাইকে উৎসাহ দিতে আরজি করে কোভ্যাক্সিন নেন সেখানকার মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক জ্যোতির্ময় পাল ও ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের বিখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রিনা ঘোষ। কিন্তু দিনের শেষে দেখা গেল, এসএসকেএমে মোট ১৩ জন এবং আরজি করে মোট ৩৫ জন কোভ্যাক্সিন নিয়েছেন। যেহেতু ২০ ডোজের কোভ্যাক্সিন ভায়াল এক বার খুললে তা চার ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করে ফেলতে হয়, তাই দুই হাসপাতালে ১২টি ডোজ কার্যত নষ্ট হয়েছে। অন্য দিকে মেডিক্যালের উপাধ্যক্ষ তথা সুপার ইন্দ্রনীল বিশ্বাস জানান, এ দিন সব মিলিয়ে ছ'জন কোভ্যাক্সিন নিতে আগ্রহী হলেও ১৪টি ডোজ নষ্ট হওয়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত খোলাই হয়নি ভায়াল। তবে আগ্রহীদের নাম নথিভুক্ত করা আছে। তাঁরা সবাই পরের দিন টিকাটি পাবেন। পাশাপাশি কোভ্যাক্সিনের সুরক্ষা ও কার্যকারিতা সংক্রান্ত দিকগুলির কথাও চিকিৎসাকর্মীদের বোঝানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্যভবনের তরফে অবশ্য উৎসাহের অভাবের কথা সরকারি ভাবে স্বীকার করা হয়নি। বরং দাবি করা হয়েছে, কো-উইন পোর্টালের মন্থর গতি ও খামখেয়ালিপনার জন্য শুধুমাত্র কোভ্যাক্সিনই নয়, সার্বিক ভাবেই এ দিন টিকাকরণের প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিকর্তা জানান, ৩৫০টি ভ্যাকসিনেশন সাইটে ৩৫ হাজার চিকিৎসাকর্মীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও মাত্র ১২,৭২৫ জনকেই টিকা (কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন মিলিয়ে) দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ৭০-৮০% সম্ভাব্য প্রাপকের কাছে শেষ পর্যন্ত টিকা নেওয়ার এসএমএস-টাই পৌঁছয়নি। এর মধ্যে ৪০-৪৫ জন সম্ভাব্য কোভ্যাক্সিন প্রাপকের নাম খুঁজেই পাওয়া যায়নি পোর্টালে। ফলে আইএমএ-র অনেক বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং বিভিন্ন শাখার পিজিটি কোভ্যাক্সিন নিতে আগ্রহী থাকলেও শেষ পর্যন্ত টিকা দেওয়া যায়নি তাঁদের। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট ।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3oHVLIF
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads