বিহারে শুরু দ্বিতীয় দফার ভোট, 'গণতন্ত্রের উত্‍‌সবকে সফল' করার ডাক মোদীর https://ift.tt/3esDkEA - MAS News bengali

বিহারে শুরু দ্বিতীয় দফার ভোট, 'গণতন্ত্রের উত্‍‌সবকে সফল' করার ডাক মোদীর https://ift.tt/3esDkEA

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। কোভিড নিয়ম মেনে চলছে ভোটগ্রহণ। মানুষকে ভোটদানের আহ্বান জানিয়ে 'গণতন্ত্রের উত্‍‌সবকে আরও শক্তিশালী' করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার সকালে ট্যুইট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, 'ভারতের বিভিন্ন জায়গায় আজ উপ-নির্বাচন চলছে। এই আসনগুলির যাঁরা ভোটার, তাঁদের কাছে আর্জি জানাব, অধিক সংখ্যায় ভোটদান করুন এবং গণতন্ত্রের উত্‍‌সবকে শক্তিশালী করে তুলুন।' বিহারে বিধানসভা নির্বাচন ছাড়াও এ দিন উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, ছত্তিসগঢ়, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক, নাগাল্যান্ড, ওডিশা ও তেলেঙ্গানায় উপ-নির্বাচন রয়েছে। আর একটি ট্যুইটে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, 'আজ বিহারে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। সব ভোটারকে অধিক সংখ্য়ায় ভোটদান করে এই গণতন্ত্রের উত্‍‌সবকে সফল করার আর্জি জানাচ্ছি। সমাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি মনে রাখবে এবং মাস্ক পরবেন।' এ দিন সকাল সকাল ভোট দিয়েছেন বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদী, রাজ্যপাল ফাগু চৌহান। ভোট দিয়েছেন এলজেপি প্রধান চিরাগ পাসোয়ান। নীতীশমুক্ত বিহার গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রচারে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নীতীশ কুমার। আম আদমির ভোটদানে কি সেই চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন ঘটবে? বিহারে নীতীশকে সরিয়ে কুর্সি কি দখল করতে পারবেন তেজস্বী যাদব? নাকি নরেন্দ্র মোদীর কাঁধে চেপে মুখ্যমন্ত্রীর গদি দখলে রেখে দেবেন নীতীশই? পড়শি রাজ্যে বিধানসভার তিন দফার ভোটের আজকের দ্বিতীয় দফাতেই এ সব প্রশ্নের জবাব ইভিএম-বন্দি হয়ে যাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আজ যে ৯৪টি আসনে ভোট, তার একটি--রাঘোপুরে প্রার্থী রাষ্ট্রীয় জনতা দল-সহ বিরোধী মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী-পদপ্রার্থী তেজস্বী নিজে। অদূরে সমস্তিপুরের হাসানপুরে প্রার্থী লালুপ্রসাদ-রাবড়ি দেবীর বড় ছেলে তেজপ্রতাপ। লালু-রাবড়ির দুই উত্তরসূরির রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের পাশাপাশি ৯৪ আসনেই জোর টক্করের সম্ভাবনা। মধ্য বিহারের এই আসনগুলিই গত বিধানসভায় নির্ণায়ক হয়েছিল। সে বার আরজেডি এবং জেডি (ইউ) জোট মিলে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দখল করেছিল। ৪২টিতে লড়ে ৩৩টিতে জিতেছিল আরজেডি। আর ৪১ আসনে লড়ে নীতীশের পার্টি পায় ৩০টি আসন। ২০১৫-র সেই ভোটে এই জোটের কাছে দাঁড়াতে পারেননি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা। ৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ৬৩টিতে লড়ে জিতেছিল মোটে ২২টিতে। এ বারও এই আসনগুলিতে প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক ছিল যুযুধান দুই শিবিরই। বিজেপি এবং