২ মাস ধরে একমো সাপোর্টে কোভিড রোগী, প্রতিদিন খরচ দেড় লাখ https://ift.tt/3lJeWUJ - MAS News bengali

২ মাস ধরে একমো সাপোর্টে কোভিড রোগী, প্রতিদিন খরচ দেড় লাখ https://ift.tt/3lJeWUJ

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: কোভিড হয়ত কেবলমাত্র মানুষের জীবনই কেড়ে নেয়নি, আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে দিয়েছে একাধিক পরিবারকে। তেমনই এক উদাহরণ কলকাতার সিংহ পরিবার। ৩০ বছর বয়সী করোনা আক্রান্ত জিৎপাল সিংহের চিকিৎসার খরচ () জোগাতে সর্বসান্ত এই পরিবার। প্রায় দু'মাস ধরে একমো সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। লাইফ সাপোর্ট এই মেশিন বাবদ প্রতিদিন হাসপাতালের খরচ দেড় লাখ টাকা। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সম্ভবত আরও এক মাস এভাবেই রাখতে হবে রোগীকে। কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছেন জিৎপালের মা আল্পনা সিংহ। তিনি জানাচ্ছেন, গলার মধ্যে দিয়ে একাধিক নল ঢোকানো হয়েছে জিৎপালের শরীরে। সেই অবস্থাতেই ভিকট্রি সাইন দেখিয়ে মাকে জিৎপাল লড়াইয়ের সাহস জোগায়। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তাঁর ছবি তুলে নেওয়ার জন্য ইঙ্গিত দেয় মাকে। যদি না আর ফিরে আসতে পারে। জীবনযুদ্ধে জেতার আশাই যেন ছেড়ে দিয়েছে সিংহ পরিবার। প্রতিদিনই আকারে ইঙ্গিতে জিৎপাল মায়ের কাছে জানতে চান, কবে বাড়ি ফিরবেন তিনি? উত্তরে অবশ্য ছেলেকে আশ্বাস দেওয়া ছাড়া আর কোনও শব্দ থাকে না মা আল্পনা সিংহের কাছে। আর্থিক ও মানসিকভাবে জর্জরিত সিংহ পরিবারের কর্তা অর্থাৎ জিৎপালের বাবা বর্তমানে একটি আশ্রমে রয়েছেন। ছেলের অবস্থা মানিয়ে নিতে না পেরেই চলে গিয়েছেন তিনি। ছেলের চিকিৎসার জন্য এখনও আরও ৪০ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন আল্পনা সিংহ। দিল্লি থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টায় দিনরাত এক করে দিচ্ছেন জিৎপালের তুতোভাই দেবাঞ্জন বর্মন। পাবলিক ফান্ড রেসিংয়ের মাধ্যমে দেবাঞ্জন ও তাঁর বন্ধুরা এই বিপুল চিকিৎসার খরচ জোগাড় করছেন। মেধাবী ছাত্র জিৎপাল দেরাদুন, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করেছেন। ফলে তাঁর বন্ধুর সংখ্যাও অগুন্তি। তাঁদের কাছ থেকেও চাঁদা তোলার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা ডোনেশন বাবদ মিলেছে। তবে মেডিক্যাল ইনসিউরেন্স, ফান্ড রেসিং, পারিবারিক জমানো অর্থ মিলিয়ে যতটা সংগ্রহ হয়েছে তা বড়জোর আর ১০ দিন চলবে। এমনটাই জানাচ্ছে সিংহ পরিবার। মেদিনীপুরের বাসিন্দা সিংহ পরিবার ছেলের চিকিৎসার জন্য গত দু'মাস ধরে কলকাতাতেই আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছে। সিংহ পরিবার কেবল একাই নয়, কোভিড এভাবেই ওলোটপালট করে দিয়েছে একাধিক পরিবারকে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে জুতোর শুকতলা খইয়ে ফেলেছেন পরিবারের মানুষগুলি। জমানো পুঁজির শেষ বিন্দু পর্যন্ত ঢেলে দিয়েছেন পরিজনকে বাঁচিয়ে তুলতে। আত্মীয়-বন্ধুরাও তাঁদের মতো করে সাহায্য করে ফেলেছেন। জিৎপালের এক বন্ধুর কথায়, 'NGO-র মাধ্যমেও আমরা বেশ কিছু অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। এর চেয়ে বেশি হয়ত সম্ভব নয়। বাকিটা জিৎপালের মনের জোরের উপরই। জিৎপাল যে লড়াইটা লড়ছে, আমরাও তাঁর সঙ্গে লড়ে যাব শেষ পর্যন্ত।'


from Bengali News: বাংলা সংবাদ, বাংলার আজকের খবর, Latest Bangla News, Breaking Bengali News, Latest Bengali News | Eisamay https://ift.tt/3lJgnCA
Previous article
Next article

Leave Comments

Post a Comment

ads

Articles Ads 1

ads

Advertisement Ads