Bangla News: বেঙ্গলি খবর
Breaking News In Bengali
Latest News in Bengali
সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3tr7U8n
'ভারতের একতায় ভাঙন ধরানো যাবে না', রিহানাদের জবাব দিতে আসরে শাহ-সচিনরা https://ift.tt/3aBhyNr
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: কেটে দেওয়া হয়েছে জলের লাইন, রাস্তা কেটে বানানো হয়েছে পরিখা, চারপাশের অস্থায়ী পাঁচিল, কাঁটাতারের বিভাজনে দিল্লি সীমানা যেন ভারত-পাক সীমান্তের বর্ডার পোস্ট! গত ক’দিন ধরে এটাই সিংঘু, গাজিপুর, টিকরির বাস্তব চিত্র। কিন্তু কোনও গণতান্ত্রিক দেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কি এমন ব্যবহার করা যায়? পরোক্ষে এই প্রশ্নটা তুলেই ভারতীয় কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন পপস্টার , সুইডিশ পরিবেশ রক্ষাকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের মতো সেলিব্রিটিরা। আর তাঁদের সেই এক লাইন টুইট-ই দিল্লি সীমানার কৃষক-বিক্ষোভকে পৌঁছে দিল আন্তর্জাতিক স্তরে! সামান্য কয়েকটা টুইটের অভিঘাত এমনই, তড়িঘড়ি ময়দানে নামতে হল ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে। খুব কড়া ভাষায় বিবৃতি দিয়ে বোঝানো হলো, সেলিব্রিটি বা অন্যদের এই ধরনের টুইট যথাযথ ও দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন নয়। তাঁরা পুরোটা না জেনে এমন টুইট করছেন। শুধু বিবৃতিতেই না থেমে রেহানাদের ‘#FarmersProtest’-এর জবাবে ‘#IndiaTogether, #IndiaAgainstPropaganda’ প্রচারে নামলেন , বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর-সহ নরেন্দ্র মোদীর পুরো ব্রিগেড। যাঁদের বার্তা, ভারতের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই প্রচার কখনও সফল হবে না। তাতে সুর মিলিয়ে টুইট করলেন ক্রিকেটের লিটল মাস্টার সচিন তেন্ডুলকরও। যাঁর বক্তব্য, ‘ভারতের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনও আপস চলতে পারে না। বাইরের শক্তি দর্শক হতে পারে কিন্তু অংশগ্রহণকারী নয়।’ কৃষকরা দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করে ক্রিকেটার বিরাট কোহলিও টুইট করেন, ‘এই মতভেদের মুহূর্তে এক থাকা প্রয়োজন।’ এই সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ভারতের রয়েছে বলে টুইট করেন লতা মঙ্গেশকরও। কিন্তু যে ‘বাইরের শক্তি’র বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার’-এর অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেই সেলিব্রিটিরা কিন্তু প্রত্যেকেই সিংঘু, গাজিপুর, টিকরি সীমানার আসল ছবি তুলে ধরেই কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। দিল্লি সীমানায় ইন্টারনেট বন্ধের ছবি ও খবর পোস্ট করে রিহানার প্রশ্ন ছিল, ‘আমরা কেন এটা নিয়ে কথা বলছি না?! #FarmersProtest’। সেই একই খবর পোস্ট করে কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দেন গ্রেটা। রিহানার টুইট রি-টুইট করে কৃষকদের হয়ে সুর চড়ান ব্রিটিশ সাংসদ ক্লডিয়া ওয়েবে থেকে শুরু করে গায়ক জ্যাজি বি। লেবানিজ-মার্কিন মডেল মিয়া খালিফার টুইটেও কৃষক বিক্ষোভের ছবি টুইট করে সমর্থনের বার্তা। কমলা হ্যারিসের আত্মীয়া মীনা হ্যারিস আবার টেনে আনেন ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প-সমর্থকদের তাণ্ডবের প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, ‘বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র ক’দিন আগেই আক্রমণের মুখে পড়েছিল, আর এখন বিশ্বের জনপ্রিয়তম গণতন্ত্র হেনস্থার শিকার। যে ভাবে বিক্ষোভকারী কৃষকদের উপর আধাসামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে, ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে, সম্মিলিতভাবে তার প্রতিবাদ প্রয়োজন।’ আন্তর্জাতিক স্তর থেকে কৃষক-সমর্থনের বন্যা আসতেই আর দেরি করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশ মন্ত্রক তড়িঘড়ি টুইট করে, ‘এই প্রতিবাদকে ভারতের গণতান্ত্রিক চরিত্র হিসেবে দেখা উচিত। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি সংগঠন মিলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টাটাও সামনে আসা উচিত। এ ধরনের ব্যাপারে তড়িঘড়ি মন্তব্য করার আগে সত্যিটা সঠিক ভাবে বোঝার আবেদন জানাচ্ছি। তারকা এবং অন্যদের স্পর্শকাতর হ্যাশট্যাগের ব্যবহার এবং মন্তব্য মোটেই যথাযথ ও দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন নয়।’ বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, সরকার সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের পথেই আইন এনেছে। ভারতের খুব কম সংখ্যক চাষিই এই সংস্কারমূলক আইনের বিরোধী। সরকার কৃষকদের ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছে। তার পরও কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এই বিক্ষোভকে হাতিয়ার করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চাইছে, যা কাম্য নয়। সরকারের দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগঠিত করতে চাইছে, আর সেই কারণেই বিশ্বের নানা প্রান্তে ভাঙা হচ্ছে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি! দিল্লির পুলিশ কমিশনার প্রশ্ন তুলেছেন, ২৬ জানুয়ারি যখন পুলিশ আহত হলো, তখন কোথায় ছিলেন এই আন্তর্জাতিক সমর্থকরা? এতেই থেমে থাকেনি বিষয়টি। এর পরই #IndiaAgainstPropaganda হ্যাশট্যাগ নিয়ে মাঠে নামেন অমিত শাহ, জয়শঙ্কররা। শাহের বক্তব্য, ‘কোনও স্বার্থন্বেষী প্রচার ভারতের একতায় ভাঙন ধরাতে পারবে না।’ জয়শঙ্কর, নির্মলা সীতারামন, প্রকাশ জাভড়করদের গলাতেও একই সুর। ‘অর্ধসত্য’ জেনে আন্তর্জাতিক তারকারা টুইট করছেন বলে সোচ্চার হন অক্ষয় কুমার, করণ জোহর, কঙ্গনা রনৌত, অজয় দেবগণের মতো সেলিব্রিটিরাও। উল্টোদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, ‘কৃষকদের উপর সরকারি জুলুমে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিজেপি-আরএসএস দুর্বলদের উপর শক্তিপ্রয়োগ করছে।’ আরও পড়ুন: কিন্তু যা নিয়ে টুইটারে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ চলছে, সেই বিক্ষোভস্থলের পরিস্থিতির কথা কিন্তু অস্বীকার করতে পারছে না সরকার পক্ষও। শুধু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকের দাবি, দিল্লি সীমানায় আর ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হচ্ছে না। আর কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের সাফাই, বিক্ষোভস্থলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেই ব্যারিকেড তৈরি ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে, এটা একেবারেই স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। কিন্তু কৃষকদের সঙ্গে ঘরোয়া কোনও আলোচনাতে সরকার যাবে না, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। আর কৃষক নেতারা কী বলছেন? এ দিন কান্দেলা গ্রামে ‘মহাপঞ্চায়েত’-এর আয়োজন করেছিলেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত। সেখানে তাঁর কটাক্ষ, ‘এতদিন তো আমরা শুধু বিল ওয়াপসির কথা বলেছি। যুবসমাজ যখন গদি-ওয়াপসি (ক্ষমতা ফেরত) চাইবে, তখন সরকারপক্ষ কী বলবে?’ কৃষি আইন বিলোপ, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা, আটক কৃষকদের মুক্তি-সহ পাঁচ দফা দাবি পেশ করে এ দিন মহাপঞ্চায়েত থেকে কৃষকদের ডাক, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলুন। কিন্তু সরকার পক্ষ কি সে দাবি মানবে? এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। ।
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3tr7U8n
Previous article
Next article

Leave Comments
Post a Comment