জেডি (ইউ) এ দফায় জোটে যথাক্রমে ৪৬ এবং ৪৩টি আসনে লড়ছে। অন্য দিকে আরজেডি ৫৬টিতে, বাকিগুলিতে কংগ্রেস ও বামেরা। একদা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবাধীন এই এলাকায় গতবার একটি আসন পেয়েছিল সিপিআইএম-এল (লিবারেশন)। কংগ্রেস জিতেছিল ৭টি আসনে। এ বার কংগ্রেস, লিবারেশন-সহ তিন বাম দল আরজেডির নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধনের শরিক। তাই গত ভোটের নিরিখে আজকের ৯৪ আসনের মধ্যে ৪১টিতে এগিয়ে মহাজোট। গত নির্বাচনের এক বছরের মাথায় আরজেডির সঙ্গ ত্যাগ করা নীতীশ এ বার বিজেপির হাত ধরায় অঙ্কের হিসাবে ৫২টিতে এগিয়ে জেডি (ইউ)-বিজেপি জোট। কিন্তু বিহারি রাজনীতির পাটিগণিত যে এত সহজ নয়, ভালোই জানেন টানা তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ এবং রাজ্য বিজেপি নেতারাও। তাই ভোট-রাজনীতির অঙ্ক মেলাতে এই দফায় প্রচারে এসে সত্তরোর্ধ প্রধানমন্ত্রী হাঁটুর বয়সি সদ্য তিরিশ পেরোনো তেজস্বীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি। জাত সমীকরণের অঙ্কেও সুবিধাজনক অবস্থায় বিরোধী শিবিরই। লালুপ্রসাদের গড়ে তোলা এম-ওয়াই অর্থাৎ মুসলিম-যাদব ভোট এই দফায় মস্ত ফ্যাক্টর। যে ভোটের সুবিধা গত বার পেয়েছিল নীতীশের দল, এ বার তা হবে না। আরও একটি কারণেও এই দফার ভোট তাৎপর্যপূর্ণ। ৯৪ আসনের হিসাবে বিজেপি যেমন জেডি (ইউ)-র থেকে বেশি আসনে লড়ছে, তেমনই সামগ্রিক ভাবে বিহারে এনডিএ জোটের প্রধান মুখও হতে চাইছে তারাই। নরেন্দ্র মোদীর বিহার ভোটে ঝাঁপিয়ে পড়ার পিছনে জোট সরকার রক্ষার সঙ্গে রয়েছে নিজের দলকে জেডি (ইউ)-র থেকে এগিয়ে রাখার অঙ্কও। বিজেপি-জেডি (ইউ) সম্পর্কের রসায়ন অতীতে বারে বারে ধাক্কা খেয়েছে নীতীশেরই মোদী বিরোধিতার কারণে। তবে সেই মোদী ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী, যাঁর গায়ে লেপ্টে ছিল গণহত্যার কলঙ্ক। কিন্তু দু'দুবার দল ও এনডিএ-কে দিল্লির মসনদে আসীন করার কৃতিত্ব যাঁর, সেই নরেন্দ্র মোদীকে অস্বীকারের মতো শক্ত মাটি আর নেই নীতীশের পায়ের তলায়। গদি দখলে রাখতে বরং মোদীরই শরণে আজ নীতীশ। এনডিএ ক্ষমতা দখলে রাখতে পারলে এবং বিজেপি পরিকল্পনা মতো জেডি (ইউ)-র থেকে বেশি আসন পেলে পাশা বদলে যেতেও পারে। চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি-সহ ছোট দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি নীতীশকে হটিয়েও দিতে পারে বলে জল্পনা চলছে। তেমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে আপাতত গদি বাঁচিয়ে ভোটের পর বিজেপির সঙ্গ ত্যাগের ভাবনা নীতীশ শিবিরও চলছে। নীতীশ জানেন, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে ফের তাঁর পাশে দাঁড়াতে হাত গুটিয়ে থাকতে পারবে না লালুপ্রসাদ, সনিয়া গান্ধীদের দল। রাজনীতিতে চিরশক্র, স্থায়ী মিত্র বলে কিছু হয় না। সব অঙ্কেই আজকের ভোট আবারও নির্ণায়ক হতেই চলেছে। নীতীশ কুমার, সুশীল মোদীদের মতো এনডিএ'র প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে তেজস্বীর মতো তরুণদের লড়াইয়ের পরিণতিও অনেকটা নির্মিত হয়ে যাবে আজকের ভোটেই। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। ।


from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2JxmXer
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads